টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

টেকনাফে ফের ইয়াবা পাচারকারী-বিজিবি গুলিবিনিময় : গুলিবিদ্ধসহ আটক ৩

আমান উল্লাহ আমান
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ১৭ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  টেকনাফে ফের ইয়াবা পাচারকারীদের সাথে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর সাথে গুলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে মোহাম্মদ ইউনুছ (৪৫) নামে এক ইয়াবা পাচারকারী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সে মিয়ানমারে মংডু থানার সুধাপাড়া এলাকার রোহিঙ্গা বাসিন্দা। এছাড়া একই এলাকার আরো দুই জনকে আটক করেছে। তারা হচ্ছে মৃত আবুল কালামের ছেলে মোঃ আনোয়ার (২৮) ও আবু সামাদের ছেলে নুরুল হক (৩০)। আটককৃতদের কাছ থেকে ১ লাখ পঞ্চাশ হাজার পিস ইয়াবা ও ২টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে।

এঘটনায় ৩ বিজিবি জওয়ান আহত হয়েছে। তারা হচ্ছে আশরাফুল আলম (৪৪), জফরুল ইসলাম (৩১) ও শামীম খান (২৪)। আহত তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

১৭ এপ্রিল সোমবার ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে টেকনাফ পৌরসভাস্থ নাইট্যং পাড়ার রেষ্টহাউজ বরাবর নাফ নদে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, মিয়ানমার থেকে নাফ নদ পেরিয়ে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার হয়ে আসার গোপন সংবাদে টেকনাফ বিওপির বিজিবি জওয়ানরা সীমান্তে উঁৎপেতে থাকে। একপর্যায়ে ভোরের দিকে একটি নৌকা আসতে দেখে বিজিবি জওয়ানরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে অতর্কিতভাবে ২/৩ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পাচারকারীরা। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও ১০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। এসময় নৌকা থেকে লাফিয়ে দুই জন মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধসহ তিন জন পাচারকারীকে আটক করতে সক্ষম হয় বিজিবি। তম্মধ্যে ইউনুছ নামের একজনের গলায় গুলি লেগেছে। এসময় তাদের কাছ থেকে দেড় লক্ষ ইয়াবা ও ২টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

এদিকে অপর একটি অভিযানে টেকনাফের জইল্যার দ্বীপ থেকে ৫ লক্ষ পিস মালিক বিহীন ইয়াবা উদ্ধার করে। যার মুল্য ১৫ কোটি টাকা। সোমবার ভোর রাত দেড় টার দিকে গোপন সংবাদে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় পাচারকারীরা বিজিবির অবস্থান টের পেয়ে কয়েকটি বস্তা ফেলে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করতে পারেনি বিজিবি। পরে ওই স্থান থেকে বস্তাবর্তী ইয়াবা গুলি উদ্ধার করে বিজিবি ব্যাটালিয়নের রাখা হয়। যা পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মিডিয়াকর্মীগণের সামনে ধ্বংস করা হবে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ আবু জার আল জাহিদ জানান, ইয়াবা পাচার বন্ধে বিজিবি সীমান্তে সদা সতর্কাবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় জনসাধারন এগিয়ে আসলে ইয়াবা পাচার রোধ করা আরো সহজতর হবে। তাই তিনি সকলকে আন্তরিকতার সাথে বিজিবিকে তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করার আহবান জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল শাহপরীরদ্বীপ দিয়ে ইয়াবা পাচারকালে ইয়াবাপাচারকারী ও বিজিবির মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে এক মহিলা নিহত ও ৪ আহত হয়। এছাড়া ১৬ এপ্রিল সাবরাং থেকে ৯ লাখ ৮০ হাজার পিস মালিক বিহীন ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বিজিবি।

মতামত