টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

শততম টেস্টে গৌরবের জয়

চট্টগ্রাম, ১৯  মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):জয় দিয়েই নিজেদের শততম টেস্টের উপলক্ষটা রাঙিয়ে রাখল বাংলাদেশ। কলম্বো টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে মুশফিকুর রহিমের দল। অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের পর চতুর্থ দল হিসেবে শততম টেস্ট জিতল বাংলাদেশ। জয়ের ফলে দুই টেস্টে সিরিজ ১-১ ড্র হলো।

শেষ দিনে শ্রীলঙ্কার দেয়া ১৯১ রানের লক্ষ্য দিনের দেড় ঘন্টা বাকি থাকতেই ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। জয়ে বড় অবদান ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা তামিম ইকবালের।

ব্যাট করতে নেমে ২২ রানে পর পর দুই বলে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে টাইগাররা। তবে তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহামানের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ১৩১ রানে ব্যক্তিগত ৮২ রান করে পেরেরার বলে চান্দিমলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। ১২৫ বলে ৭টি চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে এই রান করেন। তামিম ফেরার পর দ্রুতেই তার পথ অনুসরণ করেন সাব্বির। ব্যক্তিগত ৪১ রান করে পেরেরার বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি।

তবে একপ্রান্তে দেখেশুনে খেলে সাকিব ও মোসাদ্দেককে নিয়ে ১৯ ও ২৭ দুটি ছোট জুটি গড়ে দলকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন অধিনায়ক মুশফিক।

এর আগে, জয় দিয়ে শততম টেস্ট রাঙিয়ে দিতে শেষ দিনে মাঠে নামে মুশফিক বাহিনী। চতুর্থ দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ২৬৮ রান কর শ্রীলঙ্কা পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনে বাকি দুই উইকেট হারিয়ে আরও ৫১ রান যোগ করে। ফলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯১ রানের।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের থেকে ১২৯ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিন শেষে বিনা উইকেটে ৫৪ রান তুলেছিল শ্রীলঙ্কা। দুই ওপেনার দিমুত করুণারত্নে ও উপুল থারাঙ্গা ২৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

চতুর্থ দিনের শুরুতেই শ্রীলঙ্কার উদ্বোধনী জুটিতে ভাঙ্গন ধরান অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। ২৬ রানে থাকা উপুল থারাঙ্গাকে শিকার করেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ৮৬ রানের জুটি গড়েন করুণারত্নে ও কুশাল মেন্ডিস। এতে লিড পায় শ্রীলঙ্কা। মেন্ডিসকে ৩৬ রানের বেশি করতে দেননি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান।

মেন্ডিসের বিদায়ে ক্রিজে করুণারত্নের সঙ্গী হন প্রথম ইনিংসে ১৩৮ রান করা দিনেশ চান্দিমাল। কিন্তু এই ইনিংসে ব্যর্থ তিনি। মাত্র ৫ রান করে ফিজের দ্বিতীয় শিকার হন চান্দিমাল। চান্দিমাল ফিরে যাবার ১ রানের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। অ্যাসলে গুনারত্নকে ৭ রানে সাকিব ও ধনানঞ্জয়া ডি সিলভাকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন ফিজ। এতে ৫ উইকেটে ১৭৭ রানে পরিণত হয় শ্রীলঙ্কা।

এই বিপর্যয়ের মাঝেও করুণারত্নের সেঞ্চুরিতে আনন্দ করার উপলক্ষ পায় শ্রীলঙ্কা। তবে দলীয় ১৯০ রানে নিরোশান ডিকবেলাকে ব্যক্তিগত ৫ রানে শিকার করে বাংলাদেশকে আনন্দে ভাসান সাকিব।

দিনের শেষভাগে বাংলাদেশ বোলারদের হঠাৎ জেগে ওঠায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস গুটিয়ে যাওয়ায় শঙ্কায় পড়ে। কিন্তু লঙ্কানদের ভরসার প্রতীক হিসেবে ক্রিজে টিকে ছিলেন করুণারত্নে। সেই ভরসাকেও পরবর্তীতে ফিরিয়ে দিয়েছেন সাকিব। দলীয় ২১৭ রানে করুণারত্নের বিদায় নিশ্চিত করেন সাকিব। ১০টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৪৪ বলে ১২৬ রান করেন টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি পাওয়া করুণারত্নে।

এরপর তাইজুল ইসলামের হাত ধরে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথের উইকেটও শিকার করে বাংলাদেশ। তবে দিলরুয়ান পেরেরা ও সুরাঙ্গা লাকমালের রক্ষণশীল ব্যাটিংয়ে পরবর্তীতে আর কোনো উইকেট হারায়নি শ্রীলঙ্কা। পেরেরা ২৬ ও লাকমল ১৬ রানে অপরাজিত আছেন।

পঞ্চম দিনে পেরেরা অর্ধশত তুলে রান আউটের শিকার হন। বেশিদূর যেতে পারেননি লকমলও। ৩১৮ রানে পেরেরা আউট হওয়ার পাম মাত্র ১ রান যোগ করে তিনিও সাজঘরে ফেরেন। এতে শ্রীলঙ্কা ৩১৮ রানে অলআউট হয়।

বাংলাদেশের সাকিব ৪টি ও মোস্তাফিজ ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে, টস জিতে আগে ব্যাট করে দীনেশ চান্দিমলের ১৩৭ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংসে ৩৩৮ রান করে। এছাড়া ডিকওয়েলা ৩৪, সিলভা ৩৪ ও লাকমলের ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান।

জবাবে বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিন ৫ উইকেট হারালেও তৃতীয় দিন টাইগাররা আড়াই সেশনের মতো খেলে নিজেদের বাকি উইকেটগুলো হারিয়ে ৪৬৭ রান তোলে। ফলে শ্রীলঙ্কার থেকে প্রথম ইনিংসে ১২৯ রানে এগিয়ে থাকে টাইগাররা। দলের শততম টেস্টে অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ১১৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। অভিষিক্ত মোসাদ্দেক হোসেন করেন ৭৫ রান। এছাড়া মুশফিক ৫২, তামিম ৪৯, সৌম্য সরকার ৬১, সাব্বির ৪২, ইমরুল ৩৪ রান করেন।

দুই ইনিংসে সাকিব সর্বোচ্চ ৬টি উইকেট নেন। এছাড়া ৫টি, মিরাজ ৪টি উইকেট নেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত