টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঈদের আগে আসা হলো না বাড়ি, ঘর হলেও হলো না ঘরনি

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

চট্টগ্রাম, ৩০ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  ঈদের আগে বাড়ি আসবেন। নির্মাণাধীন ঘরটির কাজ শেষে নিয়ে আসবেন ঘরনিও (স্ত্রী)।

হবো স্ত্রীর জন্য ক্রয় করেছিলেন স্বর্ণালংকারসহ বেশ কিছু মালামাল। বিদেশ থেকে মাসের পর মাস রক্তঝরা শ্রমে কামাই করা বেতনের টাকা দিয়ে বাড়ীর পাশে ছয় শতক জায়গা কিনে বোনের মাধ্যমে ঘর নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ করেছিলেন। বাকী ছিলো শুধু দেশে এসে সংসার পাতা। বিদেশ বিভুঁইয়ে বসে হিসেবের দিন গুণছিলেন চিরসুখের মূহুর্তগুলো আসবে কবে? কিন্তু না! একনিমিশে শেষ হয়ে গেল সবকিছু। সুখের দিন আসার আগেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন নিজেই।

নিহত যুবকের নাম মোহাম্মদ নাছির (৩০)। তিনি ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের শান্তিরহাট তেল­াবাড়ী এলাকার মৃত আবুল হোসেনের চতুর্থ ছেলে । চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ট নাসির। বাবা-মা দু‘জনেই মারা গেছেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ নয় বৎসর আগে পাড়ি জমিয়ে ছিলেন সৌদি আরবের মাটিতে। সেখানে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবেই কাজ করতেন তিনি। ভিসা জটিলতার কারণে এ যাবৎ একবারো দেশের মুখ দেখতে পারেননি নাসির।

গত মঙ্গলবার নাছির কর্মস্থল থেকে কাজ শেষ করে রাত ৮টার দিকে খামিস মুশাইতে তার আপন ভাই মুসারের সাথে দেখা করতে রওনা দেন। তানদাহা এলাকার পেট্রোল পাম্পের পাশে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ পেছন দিক থেকে একটি গাড়ি এসে তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে নাছিরের মৃত্যু হয়। তার মরদেহ খামিস মুশাইত কেন্দ্রীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে তার নিজ বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার স্বজনদের সাথে। বোন মনোয়ারা তার নির্মাণাধীন ঘরটিকে দেখিয়ে বলছেন, বাবা-মা হারা ছোট ভাইটি অনেক পরিশ্রম করে টাকা পাঠিয়ে জায়গা কিনে ঘর করছিল। সে ঘর নিয়ে তার কতো স্বপ্ন ছিল। মারা যাওয়ার আগের দিনও বলেছিল, আপা আমি সবকিছু কিনে বাসায় নিয়ে এসেছি। এখন শুধু টিকেট কনফার্ম করে বাড়ি আসার পালা।’

কান্নাভেজা কন্ঠে বড় বোন মনোয়ারা আরো বলেন, ‘ভাইয়ের জন্য মেয়েও দেখা শুরু করেছি। কি হতে কি হয়ে গেল !

নিহত নাছিরের বড় ভাই কালু শাহ জানান,‘ সেখানে তার এক ভাই রয়েছেন। তিনি লাশ দেশে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া করছেন।’

নিহত নাছিরের মামাতো ভাই আলাউদ্দিন কাজল বলেন, ‘নাছির খুব নম্্র-ভদ্র ও শান্ত-শিষ্ট স্বভাবের ছিলো। বিয়ে করে সংসার করবে বলে বাড়ীর পাশে নতুন ঘরও নির্মাণ করেছিলো। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, তার আগেই সবকিছু শেষ।’

মতামত