টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়ির আব্দুল্লাহপুরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে দিয়ে ভোট গ্রহণ কাল

আব্দুল্লাহপুরে হোসেন আলীর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন কে ?

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে


চট্টগ্রাম, ১৫ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::ফটিকছড়ি উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পরিষদের উপ-নির্বাচন কাল (রবিবার)। সকাল আটটা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত চলবে টানা ভোট গ্রহণ। বিগত দুই মেয়াদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা আ.লীগ নেতা হোসেন আলী গত ১০ জানুয়ারী আকষ্মিক মৃত্যু হলে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। চেয়ারম্যান পদটিতে নির্বাচনে লড়ছেন আ.লীগের দুই নেতা। এখানে আ.লীগের নৌকার প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমানে উপজেলা আ.লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. অহিদুল আলম। তার প্রতিদ্বন্ধি স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের এ কে এম সেলিম উদ্দিন। তিনিও আওয়ামী রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। তিনি দল থেকে নৌকা প্রতীক চেয়ে মনোনয়ন বঞ্চিত হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন।

প্রচার প্রচারণার শুরু থেকে উভয় প্রার্থী একে অপরের প্রতি পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে আসছিলেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম সেলিম উদ্দিনের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে তার পোষ্টার ছিড়ে ফেলা হয়েছিল। তার প্রচারণায় ব্যবহত গাড়িও আটকে দিয়েছিল। এমনকি তার কর্মী বাহিনীর উপর হামলাও করেছে প্রতিপক্ষরা। তিনি ভোট গ্রহনের সময় বহিরাগতরা এসে কেন্দ্র দখলের শঙ্কা করেছেন। এ নিয়ে ইউএনওসহ থানা প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। যদি কোন প্রকার ভোট কারচুপি না হয় আমিই হবো হোসেন আলীর স্থলাভিষিক্ত।’

অপরদিকে আ.লীগের নৌকার প্রার্থী মো. অহিদুল আলম তার বিরোদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রতিপক্ষরা আমার প্রধান নির্বাচনী ক্যাম্পে আগুন দিয়েছে। তাদের পূর্ব শত্র“তার জের ধরে হামলাকে আমার কর্মী বাহিনীর বলে অপ প্রচার চালাচ্ছে। এলাকার লোক তার সাথে না থাকায় বহিরাগতদের ভাড়া করে প্রচার প্রচারনা চালিয়েছেন আমার প্রতিপক্ষ । আমার দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ একাট্টা হয়ে এখানে এসে আমার প্রচারণায় অংশ গ্রহন দেখে এবং আমার জনসমর্থন দেখে তিনি বার বার মিথ্যা অভিযোগ রটাচ্ছে। আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’

এদিকে, সরেজমিনে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার আব্দুল্লাহপুরে দেখা যায় অনেকটা স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের পোষ্টার আর প্রচারণা নেই। কথা হয় সাহাব উদ্দিন রকি নামক তার এক কর্মীর সাথে। তিনি বলেন, আমরা মূলত পোষ্টার সাটালে তা রাতেই উধাও হয়ে যায়।

তবে, নৌকার প্রার্থী মো. অহিদুল আলমের প্রচার প্রচারণা এবং পোষ্টার বেশ লক্ষ্য করা যায়। তার প্রধান নির্বাচনী ক্যাম্পের পেছনের অংশে আগুন লাগার চিহ্ন দেখা যায়। এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার একাধিক লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, আ.লীগের প্রার্থীর পক্ষে জেলা, উপজেলা এমনকি চট্টগ্রাম মহানগর থেকেও নেতারা ছুঁটে এসেছেন। এছাড়া নৌকার প্রার্থী অহিদুল আলম এলাকায় উচ্চ শিক্ষিত হিসেবে বেশ সমাদৃত। তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যও রয়েছে। তরুণ প্রজন্মদের প্রথম পছন্দের তালিকায় তিনি রয়েছেন। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম সেলিম উদ্দিনও এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানাভাবে সহযোগিতা করে এলাকায় সুনাম কুঁড়িয়েছেন। অপরদিকে, তার প্রতি প্রয়াত চেয়ারম্যান হোসেন আলীর পরিবারেরও সমর্থন রয়েছে বলে এলাকার বেশ কিছু মানুষ মন্তব্য করেছেন। কাল আব্দুল্লাহপুরে ৪ হাজার ১২০ জন ভোটার নির্ধারণ করবেন কে হচ্ছেন তাদের প্রিয় হোসেন আলীর স্থলাভিষিক্ত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপক কুমার রায় জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তার জন্য আব্দুল্লাহপুরে ১ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, পুলিশ ও আনসার সদস্য মিলে ২৭ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। আর সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচনীয় এলাকায় র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবির সদস্যরা নিয়মিত টহল দেবেন। সুতারাং নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মতামত