টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ক্লীন অপারেশন-৩ এ প্রথম বিপত্তি! (তৃতীয় পর্ব)

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস

চট্টগ্রাম, ০৯ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সিডিএ আবাসিক এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পর চট্টগ্রামের গন্ডি পেরিয়ে ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ে পৌছে যায় রিপেয়ার বাংলাদেশ। যা ছিল ক্লীন অপারেশন-৩।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থীদের অনুরোধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু এই অভিযানে প্রথম বিপত্তি আসে বলে জানান কর অঞ্চল-১ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত কর কমিশনার জনাব মো. বজলুল কবির ভূঞা।

ক্লীন অপারেশন-৩

বজলুল কবির ভূঞা বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সিডিএ আবাসিক এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু শিক্ষার্থী যারা রিপেয়ার বাংলাদেশের সদস্য তাদের প্রস্তাব আমার পক্ষে ফেলা সম্ভব হয়নি। যদিও আমাদের ছিল আর্থিক অসঙ্গতি ও নানা সীমাবদ্ধতা।

কিন্তু শিক্ষার্থীদের উৎসাহ-উদ্দীপণা আমাকে তাড়া করেছিল। এ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দারুণভাবে সমর্থন জানাচ্ছিলেন শুভাকাঙ্খিরা। ফলে নেমে পড়লাম ক্লীন অপারেশন-৩ এ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের বিষয়ে অবগত করা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।

চট্টগ্রাম থেকে ১৫-১৭ জনের একটি বহর নিয়ে ট্রেনে করে রাতেই রওনা দিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অভিযানে। সকালে পৌছেই অভিযান শুরু। যথারীতি ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে নিতে নিয়োগ করা হলো ৫ শ্রমিককে। ক্যাম্পাসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযানের একপর্যায়ে বিপত্তি ঘটে রোকেয়া হলের সামনে। যেখানে দেখা গেল বিশেষ কিছু ময়লা আবর্জনার স্তুপ। যা সরিয়ে নিতে আপত্তি জানান শ্রমিকরা।

শ্রমিকরা বলেন, জীবনে অনেক ধরণের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করেছি। কিন্তু এমন ময়লা-আবর্জনা আমরা কোন সময় পরিষ্কার করিনি। এটা অমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। বলতে গেলে তারা চলে যাওয়ার উপক্রম। তাদের নিয়ে চিন্তার মাঝে একপর্যায়ে পারিশ্রমিক ৫০০ টাকার স্থলে আরও ১০০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তাতে খুশি হয়ে কাজ শুরু করেন শ্রমিকরা।

দিনব্যাপী এ অভিযানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন ও কার্জনহলসহ পুরো চত্ব ঝকঝকে তকতকে হয়ে উঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলসহ অনেক শিক্ষক এ অভিযানে অংশ নেন। এ কাজে অংশ নিয়েছেন ঢাবিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দেড়শতাধিক শিক্ষার্থী। যাদের রিপেয়ার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র নাস্তা খাওয়ানো হয়েছে মাত্র। এতে আমাদের ১৫-১৬ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু এসব টাকা দিয়েছেন শুভাকাঙ্খিরা। আমার তেমন কোন টাকা খরচ হয়নি।

বজলুল কবির ভুঞা বলেন, রিপেয়ার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একের অপর অপারেশন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে তা নয়; পরিচালনা করা হয়েছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীদের সচেতনার বিষয়ে মোটিভেটেড কার্যক্রমও।

বিশেষ করে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের দাত-মুখ পরিস্কার, হাত ও পায়ের নখ, কাপড়-চোপড় ধোয়া, চুল কাটা, টয়লেট ও বাথরুম ব্যবহার এবং তা পরিস্কার করা ইত্যাদি বিষয়ে শ্রেণীশিক্ষার মতো করে আলোচনা করা হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার উপকারিতা সম্পর্কে জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা কতটুকু সচেতন হল না হল, তা পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমও চালানো হয়।

তিনি বলেন, এই মোটিভেশন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার উপকরণ যেমন, সাবান, হ্যান্ড ওয়াশ, টিস্যুসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ বিনামূল্যে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। এতে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জীবনে পরিবর্তন চলে আসে।

এরপর গত ২৭ মার্চ চট্টগ্রামে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ব্যতিক্রম এক অনুষ্ঠান। যাকে খাওয়ার স্বাধীনতা নামে পরিচালনা করা হয়। এই খাওয়ার স্বাধীনতা সম্পর্কে জানতে আগামিকাল চতুর্থ পর্বে চোখ রাখুন চট্টগ্রামের প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিটিজি টাইমস ডটকমে।

মতামত