টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘গণহত্যার’ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে তৎপরতা শুরু

চট্টগ্রাম, ২১  মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা চালিয়ে নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর সেই ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে জাতীয় স্বীকৃতি পেয়েছে। এবার দিবসটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে বাংলাদেশ।

কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে ২৫ মার্চের আগেই বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে গণহত্যাবিষয়ক তথ্য-উপাত্ত পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম থেকে কোস্টগার্ডের জাহাজ তাজউদ্দিনে করে সমুদ্র এলাকা পরিদর্শনকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ তৎপরতার কথা জানান।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘শুরুতে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলাদেশের পাশে যারা ছিল, সেসব রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের জাতীয় সংসদ বা আইনসভাগুলোকে সেদিনের ওই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ করা হবে।’

‘যে রাষ্ট্রগুলো আমাদের পাশে ছিল, আমরা আশা করি দিবসটির স্বীকৃতি তারা সবার আগে দেবেন। এটা হবে প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ। পরে বাকি দেশগুলোকে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হবে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “জাতিসংঘ ইতোমধ্যে ২০১৫ সালের ৯ ডিসেম্বর গণহত্যা সনদ গ্রহণ করেছে। সেখানে দিবসটিকে সরাসরি আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস না বলে গণহত্যার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে একটি দিবস ঘোষণা করেছে। সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস এটি হবে না। তবে যেটা সম্ভব সেটি হলো, এটা যে গণহত্যা ছিল এর স্বীকৃতি আদায় করে নেয়া। এটি করার জন্য আমাদের কিছু ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং’ দরকার। আমাদের সেভাবে এগিয়ে যেতে হবে।”

শাহরিয়ার আলম বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তাকে আমরা ইতোমধ্যে জাতিসংঘ ও জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদে পাঠিয়েছি। আমাদের ওই দুটি সংস্থার স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কী কী কাজ করতে হবে তারা তা খোঁজ নিয়ে দেখবেন। সেখানে তারা ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ড’ করবেন এবং তা করার পর আমরা সেগুলো বিশ্লেষণ করে আমাদের কর্মপন্থা নির্ধারণ করবো।”

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২৫ মার্চের আগেই বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে গণহত্যাবিষয়ক তথ্য-উপাত্ত পাঠানো হবে। সে অনুযায়ী মিশনগুলো তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরবে।’

তবে ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘৪৬ বছর আগের সেই গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টাকালে বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। ১৯৭১ সালে সব রাষ্ট্রের অবস্থান এখনকার মতো ছিল না। তাই এখনও কোনো কোনো রাষ্ট্র বিরোধিতা করতে পারে। তবে যত বেশি সম্ভব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ে আমরা চেষ্টা করবো।’

রুয়ান্ডার গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে উদাহরণ টেনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রুয়ান্ডার গণহত্যার জন্য আলাদাভাবে একটি দিবস পালনকে জাতিসংঘ সমর্থন করে। রুয়ান্ডার গণহত্যার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের গাফিলতি একটি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছিল। আমাদের দেশের মানুষের স্বাধিকার আদায়ের যে সংগ্রাম সেটি দমন করার জন্য পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যা চালিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয়ভাবে গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের যাত্রাটি নতুন উদ্যমে শুরু হলো। এখানে আমাদের যতটুকু রসদ দরকার তার সবই আছে। ইতিহাসের মধ্য দিয়ে আমরা বেড়ে উঠেছি। কেউ যদি নিজেকে বাঙালি বা বাংলাদেশি হিসেবে দাবি করেন তাকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী এ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি আমাদের ঘরের মধ্যে আছে। তবে এটি বিশ্বকে জানাতে হবে। সেই কাজ আমরা শুরু করেছি।’

‘প্রতিটি রাষ্ট্রকে আলাদা আলাদা করে স্বীকৃতি আদায় করতে হয়। এ জন্য বিষয়টি সময়সাপেক্ষ এবং কাঠখড় পোড়ানোর বিষয়। যা কনভেনশনাল ডিপ্লোমেসির বাইরের কাজ। ইতিহাসকে সবার সামনে তুলে ধরার একটি কাজ’ উল্লেখ করেন তিনি।

গণহত্যার প্রমাণ সংরক্ষণে রুয়ান্ডায় বিশেষ একটি গণহত্যা মিউজিয়াম রয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেবে কিনা- জানতে চাইলে  শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর তৈরি হয়েছে। যার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা জমি, বাজেট বরাদ্দ দিয়েছেন। এখানে শুধু গণহত্যা নয়, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ করা আছে। তবে সরকার যদি মনে করে তাহলে গণহত্যার জন্য আলাদা মিউজিয়াম হতে পারে।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর ধারাহিকভাবে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে না থাকায় ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেতে ৪৬ বছর লেগে গেছে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, ‘২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস’ পালন সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে উত্থাপনের পর কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। ২০ মার্চ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়। – জাগো নিউজ

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত