টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

এরশাদের নেতৃত্বে নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ ৭ মে

চট্টগ্রাম, ০১ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন জোট গঠনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে আগামী শনিবার। এই জোটে কারা কারা থাকছেন, তা না জানালেও এরশাদ বলেছেন, ‘অনেক রাজনৈতিক দল’ই থাকবে সেখানে।

সোমবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় শ্রমিক পার্টির এক শ্রমিক সমাবেশে এ কথা জানান এরশাদ। জাতীয় পর্টির আত্মপরিচয়ের জন্য জন্যই জোট গঠন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিচয় কি? আমাদের যদি সঠিক হয়, যদি সুষ্ঠ নির্বাচন হয় তবে অবশ্যই আমরা ক্ষমতায় যাব। মেহনতি শ্রমিকদের উন্নয়নে করতে জাতীয় পর্টিকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে।’

২০০৯ সালের ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করা জাতীয় পার্টি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয় নানা নাটকীয়তার পর। জোট থেকে বের হয়ে এককভাবে নির্বাচন করা জাতীয় পার্টির একটি অংশ এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত তারা ৩০টিরও বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে প্রধান বিরোধীদল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। নির্বাচনে যাবেন না-এরশাদের এমন ঘোষণার পর তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তার স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচনের লড়াইয়ে যায়।

এরশাদ গত কয়েক মাস ধরেই বলছেন, তাদের স্থান বিরোধী দলে হওয়া উচিত নয়। আর ক্ষমতায় যেতে ইসলামী মূল্যবোধের দলগুলোর সঙ্গে ঐক্য করার ঘোষণা দেন এরশাদ। তার স্বপ্ন, এই জোটই তাকে ক্ষমতায় নিয়ে যাবে।

এরশাদ বলেন, ‘আমরা যদি সত্যিকার বিরোধী দল হতে পারি, আমাদের সত্যিকার পরিচয় যদি আমরা জনগণের মাঝে তুলে ধরতে পারি ইনশাআল্লাহ আগামীতে আমরা ক্ষমতায় যাব।’ তিনি বলেন, ‘১৮ দফা কর্মসূচি আমরা দিয়েছি, এর মধ্যে প্রথমটা হলো প্রাদেশিক সরকার বাস্তবায়ন করা, পূর্ণাঙ্গ উপজেলা, নির্বাচন কমিশনের সংস্কার।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরাও চাচ্ছি নির্বাচন কমিশনের সংস্কার। যদি নির্বাচন কমিশন সংস্কার হয়, সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। তবে আমি বিশ্বাস করি জাতীয় পার্টি আবার ক্ষমতায় আসবে।’

শ্রমিকদের জন্য জাতীয় পার্টিই কাজ করেছে দাবি করে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার সরকার না চাইতেই শ্রমিকদের বেতন দ্বিগুণ করেছিল। বাৎসরিক দুইটি বোনাস দিয়ে ছিলাম। কিন্তু শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারও কোন কাজ করছে না।’

বর্তমানে দেশে দেশে এখন সুশাসনের অভাব রয়েছে দাবি করে এরশাদ বলেন, ‘এ কারণে করের বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। দেশে এখন জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ এর উপরে, ব্যাংকে টাকার পাহাড়। কিন্তু শিল্পায়ন হচ্ছে না। তাহলে কর্মসংস্থান কীভাবে হবে? বেকারত্বের হার বেড়ে যাচ্ছে, হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ লোক রিকশা চালাচ্ছে। অন্য দিকে দেশ হচ্ছে মধ্যম আয়ের দেশ। কত মানুষ না খেয়ে আছে তার খবর আমরা রাখি? কী ক্ষমতায়ন হচ্ছে?’।

এরশাদ বলেন, ‘দুশো-তিনশ টাকায় আজ নারীরা ইটের বোঝা বয়ে নিচ্ছে। মহিলারা এ কাজ করে? এগুলো শুধু চেয়ে দেখছি, কিছু বলতে পারি না। এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে। এই পরিবর্তন আমরাই পারব। জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় আনলেই এই পরিবর্তন হবে।’

সমাবেশে বিরোধীদলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ বলেন, ‘শ্রমিকরাই অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। অথচ তাদের জীবনের কোন উন্নয়ন হয়নি। পরিবর্তনের জন্য জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। মুখে বললে হবে না, কাজ করতে হবে। ক্ষমতায় যেতে হলে পার্টিকে শক্তিশালী করতে হবে। উপযুক্ত দেখে প্রার্থী দিতে হবে। তবেই পরিবর্তন আনা সম্ভব।’

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার প্রমুখ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

মতামত