টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আ.লীগই পারে-এই কথাটা ছড়িয়ে দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ১৯  মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):বাংলাদেশে কেবল আওয়ামী লীগই উন্নয়ন করতে পারে-এই কথাটা গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে দিতে দলের নেতা-কর্মীদেরকে আহ্বান জানিয়েছেন সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারের নানা উন্নয়ন প্রকল্পের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেছেন, এখন দেশের মানুষের স্বচ্ছলতা আসছে, সমৃদ্ধির পথে তারা।

রবিবার রাজধানীতে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন তাঁতী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগই যে দেশে উন্নয়ন করে এবং করতে পারে, বাংলাদেশের মানুষ যে আজ একটু উন্নত জীবন পাচ্ছে, দুই বেলা পেট ভরে খেতে পারছে, চলাফেরা করতে পারছে, আর্থিক স্বচ্ছলতা পাচ্ছে, এটা যে একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারই পারে, এই কথাটা, এই বার্তাটা পৌঁছে দিতে হবে ‘

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের বাজার এখন সম্প্রসারিত হচ্ছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, আর্থিক সমৃদ্ধি হচ্ছে। পাঁচ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে উঠে এসেছে।

বেলা ১১টায় অনুষ্ঠান স্থলে আসেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তাঁতী লীগ নেতাদের নিয়ে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তেলন করেন। এরপর পায়রা অবমুক্ত করেন। এরপর তাঁত কল পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

বিএনপির আমলের দারিদ্র্যের হার ৪৭ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই হার আরও সাত-আট ভাগ নামিয়ে আনতে চাই যেন বাংলাদেশে আর দারিদ্র্য না থাকে, কেউ যেন বাংলাদেশকে দরিদ্র বলে অবহেলা করতে না পারে।’

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশকে সরকার উন্নয়নের পথে নিয়ে এসেছে দাবি করে শেখ হাসিনা বলে, ‘আমাদের ঘোষণা ছিল, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। আমার মনে আছে, আমরা যখন এই ঘোষণা দিলাম, তখন বিএনপির লোকেরা ঠাট্টা তামাশা করতো। অথচ আজকে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মোবাইল ফোন এখন সবার হাতে হাতে। বিএনপির আমলে মোবাইল ফোন বিক্রি হতো এক লক্ষ ৩০ হাজার টাকায়। আর ফোন করলে মিনিটে ১০ টাকা, ধরলেও ১০ টাকা দিতে হতো। এখন এক হাজার-দুই হাজার টাকায় ফোন পাওয়া যায়। থ্রি-জি চলে এসেছে, ফোর জিও চলে আসবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন ইউনিয়নে বসেও অনলাইনে জিনিসপত্র কেনা যায়, এমনকি কোরবানির গরুও কিনছে মানুষ।’ তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের চেষ্টা করছি। এতে করে মানুষের জীবন যেমন সহজ হচ্ছে তেমনি কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে অনেক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ছেলেমেয়েদের ট্রেনিং দিচ্ছি, বিভিন্ন ভাষা শেখাচ্ছি… তারা বাংলাদেশে বসে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আউটসোর্সিং করে টাকা কামাই করতে পারছে। …এক কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দিচ্ছে, মায়ের অ্যাকাউন্টে এখন ভাতা চলে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বয়স্ক, প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন ভাতা দেয়া হচ্ছে। …আট হাজারের মতো পোস্ট অফিস হচ্ছে, এগুলো ডিজিটাল হচ্ছে, মালপত্র পরিবহন যেন তারা করতে পারে, সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি বাড়ি একটি খামার কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি, সেখানে বিনিয়োগ হবে, মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে, উৎপাদন বাড়বে, আমাদের রপ্তানি বাড়বে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক নীতিমালার মূল লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা। …একটি বাড়ি, একটি খামার প্রকল্পের সাথে সাথে আমরা ক্ষুদ্র ঋণের সুদ টানতে গিয়ে মানুষ যেন ভোগান্তিতে না পরে সে জন্য সঞ্চয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে বিনা জামানতে দুই লাখ টাকা ঋণ নেয়া যায় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জামানত দিলে আরও বেশি লোন নেয়া যায়, এই টাকা দিয়ে যে কেউ ছোটখাট ব্যবসা করতে পারে’

সরকারের এসব উদ্যোগের বিষয়ে জনগণকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যে উন্নয়নের কাজগুলো করছি, সেটার ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে গ্রামেগঞ্জে। সেই সঙ্গে মানুষের যে সমস্যা আছে, সেটাও জানতে হবে, সমাধানের ব্যবস্থা করতে হবে।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত