টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মেয়র নাছিরের সমালোচনায় মুখর মহিউদ্দিন

চট্টগ্রাম, ১০ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের তীব্র সমালোচনা করলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, তারা সংসদে না গিয়ে বন্দরের চেয়ারম্যানের কক্ষে বসে থাকেন। আর নাছির সাহেব সিটি কর্পোরেশনে না এসে বন্দরে বসে থাকেন। সিটি কর্পোরেশনকে পাগলের আড্ডাখানা বানিয়েছেন।

আজ সোমবার বিকেলে নগরীর লালদীঘি মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘নাছির সাহেব, আপনি হেসে হেসে মানুষ খুন করতে পারেন। সংশোধন হয়ে যান। দুই মেয়রকে মন্ত্রীর মযার্দা দিলেও আপনাকে দেওয়া হয়নি। কারণ আপনি অথর্ব লোক। আপনি আওয়ামী লীগ করেন। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এসে আপনাকে সাবধান করে গেছেন। কিন্তু আপনার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। আজকের সভার পর থেকে আপনার অসৎ ইচ্ছা, চক্রান্ত বন্ধ রাখুন। তা না হলে কী করতে হবে- তা মহিউদ্দীন চৌধুরীর জানা আছে।

নগরীর আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিং পুল নির্মাণের উদ্যোগের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, স্টেড়িয়ামের পাশে আপনি সুইমিংপুল করবেন- এমন অপকর্ম কেন করছেন? বাচ্চাদের খেলাধূলা করার জায়গায় কেন সুইমিংপুল করবেন? এটা বন্ধ করুন। ১৫ দিন সময় দিলাম। না হলে আমাদের ছেলেরা সেটা ভেঙ্গে দেবে। আপনিতো বিজয় মেলার পক্ষে না । তা না হলে যেখানে বিজয় মেলা হয় সেখানে আপনি ব্যবসা করছেন। রেস্তেুারা ব্যবসা করছেন।

ট্রেডলাইসেন্স ফি বৃদ্ধি রোধ, পূর্ব নির্ধারিত গৃহকর বহাল, ইয়াবা, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী প্রতিরোধে সর্বাত্মক পুলিশি অভিযান, পাথরঘাটা মনোহরখালী পাইকারী আড়তদার মৎসবাজার বহাল রাখার দাবিতে আজ সোমবার বিকেলে লালদীঘি মাঠে এই সমাবেশ ডাকেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

সমাবেশে তিনি দুই এমপির কথা সরাসরি না বললেও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের কথা বারবার উল্লেখ করেন। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরী আর সাধারণ সম্পাদক হলেন আ জ ম নাছির উদ্দিন। তিনি নাছিরের বিরুদ্ধে পূর্ব ঘোষণা দিয়ে আজ সমাবেশ করেন।

মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়রের উদ্দেশে বলেন, আপনি গৃহকর ১৭ শতাংশ নিচ্ছেন। আমিও ১৭ শতাংশ দিতে রাজি আছি। ঘরের ট্যাক্স ৭ শতাংশ, পরিষ্কার বাবদ নিচ্ছেন ৩ শতাংশ, বিদ্যুৎ ৩ শতাংশ। ঢাকায় নিচ্ছে ১৩ শতাংশ। কিন্তু আপনি দুইটা ট্যাক্স বাড়িয়ে নিচ্ছেন।

চট্টগ্রামে বসবাসকারী আদি বাসিন্দা যাতে সব ছেড়ে চলে যায়- সে জন্য ট্যাক্স বাড়াচ্ছেন। এটা কি আপনার ইচ্ছা? এ ধরণের ইচ্ছা পরিহার করুন। ট্যাক্স নিবেন, না দিলে হুমকি দিচ্ছেন। কারো দুই গন্ডা জায়গা আছে। সেটা দিয়ে সন্তানদের নিয়ে কোন মতে চলতেছে।

সেগুলোতে করের নামে হুমকি দিয়ে তাদেরকে ঘর ছাড়া করার পায়তারা করছেন। হুমকি দিয়ে আমার বাবার জায়গায় বসবাস করা থেকে উচ্ছেদ করতে পারবেন না। যারা ট্যাক্স দিতে পারবে তাদের মাফ করে দেন।

মেয়রকে উদ্দেশ করে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, আর মাত্র দুই বছর সময় আছে। গৃহকর মানুষের বোঝা হয়েছে। এখন থেকে চিন্তা ভাবনা করুন। এখনো সময় আছে। বিজ্ঞ লোকদের সমন্বয় করে কিভাবে সমাধান করবেন তা ভাবুন। আমাকে যদি ডাকেন তাহলে আমিও যাব। কিন্তু তিনি আমার কাছে আসেন না। আমি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান থেকে শুরু করে সব কিছু নিজের আয়ত্ত্বে এনেছি। কিন্তু কর বাড়াইনি। আপনি ট্যাক্স বাড়াচ্ছেন কিন্তু নগরীর উন্নয়নতো করেননি।

পাথরঘাটা মনোহরখালীতে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কাজ করে। ২০-৩০ টা আড়ত আছে। নাছির সাহেব সেটা জোর করে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। হুমখি দিয়ে চলেছেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, জাতীয় শ্রমিক লীগ চট্টগ্রাম নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক এটলী, ১৪ দলের পক্ষে জাসদ নেতা জসিম উদ্দীন বাবুল, পরিবহন মালিক শ্রমিক লীগের সভাপতি জহুরুল আহমদ চৌধূরী, মহিলা নেত্রী হুসনে আরা, যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর বাবর, সাবেক কাউন্সিলর মমতাজ খান প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন সোনালী যান্ত্রিক মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতির সদস্য শামসুল আলম।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত