টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে

চট্টগ্রাম, ১৩ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: : সার্বজনীন নববর্ষ উৎসবের নানা আয়োজনের মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের এ বর্ণিল আয়োজনটি রঙে-ঢঙে পায় ভিন্ন এক মাত্রা। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতির জন্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্ববাসীর আগ্রহের বিষয়। পাশাপাশি দেশে রয়েছে উগ্রবাদীদের চোখ রাঙানি। তাই এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন হবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে।

চারুকলার বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গণজুড়ে এই মঙ্গল শোভাযাত্রার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। এগিয়ে চলছে মঙ্গল শোভাযাত্রার শিল্প-কাঠামো নির্মাণ।

‘আনন্দালোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর’ প্রতিপাদ্যে অকল্যাণ ও অশুভকে রুখে দেওয়ার প্রত্যয়ে বটমূলে বর্ষবরণের প্রভাতী অনুষ্ঠান শেষে বের হবে ২৯তম মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় গীতও হবে রবি ঠাকুরের গান, ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর’।

মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নিসার হোসেন বলেন, এবার আমরা অর্জনকে উদযাপন করব। সে জন্য বিগত বছরগুলোতে যেসব শিল্পকাঠামো মঙ্গল শোভাযাত্রার সম্মুখভাগে ছিল, সেগুলোকে ফিরিয়ে আনা হবে। যেমন ১৯৮৯ সালের প্রথম শোভাযাত্রার ঘোড়া ও বিশাল বাঘের মুখ এবারের শোভাযাত্রায় থাকছে। থাকছে সমৃদ্ধির প্রতীক হাতি। এ ছাড়া বাংলাদেশের সমুদ্র বিজয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবির শিল্পকাঠামোগুলোও এবার ফিরিয়ে আনা হবে। সে সঙ্গে আমাদের তরুণ সমাজ জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে, তাদেরকে সেই অন্ধকার পথ থেকে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হবে।’

বরেণ্য শিল্পী অধ্যাপক রফিকুন নবী গত ১৯ মার্চ এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতির উদ্বোধন করেন। এবার চারুকলার শিক্ষকদের নির্দেশনায় শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছে অনুষদের ১৮ ও ১৯তম ব্যাচ। সব মিলিয়ে ৩৬০ শিক্ষার্থী এবারের শোভাযাত্রার প্রস্তুতিতে কাজ করছেন। যাদের অন্যতম তত্ত্বাবধায়ক পলাশ দত্ত।

জানা গেছে, এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় শোভা পাবে সর্বমোট ১২টি শিল্প কাঠামো। মূল শিল্প কাঠামোটি হচ্ছে ২৫ ফুট উচ্চতার সূর্যের মুখ। যার একপ্রান্তে থাকবে হাস্যোজ্জ্বল মুখশ্রী আর অন্যদিকে থাকবে সূর্যের বিপরীতে বীভৎস কদাকার মুখ। শুভ ও অশুভ মানুষের অন্তনির্হিত এই দুই রূপ তুলে ধরা হবে। সে সঙ্গে ছোট ছোট আরো ১৬টি হাস্যোজ্জ্বল সূর্য মুখ থাকবে।

এবার শোভাযাত্রা আবার ফিরে আসছে সমুদ্রবিজয়ের স্মারক হিসেবে তৈরি করা ময়ূরপঙ্খী নাও। এই শিল্প-কাঠামোটির উচ্চতা হবে ২৫ ফুট। প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রায় ঠাঁই পাওয়া হাতি, ঘোড়া, বাঘ ও টেপা পুতুলও স্বরূপে ফিরছে এবারের আয়োজনে। এ ছাড়া বিশাল কদাকার মুখের এক দানবের শিল্প কাঠামোও নির্মিত হচ্ছে, যা দিয়ে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের কুৎসিত মুখটি আবারও তুলে ধরা হবে জাতির সামনে। এ ছাড়া শোভাযাত্রায় শোভা রাজা-রানির মুখোশসহ নানা অনুষঙ্গ।

শুক্রবার সকাল ৯টায় বের হবে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা। শোভযাত্রার উদ্বোধন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

বিভিন্ন লোকজ অনুষঙ্গ আর বিশাল আকৃতির সব বাহন নিয়ে এ শোভাযাত্রা চারুকলার সামনে থেকে বের হয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল (সাবেক রূপসী বাংলা) হোটেল চত্বর ঘুরে টিএসসি প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চারুকলার সামনে এসে শেষ হবে।

এ বছর প্রথমবারের মতো দেশের ৩০ হাজার সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ থেকে বের হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই শোভাযাত্রা বের করার নির্দেশ দিয়েছে।

এ ছাড়া বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিভাগীয় শহর, জেলা শহর ও সকল উপজেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনসহ আলোচনা সভা ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করবে স্থানীয় প্রশাসন। ইউনেস্কো কর্তৃক মঙ্গল শোভাযাত্রাকে স্পর্শাতীত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকে গুরুত্বারোপ করে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পয়লা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হবে।

এদিকে চারুকলার শিক্ষকদের চিত্রকর্ম নিয়ে শুরু হয়েছে বিশেষ প্রদর্শনী। পয়লা বৈশাখ পর্যন্ত এ প্রদর্শনী চলবে। প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন শিল্পী হাশেম খান, রফিকুন নবী, আবদুস শাকুর শাহ, অলোকেশ ঘোষ, আবদুল মান্নান, শিশির ভট্টাচার্য, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, জামাল আহমেদসহ খ্যাতিমান শিল্পীরা।

মতামত