টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও তার দুই সহযোগীর ফাঁসি কার্যকর

চট্টগ্রাম, ১২ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল বিপুলের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। বুধবার রাত ১০টায় কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে এ দু’জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেলসুপার মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া একই সময়ে সিলেট কারাগারে কার্যকর করা হয় আসামি দেলোয়ার হোসেন রিপনের ফাঁসি। বুধবার রাত ১০টায় ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে উভয় কারাগারে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। বর্তমানে জঙ্গিদের লাশ গ্রামে পাঠানোর আনু্ষ্ঠানিকতা চলছে।

এর আগে রাত ৭টা ৫৭ মি‌নি‌টে কারাগারে প্রবেশ করেন আইজি প্রিজন ব্রি‌গে‌ডিয়ার জেনা‌রেল সৈয়দ ইফ‌তেখার উদ্দিন, ৭টা ৪০ মি‌নি‌টে কারাগা‌রে প্র‌বেশ ক‌রে‌ন অতি‌রিক্ত আইজি প্রিজন ক‌র্নেল ইকবাল হো‌সেন এবং বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ডিআইজি প্রিজন তৌহিদুল ইসলাম কারাগারে প্রবেশ করেন। জেলা প্রশাসক এস এম আলম এবং সিভিল সার্জন সৈয়দ মঞ্জুরুল হক রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে কারাগারে প্রবেশ করেন।

কারা সূত্রমতে, ফাঁসি কার্যকর করার জন্য প্রধান জল্লাদ রাজু ও তার দুই সহযোগী শহীদুল ইসলাম ও ইকবাল হোসেনকে বাছাই করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত দু’জনকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তওবা পড়ান কাশিমপুর কারা মসজিদের ইমাম মাওলানা হেলাল উদ্দিন।

দুপুরের দিকে মুফতি আব্দুল হান্নান ও শরীফ শাহেদুল বিপুলের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের চিকিৎসক মিজানুর রহমান। তারা সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি। সন্ধ্যার পর আরেক দফা তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় তাদের।

সকালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুফতি আবদুল হান্নানের সঙ্গে তার স্বজনেরা দেখা করেছেন। মুফতি হান্নানের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও বড় ভাই কারাগারে এসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আর দুপুরে দেখা করেন একই মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই ভাইও। মুফতি হান্নানের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তার স্বজনদের কাছে মঙ্গলবার খবর পাঠিয়েছিল কারা কর্তৃপক্ষ।

২০০৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর সিলেটে গ্রেনেড হামলা ও তিনজন নিহত হওয়ার মামলায় মুফতি হান্নান এবং তার সহযোগী বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগেও তা বহাল থাকে।

রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) তিনজনের করা আবেদন খারিজ হয়। গত ২৭ মার্চ তিনজনই প্রাণভিক্ষা চেয়ে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন। গত রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, তাদের প্রাণভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতি নাকচ করেছেন।

কে এই মুফতি হান্নান?
মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সি ওরফে মুফতি হান্নান। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হুজি-বি ও হরকাতুল জিহাদের অন্যতম শীর্ষ নেতা। ২১ আগস্ট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে বোমা হামলা, ২০০১ সালে রমনায় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলাসহ সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এই হান্নান।

গোপালগঞ্জে জন্ম নেয়া হান্নান সেখানকার মাদ্রাসায় পড়াশোনা শুরু করেন। এরপর ১৯৮৭ সালে পাকিস্তানের করাচিতে নিউ টাউন মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখানেই জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত হন তিনি।

১৯৮৮ সালে তিনি পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে রণাঙ্গনে যুদ্ধে অংশ নেন এবং আহত হন। বাংলাদেশে ফিরে ১৯৯৪ সালে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশে যোগ দেন।

শুরুতে কোটলীপাড়া থানার প্রচার সম্পাদক ছিলেন। কিন্তু দ্রুতই তার সাংগঠনিক দক্ষতা, তার দুর্ধর্ষতার সুবাদে কেন্দ্রীয় নেতা হয়ে ওঠেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও মুফতি হান্নানকে দুর্ধর্ষ জঙ্গি নেতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তার বিশেষত্ব হলো তিনি সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও নিজে বিভিন্ন জঙ্গি হামলার প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকেছেন।

জঙ্গি হান্নান আফগান স্টাইলে বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার তৎপরতা চালাচ্ছিলেন। প্রথমে দেশি বোমা ব্যবহার করলেও পরে পাকিস্তান থেকে গ্রেনেড সংগ্রহ করেন। এছাড়া বোমা বানানো এবং আক্রমণ বিষয়েও তার সামরিক প্রশিক্ষণ আছে এবং এ নিয়ে তিনি প্রশিক্ষণ দিতেন বলেও গণমাধ্যম সূত্রে উঠে এসেছে।

সূত্র বলছে, হরকাতুল জিহাদই বাংলাদেশে প্রথম জঙ্গি হামলা শুরু করে। যার শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৯ সালে যশোরে উদীচির অনুষ্ঠানে বোমা হামলার মাধ্যমে। সেই ঘটনার পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে মুফতি হান্নান নিজেই ছিলেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুফতি হান্নানের নেতৃত্বে ও পরিকল্পনায় সাত বছরে ১৩টি জঙ্গি হামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১০১ জন মানুষ নিহত হয়েছেন আর আহত হয়েছেন ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ।

মতামত