টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বজুলল কবিরের রিপেয়ার বাংলাদেশের স্বপ্ন এখন হাজারো শিক্ষার্থীর চোখে

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস

চট্টগ্রাম, ০৭ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: কর অঞ্চল-১ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত কর কমিশনার জনাব মো. বজলুল কবির ভূঞার রিপেয়ার বাংলাদেশের স্বপ্ন এখন দেশের সবকটি সরকারি/বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পড়ুয়া হাজারো শিক্ষার্থী চোখে। যারা নিজেরাই অনুপ্রাণীত হয়ে কাজে নেমে পড়ছেন একের পর এক।

বছরের শুরুতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্লীন অপারেশন-১ পরিচালনার পর এসব শিক্ষার্থী নিজেরাই নগরীর সিডিএ আবাসিক এলাকায় দু;সাহসিক ক্লীন অপারেশন-২ পরিচালনা করেছেন সফলভাবে। যারা সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে নিজের মূল্যবান সময় ব্যয় করে চলেছেন রিপেয়ার বাংলাদেশ গঠনে।

ক্লীন অপরাশেন-২

ক্লীন অপারেশন-টু পরিচালিত হয় নগরীর সিডিএ আবাসিক এলাকায়। এ অভিযানের অনুপ্রেরণায় ছিলেন রিপেয়ার বাংলাদেশে সদ্য প্রস্ফুটিত সদস্যরা। ক্লীন অপারেশন-১-এর সফল অভিযানেই মুলত অনুপ্রাণিত হন সদস্যরা। অভিযানে ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলের সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের অনেক শিক্ষার্থী। বলতে গেলে ক্লীন অপারেশন টু ছিল দু:সাহসিক। বললেন রিপেয়ার বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা কর অঞ্চল-১ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত কর কমিশনার জনাব মো. বজলুল কবির ভূঞা।

তিনি বলেন, সিডিএ আবাসিক এলাকা যেমনি ছিল বিশাল; তেমনি ছিল কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল ছেলের উৎপাত। এরপরও অনেক সাহস করে বিষয়টি নিয়ে কথা বললাম স্থানীয় কাউন্সিলরের সাথে। তিনি তো মহাখুশি। হাত বাড়িয়ে দিলেন পূর্ণ সহযোগীতার। শুরু হল অভিযানে অংশগ্রহনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের একাত্মতা।

প্রায় ২৫০-৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন অভিযানে। সকাল থেকে সড়কের অলিগলি, নালা-নর্দমা দোকানপাটের সামনে থেকে ময়লা আবর্জনা কুড়ানো শুরু করে শিক্ষার্থীরা। আর এসব আবর্জনা সরিয়ে নিতে কাজে লাগানো হয় কয়েকজন শ্রমিককে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী দেখে হতবাক আবাসিক এলাকার মানুষ। যা দেখে অনেকে নিজেই ময়লা কুড়ানো শুরু করে দেয়। এভাবে আশপাশের বিভিন্ন ভবন ও বাসার সামনে থেকে নিজেরাই ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে এনে এক জায়গায় রাখতে শুরু করে আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা।

হঠাৎ একটি বাড়ির সামনে গিয়ে দেখি অনেক ময়লা আবর্জনা পড়ে আছে। ওই বাসায় গিয়ে নারী অভিববাককে বললাম মা, আমরা আপনার বাসার সামনের ময়লাগুলো পরিষ্কার করে দিই। তিনি বললেন আমি পরিস্কার করেছি তো। তখন চিন্তা করলাম, পরিস্কার করার পরও এত ময়লা, আগে কত ময়লা ছিল। আর ওনার বাসার ভেতরেই বা কত ময়লা-আবর্জনা আছে।

এ সময় শিক্ষার্থীরা মিলে বাসার সামনের ময়লা পরিষ্কার করা শুরু করি। ওই নারী অভিবাবক ময়লার স্তুপ দেখে হতবাক। একটু লজ্জিতও হয়েছেন তিনি। একপর্যায়ে বাসার ভেতরে পরিস্কারের অনুমিত চাইলাম। তিনি আরও হতবাক। তিনি বলেন, ভেতরে পরিস্কার করা আছে। আপনাদের করতে হবে না। প্রয়োজনে আমি আরও পরিস্কার করে নেব।

এ অভিযানের বিষয়গুলো ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। যেখানে অসংখ্য মননশীল মানুষের প্রশংসা, সমর্থন ও নিজেদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে মতামত প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে গত বছর ঈদের আগে হঠাৎ সংগঠনের সদস্যরা প্রস্তাব রাখেন চট্টগ্রামের দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাড়াবেন।

এ নিয়ে রিপেয়ার বাংলাদেশের ওয়েবসাইট ও ফেসবুকে তুলে ধরা হয়। সেই সাথে নগরীর একটি বস্তির দরিদ্র মানুষের পাশে দাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন সদস্যরা। এতে ঈদের বস্ত্র, ও খাদ্যপণ্যসহ ৭৫০ টাকা করে খরচের সিদ্ধান্ত হয়। হিসেব করে ১৮০টি পরিবারকে এ সহযোগীতার সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হয়।

যার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এক ছাত্র অর্থসহায়তা করার প্রস্তাব করেন। একইভাবে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা এমনকি আমেরিকান প্রবাসী চবির প্রাক্তণ ছাত্র এ সহয়াতার জন্য অর্থপাঠান। এতে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। যেখানে আমার নিজস্ব খরচ ছিল যৎ সামান্য।

এরপর চট্টগ্রাম ছেড়ে আমাদের ক্লীন অপারেশন-৩ পরিচালনা করা হয় ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের রোকেয়া হলে। তৃতীয় কিস্তিতে এ অভিযানের বর্ণনা জানতে আগামিকাল চোখ রাখুন অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিটিজি টাইমস ডটকমে।

মতামত