টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

হালদার পাড় সংরক্ষণে হাটহাজারী-রাউজান পেল ২১২ কোটি, বাদ পড়লো ফটিকছড়ি !

‘দায়িত্বশীল ব্যক্তির ব্যর্থতার কারণে ফটিকছড়ি বঞ্চিত’

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

চট্টগ্রাম, ০৫ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় হালদার নদীর তীর রক্ষা, বাঁধ নির্মাণ ও রাস্তা উচুকরণের জন্য ২ শত ১২ কোটি টাকা অনুমোদিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ প্রকল্প অনুমোদিত হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে হাটহাজারী ও রাউজান অংশে নদীর তীর রক্ষা, বাঁধ নির্মাণ ও রাস্তা উঁচুকরণের জন্য এ টাকা ব্যয় হবে। এ প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে ২০১৯ সালে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কুমার বড়ুয়া সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘এ প্রকল্পের আওতায় ১২ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ, ৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, ১৫ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত, ৪ কিলোমিটার বিদ্যমান রাস্তা কাম বাঁধ উঁচুকরণ এবং আধা কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ দেয়াল নির্মাণ করা।’

কোন কোন এলাকায় এসব কাজ করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হাটহাজারী ও রাউজানের অংশে এসব উন্নয়ন কাজ করা হবে। এর মধ্যে হাটহাজারীর ধলই, পেশকারহাট, গুমন মর্ধন, লাঙ্গলমোড়া, চিপাতলী, গড়দুয়ারা, মাদার্শা, কাটাখালি, বুড়িশ্চর ও মোহরা। রাউজান অংশের গহিরা, সত্তারঘাট ব্রিজের উজান ও ভাটি অংশ, আবুর খিল, মোতালিপাড়া এলাকা।’

একনেকে অনুমোদন পাওয়া এ অর্থে হালদার ফটিকছড়ির অংশ বাদ পড়ায় এ উপজেলার নদী ভাঙ্গন এলাকার মানুষগুলোর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকার বাসিন্দাদের দাবী, হালাদায় সবচেয়ে বেশি ভাঙ্গনের স্বীকার তারা। অথচ এ ভাঙ্গন বাঁধের দুইশ কোটি টাকার উপরে প্রকল্পে নেই তারা, তা কি করে হয় ?

জানা যায়, হালদার ফটিকছড়ির প্রায় ৩৭ কি.মিটারজুড়ে ভাঙ্গন রয়েছে। বিশেষ করে সুয়াবিল, নাজিরহাট, দৌলতপুর কুম্ভারপাড়া, রোসাংগিরী, সমিতিরহাট ইউনিয়নের ছাদেক নগর, দক্ষিন নিশ্চিন্তপুরসহ উত্তর ফটিকছড়ির বহু এলাকার হালদার পাড় ভেঙ্গে বিলিন হওয়ার পথে। অনেকের ভিটে মাটি নদীতে বিলিন হয়ে গেছে ইতিপূর্বে।

রোসাংগীরি ইউপি চেয়ারম্যান শোয়াইব আল সালেহীন বলেন, ‘আমার রোসাংগিরীর প্রায় তিন কি.মিটার এলাকা হালদার ভাঙ্গন কবলিত, যা রোধে এই মুহূর্তে ব্যবস্থা না নিলে আমার এলাকার বহু মানুষ ভিটে বাড়ি ছাড়া হতে হবে। আমার পাশ্ববর্তী সমিতিরহাট ইউনিয়নের ৭ কি.মিটার ভাঙ্গন কবলিত, তাদের কি হবে ?

সুয়াবিল ইউপি চেয়ারম্যান আবু তালেব চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, আমার সুয়াবিলের ১০ কি.মিটার অংশে হালদার পাড় ভাঙ্গন কবলিত। আমরা বড় আশায় ছিলাম, পানি সম্পদমন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এ প্রকল্প একনেকে পাশ করে দিয়ে হালদার পাড়ের বাসিন্দাদের দু:খ গুছাবে। কিন্তু ফটিকছড়ির দায়িত্বশীল ব্যক্তির ব্যর্থতার কারণে আমরা ফটিকছড়িবাসী ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হলাম।’

এ প্রসঙ্গে ফটিকছড়ি থেকে নির্বাচিত সাংসদ সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ্এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি ২৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু কিছু ত্র“টিগত কারণে সেটি প্রেরত আসে। আশা করছি, ত্র“টিটা সংশোধন করে পূণ:রায় পাঠালে একমাসের মধ্যে তা অনুমোদন পাবে।’

পূন:রায় ফটিকছড়ি অংশের জন্য বরাদ্দ পাওয়ার প্রসঙ্গে হালদা বিশেষজ্ঞ ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘তা কি করে হয় ? এটি কোন উপজেলা ভিত্তিক প্রকল্প নাকি, এটি পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের হালদা নিয়ে বিশেষ একটি প্রকল্প। যা পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যরিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নিজে তত্বাবধান করেছেন। স্থানীয় এমপির শুধু ডিও লেটার প্রদান করে তদবির করতে পারেন। পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের অধিনে যেখানে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেখানে অল্প সময়ে একইভাবে আরেকটি প্রকল্প অনুমোদন দেবে তার কোন নজির নেই।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত