টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দেবে গেছে একপাশ, ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কায় গাড়ি চলাচল বন্ধ

হালদার উপর নাজিরহাটে বৃটিশ আমলের পুরাতন সেতু

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

চট্টগ্রাম, ০৩ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট হালদা নদীর উপর বৃটিশ আমলের পুরাতন সেতুটির একপাশে দেবে গেছে। যে কোন মুহূর্তে ভেঙ্গে পড়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় গত রবিবার থেকে সেতুটির উপর দিয়ে গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় জানিয়েছেন, ‘সেতুটির দেবে যাওয়া অংশ দেখে মনে হচ্ছে যে কোন সময় এটি ভেঙ্গে পড়তে পারে। তাই এটির উপর দিয়ে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। এবং একই সাথে সেতুর দু‘প্রান্তে লোহার খুঁটি পুতে দেওয়া হয়েছে, যেন কোন যানবাহন চলাচল করতে না পারে।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর ওপরের কার্পেটিং স্থানে স্থানে উচুনিচু হয়ে গেছে। সেতুর পূর্ব পাশের অংশে দেবে গেছে বেশ কয়েকফুট জায়গা। সেতুর নিচে কয়েকটি স্থানে লোহার পাটাতনগুলো ভেঙ্গে পড়েছে। অনেকগুলোতে মরিচা ধরে লক্কড় ঝক্কড় হয়ে পড়েছে। নিচের পিলারগুলো থেকে সরে গেছে মাটি।

সেতুর মুখে লোহার খুঁটি দিয়ে যান চলাচলের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও দুই চাকার মোটর সাইকেল আর বাইসাইকেল দিয়ে সেতুটির উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে অনেকে। লোকজন প্রাণ ভয়ে হেঁটে পারাপার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। দেবে যাওয়া অংশে একসাথে কয়েকজন লোক গেলে নড়ছে এটি।


সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৩০ সালে বৃটিশ শাসনামলে নির্মিত হয় সেতুটি। ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলার লোকজন এই সেতু দিয়ে যানবাহনে কিংবা পায়ে হেঁটে পারাপার হয়ে থাকে। হালদার পূর্ব পার হতে সেতুটি দিয়ে প্রতিনিয়ত যাথায়াত করেন নাজিরহাট কলেজের শত শত শিক্ষার্থীরা। যেটি ১৯৯৪ সালে সড়ক ও জনপদ (সওজ) কর্তৃপক্ষ সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। সর্বশেষ ২০০৫ সালে সেতুটি মেরামত করা হয়। এরপর ২০০৮ সালে সওজ সেতুর কাছে ঝুঁকিপূর্ণ সাইনবোর্ড লেখা টানিয়ে দেয়। পরে ব্যক্তি উদ্যোগে ২০১০ সালেও এটি মেরামত করা হয়। তারপরও এটি ঝুঁকিপূর্ণ থেকে যায়। যা বর্তমানে দেবে গিয়ে যান চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

নাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী মো. মাসুদ বলেন, সেতুটির উপর যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়াতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বাজারের ব্যবসায়ী সমাজ। কারণ হালদা পশ্চিম পাড়ের লোকজন সেতুটি পার হয়ে এ পাশ থেকে মালামাল নিয়ে যেতেন। কিন্তু এখন তা আর সম্ভব হচ্ছে না। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করবো যাতে করে শীঘ্রই এটি মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করা হয়।’

সেতুটির সংস্কার কিংবা বিকল্প সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপদ চট্টগ্রামের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শাহী আরেফিন বলেন, ‘প্রায় শতবর্ষী এ সেতু এখন আর মেরামত করার মতো কোন অবস্থায় নেই। সম্পূর্ণ নতুন করে সেখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে পানিসম্পদ মন্ত্রী, সাংসদ ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ যতেষ্টা প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। সেখানে অপর একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত