টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পাকিস্তান দূতাবাসের দখল থেকে ফুটপাত উদ্ধার

চট্টগ্রাম, ১১ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: মানুষের চলার পথ শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা পাকিস্তান দূতাবাস অবশেষে তার দখলদারিত্ব ছাড়লো। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক দূতাবাসে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পর এই দখলদারিত্ব ছেড়েছে তারা।

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশান-২ এর ৭১ নম্বর সড়কের পাশের ফুটপাতের এই দখল ছাড়ে পাকিস্তান দূতাবাস। হাঁটার পথের দখল ছাড়তে আগের দিনই দূতাবাসটিকে চিঠি দিয়েছিল সিটি করপোরেশন। কিন্তু তারা উদ্যোগ নেয়নি।

তবে মেয়র আনিসুল সেখানে নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর বের হয়ে এসে তিনি ফুটপাতের স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন। এরপর পাকিস্তান দূতাবাদের কর্মীরা সেগুলো সরিয়ে নেয়। দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি জা‌মিল আক্তার খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ফুটপাতের মুখে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখার পাশাপাশি মানুষ যেন চলাচল করতে না পারে, সে জন্য তারা সেখানে কংক্রিটের তৈরি বড় বড় টব রেখেছিল। আর এ কারণে পথচারীদেরকে হাঁটতে হতো মূল সড়ক ধরে। এতে তাদের চলার পথ যেমন হয়ে উঠতো ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি যান চলাচলেও ঘটতো ব্যাঘাত।

বেশ কিছু দূতাবাস একই কাজ করেছিল। গত ১ মার্চ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিসবাহুল ইসলামের সই করা চিঠিতে মোট আটটি দূতাবাসকে ফুটপাতের স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ করা হয়। এরপর ৪ মার্চ ফুটপাত উন্মুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। পরে ফুটপাত উন্মুক্ত করে কানাডা দূতাবাস। আর আজ মঙ্গলবার ফুটপাতের দখল ছাড়ার কথা জানায় ইতালীয় দূতাবাস।

সকালে গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কে ইতালীয় দূতাবাসের সামনের অবৈধ ব্লক উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে সিটি করপোরেশন।

সেখানে উপস্থিত মেয়র আনিসুল হক বলেন, ‘কূটনৈতিক এলাকায় ফুটপাত দখল করে যেসব ব্লক বসানো হয়েছিলো সেগুলো সরিয়ে নিতে সবাইকে তিন মাস আগে চিঠি দেয়ার পর অনেকেই সহযোগিতা করেছেন। যারা সহযোগিতা করছে না তাদেরকে আরও একবার নির্দেশ দেয়া হবে। এরপরও না মানলে উচ্ছেদ করা হবে। তবে সবকিছু হবে আলোচনার ভিত্তিতে।’

চিঠি পেয়েও দখল ছাড়েনি পাঁচ দূতাবাস

১ মার্চ সিটি করপোরেশন যেসব দূতাবাসকে চিঠি দিয়েছিল তাদের মধ্যে জার্মানি, ফ্রান্স, ইউকে, অস্ট্রেলিয়া এবং তুরস্ক দূতাবাস তাদের কম্পাউন্ডের বাইরের ফুটপাতের দখল এখনও ছাড়েনি। যদিও তাদেরকে এক মাসের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেয়া হয়েছিল।

এদের মধ্যে অস্ট্রে‌লীয় দূতাবাস ফুটপাত দখলের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থাও অচল করে দেয়। ফলে এই সড়কে পানি জমে গিয়েছিল। মেয়র আজ এই দূতাবাসে গিয়ে কথা বলেন কর্মকর্তাদের সঙ্গে। পরে তারা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করে।

মেয়র আনিসুল জানান, একবার চিঠি দেয়ার পরও ব্যবস্থা না নেয়ায় জার্মান ও সৌদী দূতাবাসকে ফুটপাতের দখল ছাড়তে দ্বিতীবারের ম‌তো চি‌ঠি দিয়েছেন তারা।

মেয়র বলেন, ‘সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য ফুটপাতগুলোকে উপযুক্ত করতে হবে। দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা দেখেব। আমাদের জনগণকে চলতে দিতে হবে।’
ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানে বেশ কঠোর ঢাকা সিটি করপোরেশন। গত ১৮ মার্চ গুলশানে এক অনুষ্ঠানে মেয়র আনিসুল বলেছিলেন, ‘ফুটপাত দখল করা স্থাপনা সরিয়ে না নিলে প্রয়োজনে বুলডোজার চালানো হবে।’

মতামত