টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আরো ৯শ সিসিটিভি ক্যামেরা বসছে বন্দরে

চট্টগ্রাম, ০৩ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::নিরাপত্তা নিয়ে বার বার প্রশ্ন ওঠায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরে আট থেকে নয়শ ক্যামেরা স্থাপনের প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু হবে।

জানা গেছে, জুম করে দূরের ছবি কাছে নিয়ে আসা ছাড়াও রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারের মাঝেও যাতে ক্যামেরা কাজ করে সেজন্য শক্তিশালী নাইট ভিশন ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বুয়েট ইতিমধ্যে পুরো প্রকল্পটির উপর সমীক্ষা চালিয়ে রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড, নদী কিংবা চ্যানেল বা কন্টেনার ইয়ার্ডের দশ কিলোমিটার দূরে কি ঘটছে তা দেখা যাবে কন্ট্রোল রুম থেকে। বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক তাৎক্ষণিকভাবে প্রদান করতে পারবেন প্রয়োজনীয় নির্দেশনা।

চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার অংশ হিসেবে ২০০৭ সালে ১২৮টি সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছিল। ওই ক্যামেরাগুলো যেসব স্থানে রয়েছে সেখানে কোন ধরনের ক্রাইম ঘটে না। বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্তভাবে দু’চারটি ঘটনা ঘটলেও তা অত্যন্ত সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

আইএসপিএস কোড অনুযায়ী বন্দরের নিরাপত্তা বিশ্বমানে উন্নীত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই অবস্থায় বন্দরের পুরো সংরক্ষিত এলাকাকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ক্যামেরা স্থাপনের সার্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সমীক্ষা করানো হয়। ইতোমধ্যে বুয়েট তাদের সমীক্ষা রিপোর্ট প্রদান করেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক বেশ কিছু প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করে রেখেছে। এতে বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় বিদ্যমান ক্যামেরার বাইরে আরো অন্তত আট থেকে নয়শ’ ক্যামেরা স্থাপন করার কথা বলা হয়েছে।

ক্যামেরা স্থাপনের ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উন্নতমানের ক্যামেরা স্থাপনে আগ্রহী। বন্দরের কন্টেনার ইয়ার্ড, বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার কার্গো ইয়ার্ড, কার শেড, জেটি, চ্যানেল, নদীসহ সবকিছুকে ঘিরে একটি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (নিরাপত্তা) লেঃ কর্নেল. আবদুল গাফফার বলেন, ‘আমরা পুরো বন্দর এলাকায় ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পের কাজ শুরু করেছি। বুয়েটের মাধ্যমে সমীক্ষা চালানোর পর বিষয়টি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি আমরা। ইতিমধ্যে বেশ কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এখনো বেশ কিছু ধাপ বাকি রয়েছে। অনেক বড় একটি প্রকল্প।’

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে আট থেকে নয়শ’ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হতে পারে। পুরো বন্দরকে ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমাদের এই প্রকল্প। প্রকল্পটি বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

বন্দরের সদস্য (প্ল্যানিং অ্যান্ড এডমিন) মোহাম্মদ জাফর আলম বলেন, ‘আমরা ক্যামেরা স্থাপনের উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমরা শুধু বন্দরের সংরক্ষিত এলাকা বা ইয়ার্ডই নয়, প্রয়োজনে যাতে আমরা দশ কিলোমিটার দূরের ছবিও পেতে পারি সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

মতামত