টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সংগ্রাম এবং ত্যাগের মাস, “মার্চ”

চট্টগ্রাম, ২৬ মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ সীমাহীন বাধার প্রাচীর এড়িয়ে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য উদয় হয় । যার ফলে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। বহু ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়ে যাই সবুজ শ্যামল স্বাধীন বাংলাদেশ। এ ত্যাগের পথেই সন্তান হারা হয়েছে অনেক বাবা-মা, আর মা-বাবা হারা হয়েছে সন্তান। মা-বোন হারিয়েছে ইজ্জত। এসব ত্যাগের ফসল আমাদের সোনার বাংলাদেশ। যার ভিত্তির মূলে রয়েছে লক্ষ লক্ষ শহীদের রক্ত। যাদের ভুলে যাওয়া আমাদের জন্য কঠিন এবং অন্যায়।

পাকিস্তানিরা এদেশের জনগনের উপর চাপিয়ে দিয়েছিল নানা বৈষম্য। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি বিরূপ মনোভাব, চাকরি-বাকরি, অফিস-আদালত সর্বক্ষেত্রেই বৈষম্যের ধারাতো অব্যাহত ছিলই; আর ছিল এদেশের সম্পদের প্রতি লোলোপ দৃষ্টি। যার ফলে স্বাধীনতার দাবি জোরালো হয়। এ দাবির প্রেক্ষিতেই এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে নামা এদেশের মানুষকে ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ভাষা আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করার ঐতিহাসিক ঘটনার পথ ধরে পাড়ি দিতে হয় অনেক পথ। ’৬৬ এর ছয় দফা, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং এসবেরই ধারাবাহিকতায় আসে ’৭০ এর নির্বাচন। ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ পূর্ব পাকিস্তানে নিরন্কুশ বিজয় করে এবং সমগ্র পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানের কায়েমী স্বার্থবাদী চক্র কিছুতেই গণতন্ত্রের রায় মেনে নেয়নি। ফলে ছয় দফা পরিণত হয় এক দফায়। ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্সে উত্তাল জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু ঘরে ঘরে প্রতিরোধের দুর্গ গড়ে তুলে শত্রুর মোকাবেলা করার নির্দেশ দেন।

২৫ শে মার্চ রাতে এদেশের নিরস্ত্র মানুষের উপর চড়াও হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ’অপারেশন সার্চ লাইট’ নামের সেই অভিযানে ২৫ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে ঢাকায় চালানো হয় গণহত্যা। যা ছিল খুবই ভয়ানক, করুন এবং লোমহর্ষক; যা ভাষায় প্রকাশ করা যায়না।

যাহোক, পাহাড়সম বাধা অতিক্রম করে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। যা আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামতের একটি বিশেষ নেয়ামত। স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। এ অধিকার যে কত বড় মাপের, তা পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধরাই কেবল অনুধাবন করতে পারে। তাই স্বাধীনতা রক্ষার্থে দলমত নির্বিশেষে সচেতন হতে হবে। স্বাধীনতা রক্ষার্থে আন্তরিক হতে হবে। তা না হলে স্বাধীনতার যে সুবিধা আমরা পাচ্ছি তা থেকে কি পরবর্তী প্রজন্ম বঞ্চিত হবেনা? অতএব, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য ভেবে হলেও আসুন আমরা একতার কাতারে দাঁড়াবার প্রতিজ্ঞা করি।

লেখক: আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (নোমান), পাঠক ফোরাম প্রধান, সিটিজি টাইমস ডটকম।

মতামত