টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়িতে অগ্নিকান্ডে পুড়ে গেছে বসতঘর

খোলা আকাশের নিচে অসহায় এক পরিবার

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

চট্টগ্রাম, ১০ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: ফটিকছড়িতে অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এক বসতঘর। রবিবার দুপুরে ফটিকছড়ি পৌরসভাধীন বাঁশঘাটা সংলগ্ন ইসমাইল মজুমদার বাড়িতে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকার সিএনজি চালক আলমগীরের একমাত্র সম্ভল বেড়ার তৈরী বসতঘরটি সম্পূর্ণ ভষ্মিভূত হয়ে যায়। চুলার আগুন থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর পর ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনী ছুটে আসলেও তার আগে সব মালামাল ও ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘর থেকে কোন মালামাল বের করতে পারেনি। এলোমেলোভাবে পুড়া আসবাবপত্র পড়ে আছে। তিন কন্যাকে নিয়ে খোলা ভিটের দিকে চেয়ে আছেন আলমগীরের স্ত্রী নাসিমা আকতার।

তিনি বলেন, নামমাত্র স্বামী রয়েছেন; তার আরো দু‘টি স্ত্রী বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। তিন কন্যা সন্তানকে নিয়ে কোন রকমে ভাঙ্গা ঘরটিতে দিনযাপন করতাম। শেষ সম্ভলটুকু পুড়ে ছাই হয়ে গেল । আমার মাথা গুজাবার ঠাঁইও যে নেই এখন। আমি কি করবো এখন ?

নবম শ্রেনীতে পড়–য়া হিরা মনি নামক তার এক কন্যা সন্তান আগুনে পুড়ে যাওয়া বই দেখিয়ে বলেন, ঘটনার সময় আমি যেক‘টা বইখাতা নিয়ে বিদ্যালয়ে ছিলাম তা কোন রকমে রক্ষা হলো। আমরা দুই বোনের বাকি সব বইপত্রও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

অগ্নিদুর্গত পরিবার আরো জানান, সরকারীভাবে তাদের কোন প্রকার সহযোগিতা করা হয়নি এখনো। পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর ফিরোজা বেগম এসে দেখে গেছেন। তারা জানালেন, অন্তত মাথা গুজার মতো একটি ঘর যদি তারা করার মতো সহযোগিতা পান তবেই দু:খ লাগব হবে।

এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি পৌর মেয়র ইসমাইল হোসেন বলেন, আমি স্থানীয় কাউন্সিলর দিয়ে পরিবারটির জন্য নগদ দুই হাজার টাকা ও কিছু শুকনো খাবার ও চাল পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছি। এবং উপজেলা পরিষদ থেকে সরকারীভাবে অনুদান প্রদান করতে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এ ছাড়া ব্যক্তি উদ্যেগে কিংবা সংগঠন থেকে যদি কারো সম্ভবপর হয় অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ রইল।

মতামত