টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

টেকনাফে দুই ব্যবসায়ীকে আটক: সড়ক অবরোধ, পুলিশের গুলিবর্ষণ

আমান উল্লাহ আমান
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ০২ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: কক্সবাজারের টেকনাফে খারাংখালী বাজারের দীর্ঘদিনের দুই প্রতিষ্ঠিত দোকান ব্যবসায়ীকে আটক করার প্রতিবাদে প্রধান সড়ক অবরোধ করেছে জনতা। বাজার কমিটি ও এলাকাবাসী মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে, সড়কে গাছ কেটে ও বিদ্যুঁতের খুঁটি দ্বারা ব্যরিকেড সৃষ্টি করে সড়ক অবোরোধ করা হয়েছে। এসময় দীর্ঘ দুই ঘন্টা যান চলাচল বন্ধে চরম দূর্ভোগে পড়ে উভয় দিকের যাত্রীরা।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ২ মে মঙ্গলবার ভোর ৩ টায় টেকনাফ থানার একদল পুলিশ খারাংখালী এলাকার ঠান্ডা মিয়ার ছেলে আবুল কাশেম ও আব্দু সালাম প্রকাশ ভুলুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওই সহোদরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সকালে এ সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বাজার কমিটির লোকজন ও এলাকাবাসী সকাল ৭ টা থেকে সাড়ে ৯ টায় পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে। এলাকায় উত্তেজনা বাড়লে ঘটনাস্থলে টেকনাফ থানা পুলিশের কয়েকটি দল ও ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পরিচালক আবু রাসেল ছিদ্দিকীর নেতৃত্বে একদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও একাধিক সওদাগরের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সওদাগর আবুল কাশেম ও আব্দু সালাম দীর্ঘ দিনের মুদির দোকানী ও বিকাশ ব্যবসায়ী। তারা কোন ধরণের অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত নয়। পুলিশ ইয়াবা উদ্ধারের নামে তাদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণভাবে সড়ক অবরোধ করা হয়। ইয়াবা উদ্ধারের নামে চিহ্নিত কয়েকজন সন্ত্রাসী ও ইয়াবা ব্যবাসায়ীর ইন্ধনে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

আব্দু সালামের স্ত্রী হালিমা বেগম জানান, রাত ৩ টায় একদল পুলিশ বাড়িতে ঢুকে ইয়াবা উদ্ধারের নামে তল্লাশি চালায়। কোন ইয়াবা না পেয়ে বিকাশের রক্ষিত নগদ প্রায় ১০ লাখ টাকা, বিকাশের দৈনন্দিন হিসাবের বহিটি নিয়ে যায়। পাশাপাশি বাসুর (স্বামীর ভাই) বাড়ি থেকে ৩ ভরি স্বর্ণ ৪২ হাজার টাকাসহ তাকেও আটক করা হয়। তার দাবী স্বামী বৈধ একজন ব্যবাসয়ী। তাদের অযথা হয়রানী করা হচ্ছে। স্থানীয় মেম্বার জাহেদ হোসাইন ধৃতরা বৈধ ব্যবসায়ী দাবী করে বলেন, তাদের বাড়ি থেকে টাকা ও স্বর্ণ লুট করার বিষয়টি শুনেছেন।

হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, পুলিশ ও দালালদের যোগ-সাজশে দীর্ঘদিনের এই কর্মকান্ড সম্পর্কে আইন-শৃংখলা সভায় বারবার বলা হলেও কোন পদক্ষেপ না থাকায় এধরনের ঘটনার সুত্রপাত। পুলিশ ইয়াবা বিরোধী অভিযানের নামে নিরীহ দুই ব্যবসায়ীদের আটকের জেরধরে জ্বালাও-পোড়াও এবং অবরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানাচ্ছি।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মইন উদ্দিন খান জানান, ইয়াবা উদ্ধারের বিশেষ অভিযানে তাদেরকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ইয়াবার সরঞ্জমাদি পাওয়া গেছে। পাশাপাশি যারা সরকারী কাজে বাঁধা দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে কত রাউন্ড গুলি ফায়ার করেছে এবং কি ইয়াবার কি সরঞ্জামাদি পাওয়া গেছে তা নিশ্চিত করতে পারেন নি।

এদিকে পুলিশের কথিত ইয়াবা উদ্ধারের নামে বিভিন্ন বৈধ ব্যবসায়ীকে হয়রানী করার পাশাপাশি ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটকের পর মোটা অংকের টাকা নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে বলে অহরহ অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসী।

মতামত