টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বিধ্বস্ত হাওরে প্রধানমন্ত্রী, দিলেন ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণা

চট্টগ্রাম, ২৯  এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: স্বপ্নের ফসল হারিয়ে বিধ্বস্ত হাওরাঞ্চলের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা নিজ চোখে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি হাওরবাসীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। জানিয়েছেন সান্ত্বনা, দিয়েছেন ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণা। সরকারপ্রধানকে কাছে পেয়ে খুশি হাওরবাসীও।

রবিবার সকালে বন্যাকবলিত সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা সদরের শহিদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে জনগণের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শেষে প্রধানমন্ত্রী স্পিডবোটে করে কয়েকটি প্রত্যন্ত হাওর ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। ওই এলাকাসমূহ পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী একশটি বন্যাদুর্গত পরিবারের মধ্যে তাঁর নিজস্ব তহবিল থেকে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী জনগণের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। শেখ হাসিনা হাওর এলাকার শিশুদের কাছে জানতে চান তারা বছরের প্রথমদিন পাঠ্যবই পেয়েছে কি না, শিশুরা ইতিবাচক জবাব দিয়ে সমস্বরে এক সাথে বলে ‘আমরা বছরের প্রথম দিন পাঠ্যবই পেয়েছি।’বর্ষাকালে স্কুলগামী শিশুদের চলাচলের সমস্যা অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাওর এলাকা এবং পার্বত্যাঞ্চলে আবাসিক বিদ্যালয় নির্মাণের লক্ষ্যে সরকার একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

হাওর এলাকার বন্যাদুর্গত জনগণের দুর্দশা স্বচক্ষে দেখার জন্য শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারযোগে সুনামগঞ্জে যান। শাল্লা উপজেলার শহিদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে অবতরণ করার আগে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টার থেকে বন্যা উপদ্রুত এলাকার পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী শহিদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে এক জনসমাবেশে ভাষণ দেন। ভাষণ শেষে তিনি এক হাজার মানুষের মধ্য থেকে নির্বাচিত ২০ জনের মাঝে প্রত্যেককে ৩৮ কেজি চাল এবং এক হাজার টাকা করে বিতরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যাকবলিত হাওরাঞ্চল পরিদর্শনকালে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য জয়া সেনগুপ্ত প্রমুখ তাঁর সাথে ছিলেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে চাল ও নগদ টাকা গ্রহণকারী বন্যাদুর্গত জনগণ তাদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

আগাম আকস্মিক বন্যায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা পানিতে তলিয়ে গেলে এখানকার উঠতি বোরো ধান বিনষ্ট হয় এবং এতে এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষকের জীবনযাত্রা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়।

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার- এই ছয়টি জেলার ৬২টি উপজেলার ৫১৮টি ইউনিয়নের আট লাখ ৫০ হাজার ৮৮টি পরিবার এই আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যায় দুই লাখ ৪৯ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমির বোরো ধান সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয় এবং ১৮ হাজার ২০৫টি বসত ঘর আংশিক অথবা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের জন্য মোট ৫৮৭টি ত্রাণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের মানবিক সহায়তা প্রদানে এ পর্যন্ত চার হাজার ২২৪ মেট্রিক টন জিআর (বিনামূল্যের চাল) এবং দুই কোটি ২৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জিআর চাল বিতরণ এখন শেষ পর্যায়ে। অপরদিকে ভিজিএফ কর্মসূচিও চালু হয়েছে।

মতামত