টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে বান্দরবানে বর্ষবরণ সাংগ্রাই শুরু

চট্টগ্রাম, ১৩ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: বান্দরবান পার্বত্য জেলায় আদিবাসী ঐতিহ্যের সাজে বর্ণিল শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে মারমা আদিবাসীদের পাঁচ দিনব্যাপী বর্ষবরণ উৎসব সাংগ্রাই শুরু হয়েছে।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) সকালে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের আয়োজনে বান্দরবান শহরের রাজারমাঠ থেকে বর্ণিল শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজার মাঠে শেষ হয়।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে র্যা লিতে অংশগ্রহণ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনির্বান চাকমা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হারুন অর রশীদ, সিভিল সার্জন উদয় শংকর চাকমা, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ক্য সা প্রু মার্মা, লক্ষীপদ দাস, ফিলিপ ত্রিপুরা, উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি হ্লা গ্য চিং মার্মা, সাধারণ সম্পাদক কো কো চিংসহ আরো অনেকে। এ সময় মারমা, ত্রিপুরা, চাকমা, বম, লুসাই, চাক, খুমীসহ ১২টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির নারী পুরুষ আদিবাসী তরুণ-তরুণী তাদের ঐতিহ্য অনুসারে শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহন করেন।

সাংগ্রাই উৎসব উৎযাপন কমিটির সূত্রে জানা যায়, ১৪ এপ্রিল দুপুরে উজানী পাড়ার পাশ্ববর্তী সাঙ্গুনদীতে বৌদ্ধ মূর্তিস্নান। ১৫ ও ১৬ এপ্রিল পুরাতন রাজার মাঠে মারমা আদিবাসী তরুণ-তরুণীরা জলকেলিতে মেতে উঠবে। সন্ধ্যায় তারা আনন্দে মেতে উঠবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে। ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত রয়েছে মন্দিরে মন্দিরে ধর্ম দেশনা শ্রবণ, বিশেষ প্রার্থনাসহ ছোয়াইং দান অনুষ্ঠান।

সাংগ্রাই উৎসব উৎযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কো কো চিং বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ উৎসবে মেতে উঠেছে আদিবাসীরা। বর্ষবরণ উৎসবকে ঘিরে তিন পার্বত্য জেলায় শুরু হয়েছে আনন্দের বন্যা। দেশের অন্যতম পর্যটন শহর বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ির বিশেষ করে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা সম্প্রদায় পুরাতন বর্ষকে বিদায় ও নবর্বষকে স্বাগত জানিয়ে বর্ষ বিদায় ও বর্ষবরণ উৎসব উদযাপন করে। আর এ উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ে পর্যটকদের আগমন বাড়ার কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।’

এদিকে বুধবার রাতে (১২ এপ্রিল) তংচঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে জেলা শহরের বালাঘাটায় বিষু উৎসব উৎযাপন করা হয়। এ সময় আদিবাসী তংচঙ্গ্যারা মেতে উঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও তাদের ঐতিহ্যবাহী ঘিলাখেলা প্রতিযোগিতায়। পাহাড়ের ভিন্নধর্মী বর্ষবরণের এই উৎসবকে ঘিরে তিন পার্বত্য জেলায় হাজার হাজার পর্যটকের আগমন ঘটে। এ সময় হোটেল -মোটেলগুলোতে সিট সংকট দেখা দেয়।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, উৎসবকে ঘিরে জেলার উপজেলাগুলোর উৎসবস্থলেও কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চাকমাদের ভাষায় এ উৎসবকে বিঝু, ত্রিপুরাদের ভাষায় বৈসুক এবং মারমাদের ভাষায় সাংগ্রাই এবং তংচঙ্গ্যাদের ভাষায় বিসু এবং অহমিয়াদের ভাষায় বিহু নামে আখ্যায়িত করা হয়। তিন সম্প্রদায়ের প্রাণের এই উৎসবের নামের আদ্যক্ষর নিয়েই পাহাড়ের আদিবাসীরা এই উৎসবকে বলে ‘বৈসাবি’ উৎসব।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত