টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সীতাকুন্ডে জঙ্গি প্রতিরোধে বিস্মিত পুলিশ

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ১৬  মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানার ভেতর থেকে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা যেভাবে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছে তাতে বিস্ময় প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তারা জানায়, কয়েক ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখার পর চার পাশ থেকে গুলি ছোড়া হলেও জঙ্গিরা ভেতর থেকে পাল্টা জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছে। তাদের ছোড়া গ্রেনেডের মুখে এক পর্যায়ে পিছু হটতেও বাধ্য হয় পুলিশ।

বুধবার দুপুরের পর শুরু হওয়া এই জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সমাপ্তি ঘটে আজ বৃহ¯পতিবার সকালে। বুধবার দুপুর থেকেই ছায়ানীড় নামের ওই বাড়িটি ঘিরে রাখে সীতাকুন্ড থানা পুলিশ। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ ও ঢাকা মহানগর পুলিশের জঙ্গিবিরোধী বিশেষ শাখা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট, সোয়াত ও র‌্যাবের দলও। পুলিশের সম্মিলিত শক্তিতে বাড়িটিতে অভিযান শুরু হয় ভোরে। এর নাম রাখা হয় অ্যাসল্ট-সিক্সটিন।

অভিযান পরিচালনায় অংশ নেওয়া পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ঢাকার অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) আব্দুল মান্নান জানান, বুধবার রাত নয়টায় চার পাশ থেকে মুহুর্মুহু গুলি ছুড়ে অভিযান শুরু করেছিল আমেরিকা থেকে জঙ্গি দমনে বিশেষ প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত সোয়াত বাহিনী। কিন্তু জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেডে পিছু হটতে বাধ্য হয় তারা।

রাত একটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঢাকা থেকে যাওয়া সোয়াতের আরও একটি দল। কিন্তু আশপাশের মানুষের কথা ভেবে অন্ধকারে অভিযানে যায়নি তারা। ভোরে অন্ধকার কেটে আলো দেখা যাওয়ার পর পর লোকজনকে সরিয়ে অভিযান শুরু করে সোয়াত।

চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা জানান, সীতাকুন্ড পৌর সদর প্রেমতলা এলাকার চৌধুরীপাড়ায় ছায়ানীড় ভবনের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে বুধবার বিকেলে প্রথম প্রতিরোধের সম্মুখীন হন সীতাকুন্ড থানা পুলিশের একটি দল। এ সময় আস্তানার ভেতর থেকে জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেডে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাম্মেল হক আহত হন।

এরপর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সের রিজার্ভ পুলিশ ও বোমা বিশেষজ্ঞ দল ছুটে আসে ঘটনাস্থলে। তাতেও স্বস্তি বোধ না করায় অবশেষে আহবান জানানো হয় জঙ্গি দমনে আমেরিকা থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সোয়াত বাহিনীকে।

রাত আট টার দিকে পুলিশের একটি সাজোয়া যান নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এই বাহিনীর শতাধিক সদস্য। রাত নয়টার দিকে একে একে ছুটে আসা সকল পুলিশের সমন্বয়ে শুরু হয় অভিযান।

নুরে আলম মিনা জানান, বুধবার রাতের মতই বৃহ¯পতিবার ভোরের অভিযানও প্রতিহতের চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশের দল গুলি করতে করতে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করলে আস্তানার ভেতরে থাকা সন্দেহভাজন জঙ্গিরা গ্রেনেড ছুড়ে জবাব দেয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে আতœঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। এতে এক নারীসহ তিন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়।

এই অপারেশনে সোয়াতের দুই সদস্যসহ চার-পাঁচজন পুলিশ আহত হন, যাদের দুই জনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই বাড়িতে অভিযানের আগে পুলিশ একই এলাকায় আরও একটি সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানার সন্ধ্যান পায়। সাধন কুঠির নামে ওই বাড়িতে গেলেও পুলিশ সদস্যরা বোমা হামলার শিকার হয়। এতে আহত হন সীতাকুন্ডে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাম্মেল হক। তবে ওই বাড়ি থেকে জসিম উদ্দিন ও আর্জিনা আক্তার নামে দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এরা নিজেদেরকে স্বামী-স্ত্রী বলে পরিচয় দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে দুই মাস বয়সী একটি শিশুপুত্রও রয়েছে। এ সময় আর্জিনার কোমরে বোমা বাঁধা ছিল। এ থেকে পুলিশ ধারণা করছে, তিনি আত্মঘাতী জঙ্গি দলের সদস্য।

আর এই আস্তানা থেকে আত্মঘাতী বেল্ট, তিনটি গ্রেনেড ও বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সার্কিট উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তা নিষ্ক্রিয় করে চট্টগ্রাম মহানগর পলিশের বোমা বিশেষজ্ঞ দল।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত