টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আরও বড় দুর্যোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে আবহাওয়া

চট্টগ্রাম, ২৩  এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): চৈত্রে এবার কাঠফাটা রোদের বদলে দেশ দেখেছে টানা বৃষ্টি। বৈশাখে এসেও আকাশ ভেঙে ঝরছে বর্ষণ। বছরের এই সময়টায় কালবৈশাখী ঝড় হয় বটে, তবে টানা বৃষ্টি সেভাবে হয় না। কিন্তু এবার হচ্ছে তা-ই। বৈশাখ আসতে না আসতেই বন্যা হানা দিয়েছে হাওর অঞ্চলে। ভাসিয়ে নিয়ে গেছে ফসল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত দুই বছর ধরে প্রশান্ত মহাসাগরে উপরিভাগের পানির তাপমাত্রার পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন ‘এল নিনো’তে ভুগেছে এই অঞ্চল। এর প্রভাবে খরা, অনাবৃষ্টিতে ভুগেছে দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। সচরাচর ‘এল নিনো’র পরে আসে ‘লা লিনা’। আর এই পরিবর্তন এলে ঝড়, বৃষ্টি, বন্যার প্রকোপ দেখা দেয়।

তবে এবার গ্রীষ্ম আসার আগেই টানা বৃষ্টি আর বন্যা লা লিনার প্রভাব কি না- সে বিষয়ে এখনই বলার সময় হয়নি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, এখন পর্যন্ত যতটা আভাস মিলছে, তাতে ২০১৭ সালটা হতে পারে দুর্যোগপূর্ণ। অতিবৃষ্টি, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানতে পারে দেশে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লা নিনা অর্থাৎ এল নিনোর সম্পূর্ণ বিপরীত স্বভাবের আবহাওয়ার ধারা গড়ে ওঠার ৭৫% সম্ভাবনা রয়েছে। এটি হলে এবারের গ্রীষ্মে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি, ঝড়, বন্যা, সাইক্লোন দেখা দিতে পারে।

লা নিনা সবশেষ এসেছিল ২০১০ সালে এবং তা ২০১২ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ওই সময় থাইল্যান্ডে স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ বৃষ্টি হয়। দেশের ৭৬ ভাগ বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। এতে ৮১৫ জন মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি দেশের চার হাজার কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে বন্যা দেখা দেয় এবং ৩৩ জন মানুষের মৃত্যু এবং বিপুল সম্পদের ক্ষতি হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আবদুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এবার বৃষ্টি মানুষকে একটু বেশিই ভোগাবে।…গরম থাকবে কম সময়ের জন্য। আকাশ বেশির ভাগ সময় থাকবে মেঘলা।’ তবে বৃষ্টির মধ্যেই তাপমাত্রা ৪০ এর কোঠায় উঠবে বলেও জানান আবহাওয়া তিনি।

আবদুর রহমান বলেন, ‘এইবার গত কয়েক বছরের তুলনায় তূলনামূলক বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের লক্ষণ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশে এসেও পড়েছে। এই কারণে দেশের তাপমাত্রা পর্যন্ত ঘুরে যেতে পারে।’

এই আবহাওয়াবিদ আরও বলেন, ‘অতিবৃষ্টির ফলে দেশে এবার বন্যা দেখা দিতে পারে। এর সাথে এবার যোগ হয়েছে পাহাড়ি ঢল। ফলে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।’

আজ থেকে কমতে পারে বৃষ্টি

গত দুই দিন ধরে বৃষ্টির কারণ বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ। এর বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে অবস্থান করছে। এর ফলে দেশের রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি আর কত দিন চলবে- জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান বলেন, ‘আমাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী রবিবার (২৩ এপ্রিল) স্বাভাবিক হয়ে আসবে রাজধানীর আকাশ। তবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আরও দুই-এক দিন বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেটের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। -ঢাকাটাইমস

মতামত