টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

হাতুড়ি শাবল গাঁইতি চালায়ে ভাঙিল যারা পাহাড়

চট্টগ্রাম, ০১ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  ‘হাতুড়ি শাবল গাঁইতি চালায়ে ভাঙিল যারা পাহাড়, পাহাড়-কাটা সে পথের দু’পাশে পড়িয়া যাদের হাড়, তোমারে সেবিতে হইল যাহারা মজুর, মুটে ও কুলি, তোমারে বহিতে যারা পবিত্র অঙ্গে লাগাল ধূলি; তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান।’

আজ মহান মে দিবস। কুলি, মুটে মজুর শ্রমিকদের গান গাওয়ার দিন। কৃষক শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের সংহতি প্রকাশের দিন আজ। খেটে খাওয়া শ্রমিকদের উৎসবের দিন। যারা গায়ের ঘাম পায়ে ফেলে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন আজ। দীর্ঘ বঞ্চনা আর শোষণ থেকে মুক্তি পেতে ১৮৮৬ সালের এদিন বুকের রক্ত ঝরিয়েছিলেন শ্রমিকরা। মহান এ দিনটির পেছনে রয়েছে এক রক্তভেজা ইতিহাস। ইতিহাসের পাতায় এদিনটির রয়েছে ঐতিহাসিক গুরুত্ব।

মে দিবস এলেই মেহনতি শ্রমজীবী মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এদিন প্রমাণ করে দিয়েছে শ্রমিকের ন্যায্য দাবিকে গলা টিপে হত্যা করা যায় না। তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবির কাছে মাথা নোয়াতে হয়। শ্রমিকের আন্দোলনের কারণে আজ ৮ ঘণ্টা কাজ করার স্বীকৃতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও প্রতিষ্ঠাকালীন থেকেই শ্রমিকের এ দাবিকে আইনে পরিণত করেছে।

তবে দুঃখের বিষয় যাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন বাংলাদেশের সেসব শ্রমজীবী মানুষের কাছে দিনটির তাৎপর্য আজও ভালভাবে পৌঁছায়নি। অনেক দিনমজুর, গৃহশ্রমিক জানে না মে দিবস কি। ফলে তাদের অধিকার সম্পর্কে তারা এখনও রয়েছে অন্ধকারে।

শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আত্মত্যাগের এ দিনটিকে তখন থেকেই সারা বিশ্বে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী সরকারী ছুটি থাকে এ দিন। বাংলাদেশেও আজ সরকারী ছুটি। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী, বিএনপি চেয়ার পারসন খালেদা জিয়া আলাদা আলাদা বিবৃতি দিয়েছেন।

প্রকৃতপক্ষে মে দিবস শ্রমজীবী মানুষের জাগরণের স্মারক। সর্বহারার সর্বজয়ী হওয়ার দুর্মর সংকল্পের উদ্বোধনকারী দিন মে দিবস। শৃঙ্খল ছাড়া যাদের হারানোর কিছু নেই, অথচ জয় করার জন্য আছে সমস্ত জগৎ, তাদেরই শক্তির উজ্জ্বল প্রকাশে ভাস্মর এ দিনটি স্মরণে রেখে সেই মহান মানুষদের প্রতি বিশ্বজুড়ে আজ শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়।

মে দিবস প্রমাণ করে যে ওরা রক্তবীজ, ওদের রক্ত ঝরিয়ে শোকের সাগর তৈরি করতে চায় যারা, তারাই ভেসে যায় সে সাগরের স্রোতে, আর সে সাগরে ফুটে ওঠে আর্তমানবতার উৎসবের রক্তকমল। এদিনটি তাই শোষিতের উৎসব আর শোষকের মর্মবেদনার দিন।

বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা মে দিবসের ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখেছেন। তিনিই পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম বেতনের হার বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়ে, মালিকপক্ষকে তা মানতে বাধ্য করেন। শিশুশ্রম বন্ধ, নারীশ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কৃষি শ্রমিক তথা ভূমিহীনদের বিনা জামানতে কৃষি ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা, মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলা, শ্রমজীবী ও গরিব-দুঃখী মানুষের জীবনজীবিকার ব্যবস্থা করতে সোস্যাল সেফটি নেট জোরদার করা, বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা প্রভৃতি অব্যাহত রাখা, গরিব মানুষের ঘরে ঘরে বিনামূল্যে সোলার বিদ্যুৎ ল্যাম্প সরবরাহ, কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারি হাসপাতালগুলোয় বিনা খরচায় চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধের ব্যবস্থা করা এবং বিনামূল্যে বই সরবরাহ করে গরিব, শ্রমজীবী মানুষের সন্তানদের জন্য অন্তত প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ অবারিত করে দিয়েছেন।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দল বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

মতামত