টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে পরিবেশ দূষণে অভিযান নেই!

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ২২  মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রাম পাহাড় কাটা, শিল্প কারখানা ও শব্দ দুষণসহ নানা খাতে পরিবেশ দুষণের বিরুদ্ধে কোন অভিযান নেই পরিবেশ অধিপ্তরের। এমনকি ৭-৮ বছর আগে চালানো অভিযানে দুষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার কোন তদারকিও নেই।

ফলে পরিবেশ দুষণে যেমন কোন বাঁধা নেই, তেমনি পরিবেশ দুষণ বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শিল্প কারখানা, পাহাড় কাটা ও শব্দ দুষণকারীরা নির্বিঘ্নে পরিবেশ দুষণ করে চলেছে। আর লোকবলের সংকটের কথা বলে দায় সাড়ছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক মো. আজাদুর রহমান মল্লিক এ প্রসঙ্গে বলেন, লোকবল সঙ্কটের কারণে আমরা সবদিকে সমান গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালাতে পারছি না। অন্যথায় আমাদের আগ্রহের কোন কমতি নেই।

তিনি বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও নেই আমাদের। ফলে একমাত্র ডেপুটি ডিরেক্টরকে দিয়েই অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে। যে কারণে আমাদের অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরে গত ৮ বছরে পাহাড় ধসে পৃথক ১৩টি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১৮৫ জন। এরমধ্যে শুধুমাত্র ২০০৭ সালের ১১ জুনের পাহাড় ধসের ঘটনায় প্রাণ হারান ১২৭ জন।

অন্যদিকে কর্ণফুলী নদীর আশপাশে গড়ে ওঠা প্রায় ৪ শতাধিক ছোট-বড় কলকারখানার হাজার-হাজার টন বর্জ্যে নাভিশ্বাস ওঠা নগরবাসীর পাশাপাশি মরণদশা দেশের একমাত্র খরস্রোতা নদীটিরও।

এছাড়া শিল্প ও আবাসিক এলাকায় শব্দ দূষণের মাত্রা ছাড়িয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি এবং শিল্পকারখানা ও যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়ায় অতিমাত্রায় বায়ূ দূষিত হচ্ছে।

একইসাথে জাহাজ কাটা শিল্পে বিষাক্ত গ্যাস, অগ্নিকান্ড এবং যন্ত্রাংশের নিচে চাপা পড়ে গত এক দশকে মারা গেছে অন্তত ১৩০ জন শ্রমিক। অথচ এসব জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের তেমন কোন কার্যক্রম নেই।

সংস্থাটির গত ১৪ মাসের মোট ১৪১টি অভিযানের এক-তৃতীয়াংশের বেশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে শুধুমাত্র পলিথিনের বিরুদ্ধে। বিপরীতে শিল্প কলকারখানায় তরল বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) বিষয়ে নিয়মিত অভিযান থাকলেও এসব কারখানায় দূষিত বর্জ্যের বিরুদ্ধে কোন অভিযানই হয়নি।

অন্যদিকে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে মাত্র ৩ শতাংশ, শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে এক শতাংশেরও কম, বায়ূ দূষণের বিরুদ্ধে ৭ শতাংশ এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই এমন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১৬ শতাংশ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ফলে পরিবেশ অধিদপ্তরের সক্ষমতা নিয়েও সচেতন মহলে প্রশ্ন ওঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগরীর দূষণরোধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অভিযান বাড়ানো উচিত। সেক্ষেত্রে পাহাড় কাটা, শিল্প কলকারখানার দূষিত বর্জ্য, বায়ূ দূষণের পাশাপাশি তরল বর্জ্য শোধনাগার বিষয়ে আরও সক্রিয় হতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তর গত ১৪ মাসে চট্টগ্রাম মহানগরে পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে ১৪১ টি অভিযান করে। এসব অভিযানে ৪৭ টন পলিথিন জব্দের পাশাপাশি এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এরমধ্যে এক কোটি ১৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা আদায় করতে সক্ষম হলেও বাকি ১৬ লাখ ৫৯ হাজার টাকা আদায় করা সম্ভব হয়নি।

এছাড়া পরিবেশ দূষণের দায়ে ১৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে সংস্থাটি। অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযানের ৯টি খাতের মধ্যে এই ১৪ মাসে নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে ৪৯টি, কলকারখানা হতে নিঃসরিত তরল বর্জ্য (ইটিপি বহির্ভ‚ত প্রতিষ্ঠান) বিরোধী ৩৯টি, পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীন কারখানার বিরুদ্ধে ২৩ টি, পুকুর ও খাল ভরাটের বিরুদ্ধে ১২টি, বায়ূ দূষণের বিরুদ্ধে ১১টি এবং পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে ৫টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এছাড়া কলকারখানার দূষিত বর্জ্য ও জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের বর্জ্যের মত জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট দুটি খাতে ওই ১৪ মাসে কোন ধরণের অভিযানই পরিচালিত হয় নি। আর শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে অভিযান হয়েছে মাত্র একবার।

মতামত