টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মাগুরার সেই ভোটচোরদের ক্ষমতায় বসাবেন না: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ২১  মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):  মাগুরা উপনির্বাচনে ভোট চুরি করে খালেদা জিয়া ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপিকে ‘ভোটচোরের দল’ দাবি করে তাদের আবার ক্ষমতায় না বসাতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকালে মাগুরায় মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

এর আগে দুপুরে প্রায় নয় বছর পর মাগুরায় আসেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ১৯টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও নয়টি প্রকল্প কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

১৯৯৪ সালের ২০ মার্চ মাগুরা-২ আসনের উপ-নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। পরদিন ২১ মার্চ মাগুরা থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা। ঐতিহাসিক সেই ২১ মার্চ আবার শেখ হাসিনা মাগুরায় আসেন এবং জনসভায় ভাষণ দেন।

আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ আর আমেরিকার সহযোগিতায় ক্ষমতায় আসে।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এসেই সারাদেশে শুরু করে অত্যাচার নির্যাতন। তাদের সেই নির্যাতনের কথা মাগুরাবাসী এখনো ভুলেনি।’

বিএনপি জোটের হরতাল-অবরোধে নৃশংসতার বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু দিন আগেও তারা জ্বালাও-পোড়াও করেছে, পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে। তাদের কাজই হচ্ছে শুধু নির্যাতন। তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছে দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। আর আওয়ামী লীগের লক্ষ্য মানুষের সেবা করা, দেশের মানুষের উন্নয়ন করা।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এসে মাগুরায় একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হালের গরু নিয়ে তারা জবাই করে খেয়েছে। খেতের ফসল নষ্ট করেছে, পুকুরের মাছ তুলে নিয়েছে, বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে।’ এ সময় তিনি বিএনপির আমলে খুন হওয়া মাগুরার নেতাদের তালিকা পড়ে শোনান।

শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, ‘বিএনপির হাতে যেমন দেশের মানুষ নিরাপদ নয় তেমনি ধর্মও নিরাপদ নয়। তারা মানুষকে যেমন পুড়ে মেরেছে তেমনি বায়তুল মোকাররমে কোরআন শরিফ পুড়িয়েছে।’

শেখ হাসিনা পরপর দুইবার ক্ষমতায় এসে কী কী উন্নয়ন করেছেন এর বিবরণ দেন। আজ মাগুরায় যেসব উন্নয়নকাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন এর তালিকাও জনসভায় পাঠ করে শোনান। এসব উন্নয়নকে তিনি ‘মাগুরাবাসীর জন্য উপহার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। মাগুরাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি রেললাইনের। সে দাবি পূরণেরও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিলাম দেশকে ডিজিটাল করবো। আমরা ক্ষমতায় এসে তা করেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল এখন সবাই পাচ্ছে। এর মাধ্যমে অনেকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আমরা যুবকদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। এতে তারা বিদেশে গিয়েও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। এখন সবার হাতে হাতে মোবাইল। এর সুফল জাতি ভোগ করছে আমাদের কল্যাণেই।’

বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস. জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূলে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। অভিভাবক, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, মুরব্বি, মসজিদের ইমাম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সমাজের সবস্তরের মানুষের কাছে জঙ্গিবাদ দমনে বিশেষ সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কী করছে এর খোঁজখবর রাখবেন। ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপারে শিক্ষকদের খোঁজ রাখার আহ্বান জানান তিনি। কোনো শিক্ষার্থী ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের ভালো হয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখনো সময় আছে, ফিরে আসুন। আমরা সুন্দর জীবন গড়তে যা যা করার সব ব্যবস্থা করে দেব।’

শেখ হাসিনা জানান, বিএনপির আমলে দেশে বিদ্যুতের হাহাকার ছিল। কিন্তু এখন পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ মজুদ আছে। তিনি জানান, ২০২১ সালের মধ্যে দেশের কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না। প্রত্যেক ঘরে ঘরে আলো জ্বলবে।

জনসভার শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী মাগুরাবাসীর কাছে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন। দেশের উন্নয়নে গতি ধরে রাখতে আবার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, তার হারানোর আর কিছু নেই। জাতির জনকের কন্যা হিসেবে তিনি প্রয়োজনে বাবার মতো বুকের তাজা রক্ত দিয়ে হলেও দেশবাসীর জন্য কাজ করবেন।

মতামত