টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা মোদীর

চট্টগ্রাম, ০৬ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: চার দিনের সফরে ভারতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টা ৫ মিনিটে নয়াদিল্লির বিমান পালাম বিমান ঘাঁটির বিমানবন্দরে সফরসঙ্গীদের নিয়ে আবতরণ করলে শেখ হাসিনাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

মোদী বিমানের সিঁড়িতে গিয়ে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান। এসময় ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং সেদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জোম আলী বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয় লাল গালিচা সংবর্ধনা।

বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মোটর শোভাযাত্রা করে নিয়ে যাওয়া হবে রাইসিনা হিলে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে। এই সফরে সেখানেই থাকবেন তিনি।

২০১০ সালের পর শেখ হাসিনার প্রথম দ্বিপক্ষীয় এ সফরকে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিক কর্মকর্তারা।

এদিকে শেখ হাসিনার সফর সামনে রেখে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির রাস্তায় উড়ছে বাংলাদেশের পতাকা, শোভা পাচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছবি।

শুক্রবার বিকেলেই রাষ্ট্রপতি ভবনের লবিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এরপর রাতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর দেওয়া অভ্যর্থনা ও নৈশভোজে অংশ নেবেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির আমন্ত্রণে প্রথম কোনো দেশের সরকার প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি ভবনে থাকবেন হাসিনা।

শুক্রবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্দেশ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭ ‘আকাশ প্রদীপ’ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। এসময় বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও কূটনীতিক কোরের সদস্যরা।

ঐতিহাসিক সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রায় সাড়ে তিনশ। তাদের মধ্যে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতির নেতৃত্বে ২৫৭ সদস্যের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।

এই সফরে ভারতের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, পরমাণু বিদ্যুৎ, বিজ্ঞান ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৩৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ইতোমধ্যে জানিয়েছেন।

দিল্লীর বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টারর ফরিদ হোসেন জানান, ৮ এপ্রিল এখানে হায়দ্রাবাদ হাউজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনার পর একগুচ্ছ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনীর হিন্দি সংস্করণ উন্মোচন করবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

বিকালে মু্ক্তিযুদ্ধে নিহত ভারতীয় সৈনিকদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ৭ ভারতীয় সেনা পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা পত্র প্রদান করবেন। এদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ৪জন, বিমান বাহিনীর ১জন, নৌবাহিনীর ১জন এবং বিএসএফ-এর একজন শহীদ সেনা রয়েছেন।

৯ এপ্রিল সকালে প্রধানমন্ত্রী আজমীর শরীফ যাবেন। সেখানে খাজা মঈনউদ্দিন চিশিতি (রহঃ)-এর দরগাহ শরীফ জিয়ারত করবেন। একইদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সাথে দেখা করবেন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত এক নৈশ ভোজে যোগ দেবেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

১০ এপ্রিল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও ভারতের শীর্ষ শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের এক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। বিকালে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে দিল্লী ত্যাগ করবেন।

বৃহস্পতিবার ভারতের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বাংলাদেশি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সবাই আগ্রহ নিয়ে ওই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছি। এই বৈঠক আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাবে। গত তিন বছরে দুই দেশের আন্তঃসম্পর্কের উন্নয়নে ‘নজিরবিহীনভাবে’ সহযোগিতার সুযোগ সম্প্রসারিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর বলেন, আমি আপনাদের বিভ্রান্ত করতে চাই না। সত্যি বলতে আমার কাছে এই মুহূর্তে এমন কোনো কিছু নেই যাতে মনে করতে পারি, আগামী দুই দিনে নাটকীয় কিছু হতে পারে।

তবে কিছুটা আশার কথা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির আমন্ত্রণে এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হচ্ছে মমতার, যা তিস্তা নিয়ে অচলাবস্থা নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই জট খুলতে সময় লাগবে বলে মনে করেন ঢাকায় ভারতের সাবেক হাই কমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী। তবে তাতে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যান্য দিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে মনে করেন তিনি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত