টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সেন্টমার্টিনে বন্ধ হচ্ছে যত্রতত্র অবকাঠামো নির্মাণ, পর্যটক বিচরণে আসছে নিষেধাজ্ঞা

ইমাম খাইর
কক্সবাজার ব্যুরো

চট্টগ্রাম, ১৭  মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকের অবাধ বিচরণ ও যত্রতত্র অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের নিষেধাজ্ঞা আসছে সহসাই। দেশের বিচ্ছিন্ন দ্বীপটি ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সুপারিশ অনুযায়ী এরই মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত এক রিট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে দ্বীপে পাকা স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ এবং নির্মিত সব স্থাপনা উচ্ছেদ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। নির্দেশনা মতে, সেন্টমার্টিনে ছোট কিংবা বড় কোনো স্থাপনাই নির্মাণের সুযোগ নেই। কিন্তু তার পরও সেখানে গড়ে উঠছে একের পর এক স্থাপনা।

গত ১৯ ফেব্রæয়ারি থেকে জাতীয় একটি দৈনিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেন্টমার্টিন দ্বীপ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তদন্ত কমিটি গঠনসহ নানা সুপারিশ করা হয়।

এদিকে সেন্টমার্টিনে নির্মিত এবং নির্মাণাধীন আবাসিক হোটেলসহ সব অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক। গত মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) জেলা প্রশাসকের পক্ষে পর্যটন সেলের সহকারী কমিশনার এহেছানুল মুরাদ টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, টেকনাফ সহকারী কমিশনার (ভূমি), টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে এ নির্দেশনা দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘আদালতকে আমি সব সময় সম্মান করি, তাই সেন্টমার্টিন নিয়ে আদালতের যে নির্দেশনা রয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি।’

জানা গেছে, সেন্টমার্টিনে তিন বছরের জন্য সাময়িকভাবে পর্যটন বন্ধ করে দ্বীপটি পুনর্গঠনের সুপারিশ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশ অধিদপ্তর মনে করছে, মাত্রাতিরিক্ত পর্যটনের কারণে সেন্টমার্টিনে পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করতে সেখানে অন্তত আগামী তিন বছর সব পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। এ সময় দ্বীপটি পুনর্গঠন তথা জীববৈচিত্র্য প্রতিস্থাপনের পর নিয়ন্ত্রিত এবং পরিকল্পিত পর্যটন চালুর মাধ্যমে দ্বীপকে রক্ষা করা যেতে পারে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয় থেকে ঢাকায় পাঠানো এক লিখিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেন্টমার্টিনের অবস্থা এতটাই নাজুক যে সেখানে পর্যটন সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে জীববৈচিত্র্য সহায়ক প্রকল্প বাস্তবায়ন না করলে দ্বীপটি সাগরে বিলীন হয়ে যেতে পারে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ১৯৯৯ সালের ১৯ এপ্রিল সেন্টমার্টিনকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে। কিন্তু এ ঘোষণার সঙ্গে আনুষঙ্গিক ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় শুধু ঘোষণার মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকে। কক্সবাজারে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয় না থাকা এবং বিভাগীয় কার্যালয়ে অল্প লোকবল নিয়ে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপের দেখভাল করা কঠিন।’

দ্বীপের সার্বিক পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা চিন্তা করে পরিবেশ অধিদপ্তর ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষা প্রকল্প’ নামে ১৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলে জানান শরিফুল ইসলাম। এ প্রকল্পে কেয়াবন পুনর্র্নিমাণ, কোরালের রিজেনারেশন ও কনজারভেশন, কোরাল সংগ্রহকারীদের বিকল্প কর্মসংস্থানসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস) নামে কক্সবাজারের স্থানীয় একটি পরিবেশবাদী সংগঠন সেন্টমার্টিনের হোটল-রিসোর্টের ওপর একটি জরিপ করে। সে জরিপে প্রতিযোগিতা দিয়ে নির্মাণাধীনসহ ১০৬টি হোটেল-রিসোর্টের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হয়। তারা কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে একটি আবেদন জমা দেয়।

আবেদনে তারা জানায়, আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্তে¡ও সেন্টমার্টিন প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় প্রতিদিন গড়ে উঠছে হোটেল-মোটেলসহ নানা স্থাপনা। বেসরকারি স্থাপনার পাশাপাশি চলছে সরকারি স্থাপনার কাজ।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী এম ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে সেন্টমার্টিন দ্বীপের নির্মিত এবং নির্মাণাধীন আবাসিক হোটেলের একটি তালিকা সংযুক্ত করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে যে আবেদন জমা দিয়েছিলাম। সে আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য এক জনপ্রতিনিধিসহ চার সরকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, তালিকাটি আমলে নিয়ে উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়ন করলে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা সেন্টমার্টিন দ্বীপে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত