টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে মাল্টিলেভেল কার পার্কিংয়ের শুরু কাল

চট্টগ্রাম, ২১ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  আগামীকাল শনিবার বন্দর নগরী চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বিপণি বিতানে (নিউ মার্কেট) অটোমেটিক মাল্টিলেভেল ডিজিটাল কার পার্কিং চালু হচ্ছে। প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এই কার পার্কিং নির্মাণ করে। অত্যাধুনিক এই মাল্টিলেভেল পার্কিংয়ের সুবাদে মাত্র ৫টি গাড়ি রাখার জায়গায় ২৯টি গাড়ি রাখা সম্ভব হবে। দেশে প্রথম এই কার পার্কিং সিস্টেম চালু করা হয় ঢাকার মৎস্য ভবনে। আর চট্টগ্রামে নিউমার্কেটেই প্রথম এই কার পার্কিং নির্মাণ করা হল।

সিডিএর একজন কর্মকর্তা বলেছেন, স্বাধীনতা লাভের আগে নির্মিত চট্টগ্রামের প্রথম অত্যাধুনিক শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল বিপণি বিতান বা নিউমার্কেট। এটাই চট্টগ্রামের প্রথম গোছানো শপিং কমপ্লেক্স। দেশের প্রথম চলন্ত সিঁড়ি (এস্কেলেটর) সন্নিবেশিত করা হয়েছিল এই মার্কেটে। সবকিছুতেই ‘প্রথম’ এর ধারাবাহিকতায় এবার এই মার্কেটে প্রথম সংযুক্ত করা হল অটোমেটিক মাল্টিলেভেল ডিজিটাল কার পার্কিং।

জানা গেছে, পাইলট প্রকল্প হিসেবে মাল্টিলেভেল কার পার্কিংটি নির্মাণ করা হয়েছে। সিডিএ চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং আগ্রহে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই পার্কিং নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামীকাল শনিবার সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম এটা উদ্বোধন করবেন।

নিউ মার্কেটের উত্তর কোণে গাড়ি পার্কিংয়ের পুরানো জায়গাতেই স্টিল স্ট্রাকচারের কার পার্কিং নির্মাণ করা হয়েছে। জাপান ও জার্মান প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই মাল্টিলেভেল কার পার্কিং নির্মাণ করা হয়। এটা নির্মাণে কারিগরি সহায়তা দেয় চীনের একটি কোম্পানি।

প্রকৌশলীরা জানান, টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজিজ এন্ড কোম্পানি লিমিটেডকে কার পার্কিং নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হয়। সাত তলার অত্যাধুনিক এই পার্কিং-এ ৫টি কার রাখার জায়গা ব্যবহার করে মাল্টিলেভেল পদ্ধতিতে ২৯টি গাড়ি রাখার জায়গা করা হয়েছে। ছয় তলায় ছয়টি স্থান খালি থাকবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি উঠানো-নামানোর জন্য একটি করে গাড়ি নড়াচড়ার স্পেস খালি রাখা হয়েছে।

মাল্টিলেভেল ডিজিটাল এই কার পার্কিংয়ে কার্ড পাঞ্চিং বা কোড ব্যবহার করেই সাত তলা পর্যন্ত অটোমেটিক গাড়ি ওঠা-নামা করা যাবে। নিচে পাঁচটি ট্রে থাকবে। যেকোনো একটি ট্রেতে কার পার্কিং করা হবে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপরের যে কোনো তলার খালি স্পেসে গাড়ি পার্ক হয়ে যাবে। কার্ড পাঞ্চিং বা কোড ব্যবহারের মাধ্যমে এসব কাজ করা হবে। একইভাবে কার্ড পাঞ্চিংয়ের পর অটোমেটিক গাড়ি নিচে নেমে আসবে।

পুরো ব্যাপারটি দেখার মতো বলে উল্লেখ করে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেছে, চট্টগ্রাম সবকিছুতে এগিয়ে থাকে। আমরা প্রথম এই ধরনের বিশ্বমানের একটি কার পার্কিং চালু করলাম। তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় এই দেশটা ছোট। আমাদের বহু মানুষ। এখানে গাড়ির সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। কার পার্কিং নিয়ে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছে। জায়গার অভাব। তাই আমরা কম জায়গার সর্বোচ্চ এবং সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতেই মাল্টিলেভেলের চিন্তা করি। তিনি বলেন, আমরা একটি পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। ভবিষ্যতে অন্যান্য স্থানেও এই ধরনের মাল্টিলেভেল পার্কিং চিন্তা করবো।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত