টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফাঁসির মঞ্চ ‘প্রস্তুত’, নিরাপত্তা জোরদার

চট্টগ্রাম, ১২ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: জঙ্গি দল হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও তার দুই সহযোগীর মৃত্যুদণ্ড কখন কার্যকর করা হবে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার এবং সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

দুই কারাগারের কর্মকর্তারা বলছেন, ইতোমধ্যে জল্লাদ বাছাই করে ফাঁসির মঞ্চে মহড়া সম্পন্ন হয়েছে। আসামিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। এখন কেবল সরকারের চূড়ান্ত সংকেতের অপেক্ষা।

বুধবার সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, রায় কার্যকরের সব প্রস্তুতি কারা কর্তৃপক্ষ শেষ করে এনেছে। এখন ফাঁসি কার্যকর করা হতে পারে ‘যে কোনো সময়’।

তবে কারাগার সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, সব ঠিক থাকলে বুধবার মধ্যরাতের আগেই তিন জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করা হতে পারে।

তিন জঙ্গির মধ্যে মুফতি হান্নান ও শরীফ শাহেদুল বিপুল আছেন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে। আর সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন দেলোয়ার হোসেন রিপন।

এক যুগেরও বেশি সময় আগে সিলেটে ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যার মামলায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় এসেছে সর্বোচ্চ আদালত থেকে।

ওই রায় পুনর্বিবেচনা এবং অপরাধ স্বীকার করে তাদের প্রাণভিক্ষার আবেদনও নাকচ হয়ে যাওয়ায় এখন কেবল ফাঁসি কার্যকরের অপেক্ষা।

নিয়ম অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে আসামির সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়। মুফতি হান্নানের ভাই, স্ত্রী ও দুই মেয়ে বুধবার সকালেই কাশিমপুরে গিয়ে সাক্ষাৎ করে এসেছেন। ওই কারাগারে বন্দি দুই ভাইকেও হান্নানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

শেষ দেখা করার জন্য সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছেছেন রিপনের পরিবারের সদস্যরাও। তবে বিপুলের পরিবারের সদস্যরা সন্ধ্যা পর্যন্ত আসেননি বলে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান।

কশিমপুর কারাগার
মুফতি হান্নানের পরিবারের সদস্যরা সকালে কামিশপুর কারাগার ঘুরে যাওয়ার পর বিকালের দিকে বদলে যেতে থাকে কারাগারের সামনের দৃশ্যপট।

বিকাল ৪টার দিকে ডিআইজি প্রিজন মো. তৌহিদুল ইসলাম কারাগারে প্রবেশের পরপরই কমিউনিটি পুলিশের প্রায় ত্রিশজনের একটি দল কারাফটকের আসেন। সাড়ে ৪টার দিকে কারাগারের যাওয়ার সড়কের দুপাশের সব দোকানপাট বন্ধ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া আশপাশের মানুষকে কারাগারের সামনের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

বিকাল ৫টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দলকে কারাফটকের সামনে অবস্থান নিতে দেখা যায়। একটু পর দেখা যায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যদের। কারাগারের সামনের সড়কে টহল দিতে দেখা যায় র‌্যাবের একটি গাড়ি।

সোয়া ৫টায় দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি কারাগারে প্রবেশ করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দুটি অ্যাম্বুলেন্স কারাগারে প্রবেশ করে।

হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান শরীফ শাহেদুল বিপুল (ফাইল ছবি) শরীফ শাহেদুল বিপুল (ফাইল ছবি) একজন কারা কর্মকর্তা জানান, ফাঁসি কার্যকর করার জন্য প্রধান জল্লাদ হিসেবে রাজু এবং তার সহযোগী হিসেবে শরিফুল ইসলাম ও ইকবাল হোসেনকে বাছাই করে রাখা হয়েছে। কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্সের ইমাম মাওলানা মো. হেলাল উদ্দিনকে আসামিদের তওবা পড়ানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ফাঁসি কার্যকরের জন্য ইতোমধ্যে মহড়াও হয়েছে।
দুপুরের দিকে কারা চিকিৎসক মো. মিজানুর রহমান ফাঁসির দুই আসামি মুফতি হান্নান ও শরীফ শাহেদুল বিপুলের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে যান। সন্ধ্যার পর আরেক দফা তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে।

কারাফটক থেকে প্রায় ১০০ গজ এলাকায় কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বিকাল থেকেই। সংবাদমাধ্যমের যানবাহনকেও ব্যারিকেডের ভেতর যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ সন্ধ্যা ৭টার কিছুক্ষণ আগে কারাগারের বাইরে অপেক্ষায় থাকা সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

তিনি বলেন, “ফাঁসির সময় জানি না। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে। কেবল কারাগার নয়, পুরো জেলার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।”

পুলিশ সুপার বলেন, “যদি আজ ফাঁসি হয়, তাহলে নিরাপত্তা দিয়ে লাশ বাড়ি পৌছে দেওয়ার ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।”

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার
কাশিমপুরের মতই সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারেও পরিস্থিতিও বিকালের পর থেকে পাল্টাতে থাকে।

বিকাল ৫টার দিকে বন্দর বাজার থেকে জেইল রোড পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারাগারের আশপাশে সাধারণ মানুষের চলাচলও নিয়ন্ত্রিত করা হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার ফয়সল মাহমুদ বলেন, “জঙ্গি রিপনের ফাঁসির রায় কার্যকর সামনে রেখেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না হয়, সে ব্যস্থাই আমরা নিচ্ছি।”

দেলোয়ার হোসেন রিপন (ফাইল ছবি) দেলোয়ার হোসেন রিপন (ফাইল ছবি) এ কারাগারে থাকা জঙ্গি রিপনের প্রায় ২৫ জন আত্মীয়-স্বজন সন্ধ্যা ৭টার আগে আগে কুলাউড়া থেকে সিলেট কারাগারে পৌঁছান।
তারা বেরিয়ে গেলে বাকি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আরও গতি পাবে বলে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে কারাগার সংশ্লিষ্টরা জানান।

এ কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার ছগির মিয়া জানান, তাদের সব প্রস্তুতি শেষ। প্রধান জল্লাদ ফারুকের নেতৃত্বে চার জন জল্লাদ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাদের সহযোগী হিসেবে থাকবে আরও ছয় জন।

তিনি বলেন, সিলেট কারাগারের ২২৮ বছরের ইতিহাসে এ পর্যন্ত ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। হরকাতুল জিহাদের দেলোয়ার হোসেন রিপন হবেন সপ্তম ব্যক্তি। – বিডিনিউজ

মতামত