টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ছাত্রদল নেতা নুরু হত্যার ঘটনায় আদালতে অভিযোগ স্ত্রীর

চট্টগ্রাম, ১২ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রামে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল আলম নুরু হত্যার ঘটনায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন তার স্ত্রী সুমি আক্তার। এতে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৫-৬জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মাসুদ পারভেজের আদালতে এই অভিযোগপত্রটি দাখিল করা হয়।

অভিযোগে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিরা হলেন- রাউজান থানার নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শেখ মোহাম্মদ জাবেদ, বাবুল মেম্বার, খালেক মেম্বার, জসিম, সেকান্দর, নাসের প্রকাশ টাইগার নাসের, এমরান, মো. হাসান, নুরুল ইসলাম, লিটন, মেহেদি, ভূপেষ বড়ুয়া ও রব্বান।

বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার বলেন, দন্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় করা এই অভিযোগপত্রটি আদালত গ্রহণ করেছেন। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় নুরুর মৃত্যুর ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে ২০ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জানাতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, নগর পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ সুপারকে আদেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত থানাগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতার নির্দেশ দেন। এরপরই আদালত অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করবেন কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।

এর আগে গত ৩০ মার্চ সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রামের রাউজান থানাধীন বাগোয়ান ইউনিয়নের কর্ণফুলী নদীর তীরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম নুরুর গুলিবিদ্ধ লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে বিকেল ৪টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নুরুর পরিবারের অভিযোগ, আগেরদিন বুধবার রাত ১২টায় এসআই জাবেদের নেতৃত্বে সাদাপোশাকের কয়েকজন লোক নুরুকে চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরা এলাকার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নুরুর পরিবার মামলা করতে রাজি না হওয়ায় রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল অজ্ঞতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে গত ৩ এপ্রিল নুরুল আলম নুরু হত্যা মামলা তদন্তে অপারগতা জানিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা। একই সাথে চিঠিতে মামলাটির তদন্ত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অথবা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দিয়ে করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার বলেন, ভিকটিমের পরিবার যদি কোনো মামলা না করলে সেক্ষেত্রে পুলিশ বাদি হয়ে অপমৃত্যু মামলা করতে পারে। কিন্তু পুলিশ আরেকটি হত্যা মামলা করে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করেছে। আবার অন্যদিকে পুলিশ সুপার তদন্ত করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা অগ্রহণযোগ্য। আমরা আদালতের আদেশে সন্তুষ্ট।

মতামত