টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কাপ্তাইয়ে জলকেলি উৎসবে তরুণ-তরুণীরা

চট্টগ্রাম, ১৫ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: কাপ্তাইয়ের চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার মাঠে পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মারমা সম্প্রদায়ের বর্ণিল সাংগ্রাই জলকেলি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মারমা সম্প্রদায়ের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবে শনিবার সকাল থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত মেতে উঠেছে শত শত মারমা তরুণ-তরুণী। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে উৎসব শুরুর পর মারমা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী জলকেলিতে মাতোয়ারা হয়ে উঠে। বর্ণাঢ্য জলকেলি উৎসব দেখতে তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারা দেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক এখন কাপ্তাইয়ের চিৎমরমে এসেছে। মারমা সংস্কৃতি সংস্থার (মাসস) উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে এই উৎসবের আয়োজন হয় প্রতিবছর।

মারমা সংস্কৃতি সংস্থার সভাপতি ও কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী অংসুসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন চিৎমর সাংগ্রাই উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য প্রকৌশলী থোয়াইচিং মারমা, কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল আলম, কাপ্তাই ও চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন হ্লা থোয়াই মারমা।

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে ফিতা কেটে এবং মারমা তরুণ-তরুণীদের গায়ে পানি ছিটিয়ে জলকেলি উৎসবের উদ্বোধনের পর শত শত মারমা তরুণ-তরুণী পানি খেলায় মেতে উঠে। একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে পুরাতন বছরের গ্লানি মুছে নতুন বছর ও সুন্দর দিনের জন্য প্রার্থনা করে। মারমা ও বিভিন্ন উপজাতীয় সম্প্রদায়ের এই পানি খেলায় অংশ নেয় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বাঙালি তরুণ-তরুণীরাও। কাপ্তাই সাংগ্রাই উৎসব পরিণত হয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক ব্যতিক্রমী উৎসব হিসেবে।

সামিয়ানার নিচে পানি খেলা চলার সময় পৃথক মঞ্চে পরিবেশিত হয় উপজাতীয় সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একের পর এক সংগীত পরিবেশন করে মঞ্চ মাতিয়ে রাখেন উপজাতীয় ও বাঙালি শিল্পিরা। মঞ্চে পরিবেশিত হয় মারমা, চাকমা নৃত্য ও সংগীত। হাজার হাজার দর্শক নেচে গেয়ে এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এ ছাড়া মঞ্চের এক পাশে একটি দীর্ঘ তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে ওপরে ওঠার প্রতিযোগিতা হাজার হাজার দর্শককে মুগ্ধ করে।

মাসস’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অংসুসাইন চৌধুরী জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩টি উপজাতীয় সম্প্রদায় ভিন্ন ভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় নববর্ষ পালন করে।

মতামত