টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বিডিআর হত্যার মামলার আপিলের শুনানি শেষ, রায় যে কোনো দিন

চট্টগ্রাম, ১৩ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: বহুল আলোচিত পিলখানা বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও ফৌজদারি আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। যে কোনো দিন রায় ঘোষণা করা হবে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মৃত্যুদণ্ড, ২৫৬ জনকে যাবজ্জীবন ও খালাস পাওয়াদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজার আবেদন জানান। আদালত এই তিনটি আবেদন খারিজ করে দেন এই বিবেচনায় যে, রাষ্ট্রপক্ষ সঠিক সময়ে আপিল করেনি।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরোয়ার কাজল। আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এম আমিনুল ইসলাম।

২০১৫ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ড মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানির জন্য বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা সদরদপ্তরে রক্তাক্ত বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান।

ওই ঘটনার পর ৫৭টি বিদ্রোহের মামলার বিচার হয় বাহিনীর নিজস্ব আদালতে। আর হত্যাকাণ্ডের বিচার চলে বকশিবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত মহানগর দায়রা জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে।

ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এই হত্যা মামলার যে রায় ঘোষণা করেন, তাতে ১৫২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

এ মামলার সাড়ে ৮৫০ আসামির মধ্যে ওই রায়ের দিন পর্যন্ত জীবিত ছিলেন ৮৪৬ জন। তাদের মধ্যে ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই তালিকায় ছিল বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু (প্রয়াত) ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীও।

পাশাপাশি অস্ত্র লুটের দায়ে তাদের আরো ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জারিমানা, অনাদায়ে আরো দুই বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারক।

এছাড়া ২৫৬ আসামিকে তিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। কারো কারো সাজার আদেশ হয় একাধিক ধারায়।

অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় রায়ে ২৭৭ জনকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত। ওই রায়ের এক বছরেরও বেশি সময় পর আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টে এল।

মতামত