টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কওমি স্বীকৃতির বিরুদ্ধে মাঠে নামছে আহলে সুন্নাত!

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ১৬ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: : কওমি শিক্ষা সনদের স্বীকৃতির বিরুদ্ধে মাঠে নামার কথা জানিয়েছেন ধর্মভিত্তিক সংগঠন আহলে সুন্নাত আল জামা‘আত। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

সংগঠনটির এ নেতা চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসায় কর্মরত। সম্প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রীর কওমি শিক্ষা সনদের স্বীকৃতির ঘোষণা প্রত্যাহার দাবি জানিয়ে বলেন, এ স্বীকৃতি সুন্নিয়তের বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র।

মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার জানান, কওমি শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি বাতিলের দাবিতে আহলে সুন্নাত আল জামা‘আত আগামিকাল সোম ও মঙ্গলবার সারা দেশের প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে। বৃহ¯পতিবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করবে।

এরপরও যদি স্বীকৃতি প্রত্যাহার করা না হয় তাহলে পরবর্তি কর্মসূচি ঘোষনা করবে আহলে সুন্নাত আল জামা‘আত। এ ব্যাপারে গতকাল শনিবার সংগঠনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করার কথাও জানান তিনি।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা‘আতের সদস্য সচিব মোছাহেব উদ্দীন বখতেয়ার বলেন, ওহাবি-দেওবন্দি মতাদর্শের বেসরকারি কওমি মাদ্রাসার সনদকে স্বীকৃতির ঘোষণা দিয়ে সরকার জাতিকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। তারা কখনো সরকারি আনুগত্য ও নিয়ম মানেনি। তাদের শিক্ষা কার্যক্রম সরকার অনুমোদিত নয়।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বর থেকে যাদের নির্মমভাবে পিটিয়ে তাড়ানো হয়েছিল সেই তাদেরই সরকারের এই পুরস্কারের ঘোষণা রীতিমতো হতাশাব্যঞ্জক। সরকারের এ উদ্যোগকে ষড়যন্ত্রমূলক আঁতাত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার হেফাজতে ইসলামকে সবকিছুতেই ছাড় দিয়ে যাচ্ছে। অথচ হেফাজতের ভেতরেই রয়েছে জঙ্গিবাদ। দেশের আনাচে-কানাচে জঙ্গির বিস্তার ঘটিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলে কওমি শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি আদায়ে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু আহলে সুন্নাতের সব কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া দিচ্ছে সরকার।

কোনো রকম সংস্কার ছাড়াই কওমি মাদ্রাসার সনদকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আলিয়া মাদ্রাসা ছেড়ে উগ্রপন্থি’ কওমি মাদ্রাসামুখী করবে বলে মন্তব্য করেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রধান সমন্বয়ক মাওলানা এম এ মতিন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মাদ্রাসা শিক্ষা নীতি বড়ই রহস্যময়। নতুন স্বীকৃতির ফলে আলিয়া মাদ্রাসাগুলো ধ্বংস হবে এবং কওমিদের উগ্রশক্তি বৃদ্ধি পাবে, যা সুন্নিয়তের বিরুদ্ধে সরকারের চক্রান্ত এবং ওহাবি-সালাফিদের প্রতি অনুগ্রহ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আহলে সুন্নাত নেতৃবৃন্দ এ দাবি আদায়, আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা সংকোচন নীতি প্রত্যাহারসহ কওমি শিক্ষা সনদ প্রত্যাহারের দাবিতে আগামি ১৭ ও ১৮ এপ্রিল সোম ও মঙ্গলবার জেলা-উপজেলায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং ২০ এপ্রিল বৃহ¯পতিবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করবেন বলে জানান তিনি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে এ সময় আরও কথা বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চেয়ারম্যান জননেতা আল্লামা এম এ মান্নান, পীরে তরীক্বত আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ মছিহুদ্দৌলা, মাওলানা স উ ম আবদুস সামাদ, অধ্যক্ষ আবুল ফারাহ মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন, অধ্যক্ষ মাওলানা ইছমাইল নোমানী, কাজী সোলাইমান চৌধুরী, এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মাওলানা শফিউল আলম আজিজি, অধ্যাপক আনোয়ার হোসাইন, মাওলানা রেজাউল করিম তালুকদার, ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ নুর হোসাইন, আলহাজ্ব নঈম উল ইসলাম, মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, মুহাম্মদ ফজলুল করিম তালুকদার, নাছির উদ্দিন মাহমুদ, শফিউল আলম চৌধুরী, ফোরকানুল আলম চৌধুরী, শফিউল আলম শফি, সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম, জি.এম শাহাদত হোছাইন মানিক, হাফেজ মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, আব্দুল করিম সেলিম, মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদ কাদেরী, খোরশেদুল ইসলাম সুমন, মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল রোমান, হাফেজ মুহাম্মদ এনাম প্রমুখ।

মতামত