টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

হালদায় মা মাছ ডিম ছাড়ার অপেক্ষায়

চট্টগ্রাম, ০৮ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদী এলাকার হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাউজান উপজেলায় চৈত্র মাসে কয়েক দফা বজ্রপাতসহ বৃষ্টিপাত হয়েছে। বর্ষণের ফলে তিন উপজেলায় দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টির কারণে হালদা নদীর সংযোগ খাল, ছরায় কম বেশি পাহাড়ি ঢল দেখা দিয়েছে। গত অমাবস্যা ও অষ্টমী তিথিতে বর্ষণ হলে অনাবৃষ্টিতে শুকিয়ে যাওয়া খাল বিল নদীনালা বৃষ্টির পানিতে ভরে উঠছে।

প্রথম দুই দিনের হালকা ও ভারী বর্ষণে এ অবস্থা হলেও পরবর্তী বর্ষণে স্থানীয় খাল ও ছড়াতে পাহাড়ি ঢল দেখা দিয়েছে। চৈত্র মাসে প্রবল বর্ষণ হলে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়তে চলে আসে। আসন্ন পূর্ণিমা তিথিকে সামনে রেখে আকাশে ভারী মেঘের আনাগোনা ও বৃষ্টির আলামত দেখে বিভিন্ন শাখা খাল ও নদী যথা কর্ণফুলী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, চেংখালী, পোড়াকোপালী, সোনাইখাল, তেড়পাড়িখাল প্রভৃতি স্থান থেকে হালদা নদীতে কার্প জাতীয় মা মাছের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মা মাছ সাধারণত অমাবস্যা-পূর্ণিমায় অথবা অষ্টমী তিথিতে নদীতে ডিম ছাড়ে। সাধারণত ফাল্গুন-চৈত্রের দিকে সাংগু, মাতামুহুরী, কর্ণফুলীসহ বিভিন্ন শাখা নদী ও খাল থেকে মা মাছ ডিম ছাড়ার জন্য হালদা নদীতে চলে আসে। এখন চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথি চলছে।

ডিম আহরণকারী মো. শাহ আলম জানান, ‘প্রতিবছর চৈত্র থেকে বৈশাখ মাসে অমবস্যা বা পূর্ণিমা তিথির বৃষ্টিতে প্রবল স্রোত হলে হালদা নদীতে ডিম ছাড়ে মা মাছ। সোমবার অনেক বৃষ্টি হয়েছে। এখন শুধু দরকার পাহাড়ি ঢল। ডিম আহরণে আমরা অপেক্ষার প্রহর গুণছি।’

এদিকে আকাশে মেঘের আনাগোনা বজ্রপাত ও বৃষ্টির আলামত দেখে ডিম আহরণকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও বর্জ্যের কারণে নদীদূষণ, হালদা থেকে বালু উত্তোলন ও মাছ চোরদের কারণে ডিম আহরণকারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। চৈত্র মাসের শেষে ও বৈশাখ মাসের প্রথমে হালদা নদীতে মা মাছের ছাড়া ডিমের পোনা দ্রুত বর্ধনশীল। তাই ডিম আহরণকারীরা বৃষ্টির আভাস পেয়ে ডিম আহরণের সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তত হচ্ছেন।

পূর্ণিমার তিথির সময় পুণরায় বজ্রসহ প্রবল বর্ষণের ফলে নদীতে ঢলের সৃষ্টি হলে মা মাছ ডিম ছাড়তে পাড়ে বলে আশা প্রকাশ করেন ডিম আহরণকারীরা। পূর্ণিমার তিথির পরও যদি বজ্রসহ বর্ষণ অব্যাহত থাকে আসন্ন অষ্টমী ও অমাবস্যা তিথিতে হয়তো মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে।

ইতিমধ্যে ডিম আহরণকারীরা আকাশে মেঘের আনাগোনা দেখে ডিম সংগ্রহের জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। গত বছর নদীদূষণ, মাছ চোরদের তৎপরতা, নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে ডিমের পরিমাণ কম হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নদীতে অভিযান চালিয়ে ঘেরা জাল জব্দ করা হলেও জালের মালিককে পাওয়া যায়নি। অনেক সময় মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে অভিযানের খবর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দ্রুত মাছ চোরদের কাছে চলে যায় বলে এ ব্যাপারে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া যায় না বলে মৎস্য বিভাগ সূত্র গণমাধ্যমকে জানান। হালদার তীরে বসবাসকারীরা মনে করেন, ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, গ্রামপুলিশ, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্তরিক হলে মাছ চুরি রোধ করা যাবে।

মতামত