টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

তিন দফা জানাজা শেষে নানুপুরে নিজ গ্রামে চীর শায়িত ড. মাহমুদ হাসান

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

চট্টগ্রাম, ০১ এপ্রিল ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): তিন দফা জানাজা শেষে ফটিকছড়ির নানুপুরে নিজ গ্রামে পারিবারকি কবরস্থানে চীর শায়িত হলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নব নির্বাচিত সদস্য, মালয়েশিয়া আ.লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, চট্টগ্রাম উত্তরজেলা আ.লীগের সদস্য, দানবীর ড.মাহমুদ হাসান(৬০)। শুক্রবার রাত সাড়ে তিনটায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নগরীর সেভরনে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করার পর তার মরদেহ পাঁচলাইস্থ নিজ বাসায় দুপুর পর্যন্ত রাখা হয়।

শনিবার দুপুর ২ টায় চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ্ জামে মসজিদ মাঠে তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা, বিকাল ৫ টায় ফটিকছড়ির নানুপুর লায়লা কবির ডিগ্রী কলেজ মাঠে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা এবং রাত ১০ টায় ফটিকছড়ির নিজ গ্রাম নানুপুরের রহমত বাড়ী ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

নানুপুর লায়লা-কবির ডিগ্রি কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাজায় মানষের ঢল নামে। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম. এ সালাম, কেন্দ্রিয় আ.লীগ নেতা এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা আ.লীগের যুগ্ম সা.সম্পাদক শাহজাদা মহিউদ্দিন, কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগের সাবেক সা. সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম. তৌহিদুল আলম বাবু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা আফতাব উদ্দিন চৌধুরী, ফটিকছড়ি উপজেলা আ.লীগের সা. সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরী, আ.লীগ নেতা ফখরুল আনোয়ার, বিএনপি নেতা মির্জা আকবর, সাবেক ছাত্রনেতা এইচ.এম আবু তৈয়ব, ফটিকছড়ি পৌর মেয়র ইসমাইল, বখতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সোলাইমান বি.কম, নানুপুর ইউ.পি চেয়ারম্যান ওসমান গণি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বখতেয়ার সাঈদ ইরান, বাবুসহ দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সহযোদ্ধা, বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, জেলা পরিষদ সদস্য, শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক, যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী আ.লীগের প্রেসডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, যুগ্ম সা. সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফসহ কেন্দ্রিয় আ.লীগের নীতি পর্যায়ের অনেকে নেতা আলাদা আলাদা বিবৃতিতে শোক জানিয়েছেন। এছাড়াও মরহুমের বিদেহী আত্মার সদগতি কামনা করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান, ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

জানাজা পূর্ব সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘ড. মাহমুদ হাসান নিবেদিত প্রাণ এক সমাজ হিতৈসীর নাম। রাজনৈতিক বৃত্তের বাইরে গিয়ে ফটিকছড়ির সীমানা ফেরিয়ে পুরো চট্টগ্রামজুড়ে দানশীল ব্যাক্তি হিসেবে তিনি অনন্য এক মর্যাদায় উপবিষ্ট হয়েছেন। মানুষ তাঁর এ অনন্য অবদান মানুষ আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।’

পরিবারের পক্ষ থেকে ড.মাহমুদ হাসানের বড় ছেলে পারভেছ মাহমুদ জানাজা পূর্ব তার বক্তব্যে বলেন, বাবা যেমন করে ফটিকছড়ির গরীব দু:খী মানষদের বুকে আগলে রেখেছিলেন, আমিও তার উত্তরসূরী হিসেবে তার অসমাপ্ত কাজ করতে আপনাদের পাশে থাকবো। এসময় তিনি তার বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।’

উলে­খ্য, ড.মাহমুদ হাসান নি:স্বার্থ রাজনীতিক ছাড়াও চট্টগ্রামের দানশীল ব্যক্তি হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্টানের প্রতিষ্ঠাতা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের পৃষ্টপোষকতা ছাড়াও আমৃত্যু গরীব, দুঃখী এবং মেহনতী মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি স্ত্রী, তিন পুত্র ও এক কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত