টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘খাওয়ার স্বাধীনতায়’ রিপেয়ার বাংলাদেশ (শেষ পর্ব)

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস

চট্টগ্রাম, ১১ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: : গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে অনলাইন ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন মিশন অব হ্যাপীনেসের উদ্যোগে হয়ে গেলো খাওয়ার স্বাধীনতা নামক ব্যতিক্রমধর্মী একটি অনুষ্ঠান। যেখানে চট্টগ্রামের প্রায় ২০০ গরিব পরিবারের মা ও ছেলে সন্তানদের অবাধে খাওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয়।

আর এই স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন রিপেয়ার বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা কর অঞ্চল-১ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত কর কমিশনার জনাব মো. বজলুল কবির ভূঞা। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, অনলাইন ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন মিশন অব হ্যাপীনেস অনুষ্ঠানে শ-খানেক গরিব লোকদের খাওয়ানোর কথা বলেন। এতে খরচের যাবতীয় ব্যয়ভার মেটানোর দায়িত্ব নেন সংগঠনের আয়োজকরাই। কিন্তু আরও ৫০ জন বাড়ানোর প্রস্তাব করি আমি। যার বাবদে ৫ হাজার টাকা খরচ মেটানোর উদ্যোগ নেই।

এরপর খাওয়ার এই আয়োজনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানানো হলে আমেরিকা থেকে আমার এক শুভাকাঙ্খি যিনি নিজের নাম পর্যন্ত প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি ৫০ জনের খাওয়ার খরচ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে কুমিল্লা থেকে আমার আরেক বন্ধু ৫০ জনের খাওয়ানোর প্রস্তাব করেন। একইভাবে আরও কয়েকজন এতে অর্থ দিয়ে সহযোগীতা করেন। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল খাওয়ার স্বাধীনতা অনুষ্ঠানের ব্যয়ভার মিটে গেল।

বজলুল কবির বললেন, আমি চিন্তা করলাম, শুধু খাওয়ার জন্য কত যন্ত্রণাই না সইতে হয় অবহেলিত মানুষগুলোকে। নিগ্রহ হতে হয় মানবতাকে। দু‘বেলা দু‘মুঠো খাবারের জন্য গৃহকর্মী হিসেবে জুতো পেটা, ঝাড়– পেটা এমনকি খন্তার ছ্যাকা খেতে হয় অবোধ শিশু-কিশোরকে। তবুও জোটে না খাওয়ার স্বাধীনতা।

কায়ীক শ্রমের বিনিময়ে গৃহকর্তা যা দেন তাই খেতে হয় নিগৃহীত মানুষগুলোকে। পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে গুমরে কেঁদে মরতে হয় মানবতাকে। শোষিত বঞ্চিত এমন অসহায় মানুষগুলোর চিন্তা মনে এসে ভীড় করে মিশন অব হ্যাপীনেসের উদ্যোগ। সে চিন্তা থেকে অনুষ্ঠানটির নাম রাখা হয় খাওয়ার স্বাধীনতা।

নগরীর অক্সিজেন এলাকার ক্রিয়েটিভ জুয়েলস স্কুল এন্ড কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে শুধু খাওয়া নয়, অবহেলিত শিশুদের নিয়ে দিনভর আযোজন করা হয়েছিল নানা খেলাধুলা। গান ও বাদ্য-বাজনা। এতে শিশুদের হাত তুলে দেওয়া হলো পুরস্কার।

পুরস্কার ও খাওয়া শেষে খুশি বঞ্চিত শিশু ও তাদের সাথে আসা মা-বাবারাও। খেলাধুলা, বক্তৃতা, গান, পেট ভরে ডিমের কোরমা, গরুর মাংস, মুরগি আর ডাল ভাত খেয়ে আনন্দের যেন শেষ ছিল না তাদের। খাওয়ায় নয় তাদের আনন্দ ছিল খাওয়ার স্বাধীনতায়। কারন এর আগে পেট পুড়ে ইচ্ছেমতো খাওয়ার স্বাধীনতা পায়নি এসব শিশু ও তাদের মা-বাবারা।

আরো……

মতামত