টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মমতার সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিস্তার আলোচনা

চট্টগ্রাম, ০৮ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তা চুক্তির বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭ আকাশ প্রদীপে সফর সঙ্গীদের নিয়ে রওনা হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। ভারতের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে দিল্লির পালাম টেকনিক্যাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

এ সময় বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর কথা ছিল ভারতের শিল্প প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়’র। কিন্তু কোনো ঘোষণা ও রাস্তায় বিধি-নিষেধ জারি ছাড়াই আচমকা দিল্লির পালাম টেকনিক্যাল বিমানবন্দরে হাজির হন দেশটির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা ও চা বিক্রেতা থেকে প্রধানমন্ত্রী বনে যাওয়া নরেন্দ্র মোদি। প্রটোকল ভেঙে স্বাগত জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

পালামে পৌঁছানোর পর মোটর শোভাযাত্রায় শেখ হাসিনাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাষ্ট্রপতি ভবন রাইসিনা হিলে। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মসিউর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো.শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ছাড়াও বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ভারতীয় কর্মকর্তারাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে এসেছেন। তার সঙ্গে কথা বলার অপেক্ষায় আছি। শেখ হাসিনা বলেন, তিনি তিস্তা চুক্তির বিষয়ে আশাবাদী।

এদিকে, সফরের প্রথম দিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নয়াদিল্লিতে সাক্ষাৎ করেন সুষমা। এ সময় তার হাতে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ বই সুষমা স্বরাজকে উপহার দেন তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ-মিয়ানমার বিষয়ক যুগ্ম সচিব শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন বলেন, সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে ৩০টিরও বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা এবং বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতাসহ দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়গুলো থাকবে চুক্তিতে।

রেলওয়ে, সড়ক ও জলপথের মতো বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে বাংলাদেশকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণসহায়তা দেয়ার কথাও রয়েছে নয়াদিল্লির। তবে তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন। তিনি বলেন, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে এখনো কাজ চলছে। তবে রাজ্য সরকার এই চুক্তিতে এখনও রাজি নয়।

মতামত