টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বিএনপির গ্যাস বেচার মুচলেকার সাক্ষী আমি: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ০৬ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি ভারতের কাছে গ্যাস বেচার যে মুচলেকা দিয়েছিল, তার সাক্ষী তিনি নিজে। তিনি জানান, ওই নির্বাচনের আগে সে সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান লতিফুর রহমানের বাসায় এক বৈঠকে তার উপস্থিতিতেই এসব হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেট খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ‘ডিপ্লোমা কৃষিবিদ মহাসম্মেলন’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি কৃষির উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের অবদান, বিএনপির অবস্থানসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। কথা বলেন, ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জিতে বিএনপির ক্ষমতায় আরোহনের বিষয়টি নিয়েও।

প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছিলেন, ওই নির্বাচনের আগে তার কাছে প্রস্তাব এসেছিল ভারতের কাছে গ্যাস বেচার। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি আর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এতে রাজি হয়েছিলেন এবং এ কারণেই নির্বাচনে কারসাজি করে বিএনপি-জামায়াত জোটকে ক্ষমতায় বসানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলো লতিফুর রহমান। তাঁর বাসায় আমাদেরকে দুপুরের খাবারের দাওয়াত দিল। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আমি এবং জিল্লুর রহমান সাহেব। আর বিএনপি থেকে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আর তাদের মহাসচিব মান্নান ভূঁইয়া এই চারজন। আর আমেরিকা থেকে তাদের বিশেষ দূত জিমি কার্টার তিনি আসলেন। ওখানে বসেই এই আলোচনা।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বলে দিলাম, আমার যা বলার ছিলো, আমি তা আপনাদের প্রেসিডেন্টকে (বিল ক্লিনটন) বলে দিয়েছি। ঢাকায় যখন তিনি এলেন তখন বলেছি, আমাকে যখন আমেরিকায় দাওয়াত করে নিয়ে গিয়েছিলো তখনও বলেছি। কাজেই আমার এই নীতির কখন পরিবর্তন হবে না। এই আলোচনার এক পর্যায়ে যখন শেষ হলো আমরা চলে আসলাম।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি নেতারা ওখানে থেকে গেলেন। তাদের মধ্যে যে চুক্তি হলো দেশের সম্পদ বেচার। চুক্তি করেই তারা ২০০১ ক্ষমতায় আসলো। ভোটের দিক থেকে আওয়ামী লীগ কিন্তু বেশি ভোট পেয়েছে, কিন্তু সিট পেল না। এটা যে একটা বিরাট চক্রান্ত ছিলো তা আর বোঝার বাকি রইলো না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সম্পদ গ্যাস, এই গ্যাস বিক্রি করতে চাইলো আমেরিকা। কিনবে ভারত। আমেরিকান কোম্পানি গ্যাস তুলবে ভারতের কাছে বিক্রি করবে। এই প্রস্তাব যখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন আমাকে দিয়েছিলেন। আামি তাকে বলেছিলাম, দেশে কত গ্যাস আছে আমি এখনও জানি না। আমাদের দেশের সামান্য কয়েকটা মানুষ এই গ্যাস সুবিধাটা পাচ্ছে। গ্যাসের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। দেশের সম্পদ, জনগণ এর মালিক। এই গ্যাস কত আছে আমি জানি না। কীভাবে আপনাদের কথা বেব, ক্ষমতায় গেলে আপনাদের কাছে গ্যাস বিক্রি করবো। দেশের সম্পদ, জনগণ এর মালিক। আগে জনগণের চাহিদা আমাকে পূরণ করতে হবে। চাহিদা পুরণের পর পঞ্চাশ বছরের মজুদ রাখবো ভবিষ্যত বংশধরদের জন্য। অতিরিক্ত গ্যাস যদি থাকে তখন এটা আমরা বিক্রি করতে পারি। তার আগে এটা আমরা বিক্রি করতে পারি না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুব স্বাভাবিক ভাবে অত বড় একটা দেশের প্রেসিডেন্ট, তাকে আমি এ কথা শুনিয়েছি। এটা তো আর কিছু না, নাখোশ হওয়া স্বাভাবিক।’

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে না পারায় দেশের জনগণ কীভাবে ভুগেছে তারও বর্ণনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল ছিল বাংলাদেশের জন্য ছিলো স্বর্ণযুগ। কিন্তু এরপর বাংলাদেশ খাদ্য ঘাটতি হয়ে গেল।’ তিনি বলেন, ‘যে বাংলাদেশকে আমরা খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ করে দিয়ে গেলাম, সে বাংলাদেশকে তারা (বিএনপি) আবার খাদ্য ঘাটতির দেশে রূপান্তর করলো। প্রত্যেকটি কাজেই বাংলাদেশ পেছালো। পেছনে আসার কারণ কিছুই না, ঐ যে তাদের যে নীতি বাংলাদেশ দরিদ্র থাকবে। মানুষ ভুখানাগ্গা থাকবে। বাংলাদেশের মানুষ গবিব থাকবে। এইগুলো দেখিয়ে দেখিয়ে তারা বিদেশ থেকে সাহায্য আনবে, ভিক্ষা আনবে। সেগুলো তারা (বিএনপি) নিজেরা খাবে, দেশের মানুষ ওভাবেই থাকবে। এই হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সবচেয়ে বড় তফাৎ নীতির বিষয়ে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ অনুযায়ী বিএডিসি বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি সরকার। সাধারণ মানুষের কল্যাণে যা যা প্রয়োজন সেগুলো বিএনপি বন্ধ করে দেয়। বিএনপি-জামায়াত কখনও চায়নি বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চায়নি। তারা শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যখন বিরোধী দলে, আমরা সরকারে। বিএনপি নেতারা পার্লামেন্টে বললেন, বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া ভালো না, কারণ বিদেশ থেকে ভিক্ষা পাওয়া যাবে না। তাদের নীতিটা হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণকে ভিক্ষুক বানিয়ে রাখা।

মতামত