টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামেও বিআরটিসির বাস চলছে বেসরকারি খাতে!

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ১৭  মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামেও বিআরটিসির বাস চলছে বেসরকারি খাতে, ব্যক্তিগত নিয়মে। মৌখিক চুক্তিতে। এর মূল কারন হচ্ছে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটির বাস থাকলেও চালক ও কন্টাকটার নেই পর্যাপ্ত। এ সুবাধে সরকারি এসব বাসের আয় লুটেপুটে খাচ্ছে বেসরকারি বাসের চালক ও সহকারীরা।

সূত্র জানায়, সারাদেশে বিআরটিসির মোট বাসের সংখ্যা ১ হাজার ৫৩৮ টি। এর মধ্যে ঢাকা বা ঢাকার বাইরে সচল অবস্থায় আছে ১ হাজার ৪০টি। বাকি ৪৯৮টি মধ্যে কিছু মেরামতাধীন বাস বাদে অধিকাংশ পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

এরমধ্যে সচল বাসের ১১২টি দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তিতে ইজারা দেয়া আছে। বাকি ৯২৮টির মধ্যে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চলা প্রায় ২০০ বাস বাদে অধিকাংশই স্বল্প মেয়াদী চুক্তিতে ইজারা দেওয়া হয়েছে। আর চট্টগ্রামে ৫৬টি বাসের সবকটিই চলছে স্বল্প মেয়াদী চুক্তিতে।

সূত্র মতে, রক্ষণাবেক্ষণে পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় বাস ইজারা দিতে বাধ্য হচ্ছে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সব বাস ঠিকভাবে পরিচালনা করতে হলে চালক লাগবে ২ হাজার ৬০০ জন। অথচ আছে মাত্র ১ হাজার ৭৫০ জন চালক।

একই সাথে কন্টাকটার প্রয়োজন ২ হাজার ৬০০, কিন্তু আছে মাত্র ৩৫০ জন! এই ৩৫০ জনের ভিতরে আবার অর্ধেকেরও কম কন্টাকটার রাস্তায় কাজ করে। লোকবলের অভাবের কারণে কেউ প্রযুক্তিগত দিকে কাজ করছে, কেউ আবার প্রশাসনিকসহ বিভিন্ন কাজ করছে!

চট্টগ্রাম মহানগর স্টেশন রোড, অলঙ্কার মোড়, হাটহাজারীর নতুন পাড়া ডিপোর আওতায় সচল ৫৬টি বাসের জন্য কন্টাকটার আছে মাত্র ৩১ জন। এর মধ্যে গাড়িতে কন্টাকটারি করে ১৬ জন! বাকি ১৫ জন কাজ করছে অন্য বিভাগে!

চট্টগ্রাম বিআরটিসির দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, নগরীর স্টেশন রোড বিআরটিসি ডিপোর ৮টি বাস আর অন্য দু-একটা ডিপোর কিছু বাস বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য চালানো হয়। এছাড়া কিছু স্টাফ বাস বাদে প্রায় সকল বাস স্বল্প মেয়াদী চুক্তিতে চলানো হয়। এর প্রধান সমস্যা হলো লোকবল না থাকা।

এক্ষেত্রে বাস চালকের নামে দেয়া হয়। চালক কন্টাকটার নিয়ে বাস চালায়। ট্রিপ প্রতি ৫০০, ৬০০ বা ১০০০ টাকা করে জমা দেয় বিআরটিসিতে। এর বেশি টুকটাক কামালে সেটা তাদের থাকে!

কয়েকজন কন্টাকটারের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তার ভিতরে অলঙ্কার মোড় ডিপোর আওতার বাসের একজন কন্টাকটার নিজেকে ইজারাদার পরিচয় দিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রায় সব বাসই চলছে চুক্তিতে। এই বাসটি আমি চালাচ্ছি, প্রতিট্রিপে ডিপোকে দেব ১০০০ টাকা। চালক এবং তেলসহ যাবতীয় খরচ বহন করবে বিআরটিসি।

আমার কাজ হলো, প্রতিট্রিপ হিসাব করে ডিপোকে টাকা দেওয়া। কত টাকা কামালাম, না কামালাম এটা ডিপোর লোকজন দেখতে আসবে না। এই যে দুই জন অতিরিক্ত কন্টাকটার রেখেছি এদেরকেসহ চালককে খুশি করে যা থাকে সবই আমার!

হাটহাজারী নতুন পাড়া ডিপোর একজন চালক বলেন, ট্রিপ প্রতি ১০০০ টাকা করে দিতে হয়। এটা চলছে আমার নামে, কিন্তু টাকা পয়সা নিবে সব কন্টাকটার। কন্টাকটারই প্রতি ট্রিপ হিসাবে এটা চুক্তিতে নিয়েছে।

বিআরটিসিতে ২৮ বছর ধরে কন্টাকটারি করেন এমন একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি কন্টাকটার না থাকলে গাড়ি তো ইজারাই দিতে হবে। বাসের চালক তো আর টাকা তুলতে পারে না! এই জন্যই মূলত বাসগুলো চালকের নামে চলে। আর চালক যাকে ইচ্ছে তাকে দিয়ে স্বল্প মেয়াদীভাবে এক মাস, এক সপ্তাহ বা এর চেয়ে কম সময়ের জন্য ইজারা নিয়ে চালাচ্ছে বাইরের কন্টাকটাররা।

এদিকে বিআরটিসি বাসের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার যে ভাড়া নির্ধারিত করে দিয়েছে তা মানছে না হেলপাররা। একেক জনের কাছ থেকে একেক রকম ভাড়া আদায় করছে। সরকারি বাসগুলো ব্যক্তি মালিকানাতে চালানো হচ্ছে বলেই এই সমস্যা।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, সরকার আমাদের বেতন দেয় না। আমাদের বেতন আসে বিআরটিসি থেকেই। লোকবল ঘাটতির জন্য স্বল্প বা দীর্ঘ মেয়াদীভাবে বাস ইজারা দিতে হয়। দীর্ঘ মেয়াদে ইজারা দেওয়া বাস আছে ১১২ টি। আর বাকিগুলো কিভাবে দেয় না দেয় সে ডিপোর ম্যানেজাররা জানেন!

সমস্যা সমাধানের কোন উপায় আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, আমাদের অনেক লোক দরকার বিআরটিসিতে কিন্তু নিতে পারছি না আর্থিক সমস্যার কারণে। এদিকে কিছু দিন আগে সরকার সকল সরকারি কর্মচারীর দ্বিগুণ বেতন বাড়ানোতে হয়েছে আরো ঝামেলা।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত