টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আবহাওয়া পাল্টাচ্ছে, পাল্টাবে জীবনযাত্রাও

চট্টগ্রাম, ২৩ মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): চলতি সময়ে আবহাওয়ায় পরিবর্তন আমরা কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারছি। তবে এ পরিবর্তন একদিনে হয়নি। এ পরিবর্তন বুঝতে আমাদের সময় লাগে। বিশেষত মার্চের শেষ ভাগে এসেও আমরা শীত অনুভব করছি। অথচ জানুয়ারিতে শীতের প্রকোপ এতোটা তীব্র ছিল না। ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যাও বেড়ে। এর প্রভাব পড়ছে কৃষি ও মানুষের জীবনযাত্রায়। আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, এবার আমাদের জীবনযাত্রার পরিবর্তনও চোখে পড়বে। এজন্য আমাদের অভিযোজন ক্ষমতা নিয়ে গবেষণা বাড়াতে হবে। আজ বিশ্ব আবহাওয়া দিবসের প্রেক্ষাপটে আবহাওয়াবিদরা এসব মন্তব্য করেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চৈত্র মাসে তাপমাত্রা গড়ে সর্বোচ্চ ৩১ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার কথা, কিন্তু রেকর্ড হচ্ছে ২৮ থেকে ২৯ ডিগ্রি। একইভাবে গড় তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকার কথা ২১ থেকে ২২ ডিগ্রি, কিন্তু রেকর্ড হচ্ছে ১৮ থেকে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুধু তাপমাত্রার এ পার্থক্য নয়, সবচেয়ে শীতলতম মাস জানুয়ারিতে তাপমাত্রা যে পরিমাণ কমার কথা তা কমেনি, নির্ধারিত সময়ে হয়নি প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত।

সম্প্রতি অবসরে যাওয়া আবহাওয়া কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমাদের মৌসুমভিত্তিক আবহাওয়া এখন আর নেই। চৈত্র-বৈশাখ মাসে বেশি তাপমাত্রা থাকবে, জুলাই-আগস্ট মাসে বেশি বৃষ্টিপাত হবে কিংবা জানুয়ারিতে বেশি শীত অনুভব হবে তা এখন আর নেই। এখন মার্চ এসে শীতের অনুভব হচ্ছে, পরিবর্তন হয়ে গেছে বাতাসের গতিবেগ।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান অবস্থায় আবহাওয়ার সাথে তাল মিলিয়ে শস্য ফলনে যেমন পরিবর্তন আনতে হবে তেমনিভাবে আমাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে। পরিবর্তিত আবহাওয়ার সাথে আমাদের অভিযোজিত হতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বজ্রপাত বেড়ে যাওয়া কিন্তু আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণ। এখন বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে গেছে। সেই শুষ্কতা থেকে সৃষ্টি হচ্ছে বজ্রপাত।

আবহাওয়ার পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যণীয় হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি। ২০১৫ সালে রেকর্ড তাপমাত্রার পর গত বছরও সবচেয়ে বেশি ছিল তাপমাত্রার বৃদ্ধির হার।

আবহাওয়া ও কৃষিবিদরা বলেন, আমাদের দেশে গত এক দশক ধরে এ পরিবর্তন হতে থাকলেও এখন আমরা এর প্রভাব টের পাচ্ছি। এখন শীতকালে আগের মতো শীত পড়ে না, মার্চের শেষে এসেও শীতের অনুভব হচ্ছে। বছরের এ সময়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে বাতাস আসার কথা থাকলেও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে আসছে উত্তর দিক থেকে।

এবারের বিশ্ব আবহাওয়া দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ‘মেঘেদের বুঝি।’ এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইউনিটের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. মোহন কুমার দাস বলেন, ‘আবহাওয়া পূর্বাভাস ও সতর্কতায় মূল ভূমিকা পালন করে মেঘ। বিশ্বের পানিচক্র ও সমস্ত জলবায়ু ব্যবস্থায় মেঘের অবদান অনস্বীকার্য।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার পরিবর্তন চলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ার এ পরিবর্তনে উপকূলীয় দেশ হওয়ায় আমাদের সাগরে বেড়ে গেছে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা। আর প্রাকৃতিক এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের ব্যবহার যুক্ত হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ। আবহাওয়াবিদরা মনে করেন, পরিবর্তিত আবহাওয়ার সাথে সঙ্গতি রেখে শস্যবীজ উদ্ভাবন ও অভিযোজন নিয়ে গবেষণা না বাড়ালে তা আমাদের জন্য বিপদ ডেকে আনবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত