টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অপশক্তির বিরুদ্ধে আনন্দলোকে মঙ্গল শোভাযাত্রা

চট্টগ্রাম, ১৪ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: বাঙালির বর্ষ বরণের নানা অনুষঙ্গের মধ্যে অন্যতম হল মঙ্গল শোভাযাত্রা। অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউট থেকে ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর’- স্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে শোভাযাত্রা শুরু হয়।

মঙ্গল শোভাযাত্রা ইউনেস্কোর অপরিমেয় বিশ্ব সংস্কৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। স্বীকৃতির পর এবছর আরও ব্যাপকভাবে পালনের উদ্যোগও নেয়া হয়।

মঙ্গল শোভাযাত্রা এবছর ২৮ বছরে পা দিলো। প্রতিবছর পহেলা বৈশাখের সকালে বাদ্যযন্ত্রের তালে নানা ধরণের বাঁশ-কাগজের তৈরি ভাস্কর্য, মুখোশ হাতে বের হয় বর্ণাঢ্য এই মিছিল।

এবারের শোভাযাত্রার বিশেষত্ব অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। সুতরাং জঙ্গিবাদের সঙ্গে যারা যুক্ত হচ্ছেন তাদের শুভবুদ্ধির উদয়ের আহ্বান জানানো হবে এ আয়োজনে। এছাড়া এবার শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য- ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর’।

চারুকলা থেকে এই শোভাযাত্রার শুরুটা হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। যদিও সেটা তখন এতটা বর্ণাঢ্য ছিল না। সেই শোভাযাত্রার একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও ছিল। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিজ-নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছিলেন অনেক শিল্পী-সাহিত্যিক। কিছুটা সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, বিশেষ করে চিত্রশিল্পীরা এই মঙ্গল শোভাযাত্রার পরিকল্পনা করেন।

১৯৮৫ সালে যশোরে চারুপীঠ নামের একটি সংগঠন এধরণের একটি শোভাযাত্রা করেছিল। যার উদ্যোক্তারা ঢাকায় মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনে ভূমিকা রাখেন এবং সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে চারুকলায়ও মঙ্গল শোভাযাত্রার শুরু হয়।

শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান জানান, মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে আমরা একটি বার্তা দেয়ার চেষ্টা করেছি যে অশুভকে তাড়িত করে আমরা একটি শুভাগমন ঘটাতে চাই। এর একটা রাজনৈতিক প্রেক্ষিতও ছিল।

শুরুতে অবশ্য আয়োজনের নামটা মঙ্গল শোভাযাত্রা ছিল না। প্রথমবার সেটির নাম ছিল আনন্দ শোভাযাত্রা। প্রতিবছর শোভাযাত্রার অন্যতম অনুষঙ্গ থাকে এসব বাঁশ এবং কাগজের তৈরি নানা ভাস্কর্য। যা তৈরি হয় কোন একটি প্রতিপাদ্যের ওপর ভিত্তি করে।

মতামত