টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

উগ্র জীবন পরিহার করে দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান ড.নদভী এমপির

শহীদুল ইসলাম বাবর
বিশেষ প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ০৮ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সাংসদ প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বলেছেন, সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোন শিক্ষা ইসলামে পাওয়া যায় না। যে কাজ কোরআন-হাদিস পরিপন্থি সে কাজ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব নয়। আল্লাহ পাকের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হলো মানুষ। এই শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকেও নির্মম ভাবে হত্যা করতে বিপদগামীরা আজ দ্বিধা করছেনা। ধর্মের নামেই করা হচ্ছে যতসব অধর্ম। তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মে জঙ্গীবাদ ও আত্মহননের কোন সুযোগ নেই। ইসলাম ও জঙ্গীবাদ সম্পূর্ণরূপে স্ববিরোধী। ইসলামের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোন সম্পর্ক থাকতে পারেনা। যারা করছে তারা ইসলাম কি তাও জানেনা। বিপদগামী যেসব মুসলমান তরুন যুব সমাজ ব্রেইনওয়াশের শিকার হয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে জঙ্গীবাদের মাধ্যমে আত্মঘাতী হামলা, নিরীহ মানুষ হত্যা করে বেহেশতে যাওয়ার আশা করছে তা কোনদিনই সম্ভব নয়। ইসলাম কোনদিনই সেটা বলেনি। আত্মঘাতি হামলা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। তিনি আরো বলেন, আজ সময় এসেছে জঙ্গীবাদের বিষাক্ত উত্থান স্বমূলে উৎপাটন করতে, তাদের অর্থের উৎস কোথায় তা বের করতে। গ্রাম-গঞ্জের নিরীহ ছেলেদের কারা ব্রেইনওয়াশ করে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিচ্ছে তা বের করতে হবে। ইসলামে যুদ্ধে পর্যন্ত সিভিলিয়ান হত্যা নিষেধ রয়েছে। স্পষ্ট নিষেধ রয়েছে- সম্পত্তি নষ্ট করা যাবেনা, গাছ কাটা যাবেনা। তিনি বলেন, যে কেউ জিহাদ ঘোষণা করতে পারেনা। শান্তিপূর্ণ পথ থাকলে কোনো অশান্তির পথে যেতে ইসলাম অনুমোদন করেনি। বর্তমান জঙ্গীবাদীতার জন্য কেবল মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, আলেম-ওলামারাই দায়ী- এর সাথে দ্বিমত পোষন করে তিনি বলেন, ইসলামের নামে যেহেতু সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদিতা চলছে সুতরাং কোরআন সুন্নাহর দৃষ্টিকোণ থেকে এসবের কূফল সম্পর্কে মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের খতীব ও ওলামা মাশায়েখদের ভূমিকা পালনে বিশেষ দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। শান্তির ধর্ম ইসলামকে কোনভাবেই কলঙ্কিত করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। তিনি ধর্মের নামে উচ্ছৃঙ্খল ও উগ্র জীবন পরিহার করে সবাইকে দেশের শান্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

“শেখ হাসিনার নির্দেশ, জঙ্গীমুক্ত বাংলাদেশ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে ৮ এপ্রিল শনিবার বিকাল ৩টায় ছদাহা টাইম ক্যাফ চত্বরে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া ওলামা পরিষদের উদ্যোগে জঙ্গীবাদ বিরোধী বিশাল সমাবেশে প্রফেসর ড. আবু আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দি নদভী এমপি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। পদুয়া হেমায়াতুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা সরোয়ার কামাল আজিজীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক আবুল হায়াত মোহাম্মদ তারেক। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) হাছানুজ্জামান মোল্লা,সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্যাহ, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফিজনুর রহমান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী, সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মাষ্টার ফরিদুল আলম, লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান নুরুচ্ছফা চৌধুরী,চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য আনোয়ার কামাল, মোঃ জসিম উদ্দিন, সাতকানিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল হোসেন, লোহাগাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ শাহজাহান (পিপিএম), সাতকানিয়া ওসি তদন্ত আবদুল জলিল। বক্তব্য রাখেন চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হাফিজুল হক নিজামী,গারাংগিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের নিজামী, সাতকানিয়া আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, আধুনগর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ খালেদ জামিল, গারাংগিয়া ইসলামিয়া রব্বানি মহিলা ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুরুল আলম ফারুকী, বাজালিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল আলম, মুহাদ্দিছ মাওলানা শাহ আলম, মাওলানা গোলাম রসুল কমরি, মাওলানা মাহবুবুল বশর আলকাদেরী, মাওলানা শফিক আহমদ নঈমী, অধ্যক্ষ মাওলানা ফরমানুল্লাহ, অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হাছান আনছারী, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রশিদ আল কাদেরী, অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল হক, অধ্যক্ষ মাওলানা গিয়াস উদ্দিন, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মান্নান শামসী, অধ্যক্ষ মাওলানা আবু নছর হাচ্ছান, বিভিন্ন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, মুহতামিম ও ওলামা মাশায়েখ। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান আ.ন.ম সেলিম চৌধুরী, চেয়ারম্যান মোসাদ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারম্যান এইচ.এম হানিফ, চেয়ারম্যান নেজামুদ্দিন, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রিদুয়ান, চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন, লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা এইচ.এম গণি সম্প্রাট, আব্দুল জব্বার চৌধুরী, সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা এরফানুল করিম চৌধুরী, লোহাগাড়া উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক জহির উদ্দিন, সদস্য সচিব ফজলে এলাহী আরজু প্রমুখ।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক আবুল হায়াত মোহাম্মদ তারেক বলেন, ইসলাম মানুষকে শান্তিপ্রিয়, বিনয়ী ও মহৎ গুণাবলীর অধিকারী হতে উদ্বুদ্ধ করে। একথা অনেকে বাস্তবে বেমালুম ভুলে বসেছে। তিনি বলেন, যদি আমার হাত ও মুখ থেকে অন্যরা নিরাপদ না থাকে তাহলে আমার কাজ প্রমাণ করে যে, আমি শান্তির ধর্ম ইসলামের অনুসারি নই। তিনি আরও বলেন, সব ধর্মের মানুষের প্রতি হৃদয়ে ভালোবাসা সৃষ্টি করতে হবে। যতদিন মানুষ মানুষকে ভালোবাসবেনা ততদিন পৃথিবী অশান্তই থেকে যাবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত