টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আশেকে রাসূল, কীর্তিমান মহাপুরুষঃপীরে ত্বরিকত আল্লামা শায়খ সৈয়দ মুহাম্মদ আব্দুল জলিল (রহঃ)

নুর মোহাম্মদ

চট্টগ্রাম, ১৫ মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: পীরে ত্বরিকত আল্লামা শায়খ সৈয়দ মুহাম্মদ আব্দুল জলিল (রহ:) ছাহেব হায়াতে জিন্দেগীর সমস্ত সময়টুকু আল্লাহর প্রিয় হাবীব (দরূদ) পুর্ণাঙ্গ অনুসারী ছিলেন,নিজের জীবনে ,অর্থাৎ পারিবারিক, সামাজিক থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে রাছুলে পাক্ (দরূদ) ও আদর্শের প্রভাব ছিল ।

১৩১১ হিজরী ১৮৮৯ খৃষ্টাব্দ রোজ জুমাবার, সুবহি সাদিক্ব এর সময় তিনি মায়ের গর্ব হতে এ ধরায় তশরীফ আনেন । পিতৃ বংশ ছিল আরবীয় পুর্বপুরূষ । উনার পৈত্রিক নিবাশ ছিল কদলপুর, মিরাপাড়ার মীর বাড়ী, তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতা হযরত মাওলানা ছৈয়্যদ মফিজউল্লাহ মিঞাজী (রহঃ) এসেছিলেন কাগতিয়ায় দ্বীনি শিক্ষা দেয়ার জন্যে, এখানে এসে সমভ্রাšত বংশীয় পরিবারের (প্রকাশ মনু মিঞাজী বর্তমানে বাঁশখালী থানার অন্তর্গত ছনুয়া নামক ইউনিয়নে যেখানে এখনো ঐ বংশের ইতিহাস স্থাপত্য রয়েছে যেমন মনু মিঞাজীর ঘাট, মনুমিয়া বাজার ইত্যাদি। মনু মিঞাজি কাগতিয়া গ্রামের প্রসিদ্ধ ধনাঢ্য ও জমিজমার মালিক ছিলেন, এখানে মজিদাপাড়ার পার্শ্বস্থ বিলটি মিয়াজির বিল বা মিজ্জির বিল নামে খ্যাত রয়েছে। এ কারনেই হুজুর কেবলার বাড়ীর নামটি ও ঐ মিয়াজি বাড়ী বা মিজ্জিরবাড়ী বলে পরিচিতি লাভ করেছে। মনু মিজ্জির মূল ঘর ছিল বর্তমান গুরন পিতার বাড়ীর পূর্বপার্শ্বেও নতুনবাড়ীর দক্ষিণ পার্শ্বে যে ভিটা রয়েছে সেটি মূলত মিঞাজির ভিটা বা মিজ্জির ভিটা নামে সবার কাছে এখানো পরিচিত। এ হল হুজুর কেবলার মায়ের বংশীয় ইতিহাস, মনু মিঞার মেয়ে নজমুন্নিসাকে হুজুরের আব্বাজান আল্লামা মফিজ মফিজউল্লাহ মিঞাজি (রাঃ) শাদি করেন।

মেয়েকে শাদী করে কাগতিয়ায় স্থায়ী নিবাসী হন। উল্লেখ্য যে , হুজুর কেবলার পিতার সহধর্মিনী হওয়ার পূর্বে শর্ত দিয়েছিলেন যে যদি আমাকে শুদ্ধ করে কোরান শুনাতে পারে তবে আমি উনাকে স্বামী হিসাবে গ্রহণ করব। পরে হুজুর কেবলার পিতা শুদ্ধ করে কোরান শুনান এবং উনাদের সাদী মোবারক হয়, এরকম হুছনে আখলাকানদের মাধ্যমে এই আধ্যাত্ব্যিক মনিষী রাহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরিকত আলামা গাজী শায়খ ছৈয়্যদ শায়খ মুহাম্মদ আব্দূল জলিল (রহঃ) হুজুর কেবলার ধরাতে তাশরীফ আনেন ।

শিশু বয়সে খুব বেশী কথা বলতেন না এবং খেলাধুলা ও সমবয়সিদের সাথে আড্ডা দিতেন না। সব সময় তিনি নামায ও কোরআন তেলোয়াত নিয়ে ব্যস্থ থাকতেন। অল্প সময়ে প্রাইমারী শিক্ষা ও উনার মহীয়ষী আম্মাজান থেকে কোরান তেলোয়াত শিক্ষা নেন । হুজুর কেবলার পড়ালেখার প্রতিভা দেখে উনার পিতা সুদুর দিল্লিতে পাঠিয়ে দেন পড়ালেখার জন্যে, দিল্লি দেওবন্দ মাদ্রাসা থেকে দস্তার বন্দী (দাওরায়ে হাদীছ) করে নিজ আবাস ভূমিতে প্রত্যবর্তণ করেন। ফিরে এসে তৌহিদ ও রেছালতের তথা আহলে ছুন্নাত ওয়াল জামাতের প্রচার কার্যে (ওয়াজ মাহফিল) নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। উল্লেখ্য যে হুজুর কেবলা দেওবন্দ মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেও সবসময় ওহাবীদের আক্বিদা বিরোদ্বে কঠোর ছিলেন। ওয়াহাবীদের পেছনে নামাযের ইকতাদা করতেন না। ওয়াহাবীদের সাথে আত্মীয়তা ও নাপছন্দ করতেন না। মোটকথা হল হুজুর নবী করিম (দরুদ) এর সাথে অধিক মহব্বতের কারণে কেউ যদি হুজুর করিম (দরুদ) কে আমার মত রক্তে মাংসে গড়া বা নামাযের মাধ্যে নবীজির (দরুদ) খেয়াল আসা হারাম মনে করা ইত্যাদি এরকম আকিদার মানুষকে তিনি খারাপ জানিতেন।

তিনি পর পর দু’টি সাদী করেন প্রথমটি নিজ পিতৃব্য বংশীয় দ্বিতীয়টি চৌধুরী বংশের, প্রথম সহধর্মিনির এক ছেলে (আড়াই বৎসর বয়সে ইন্তিকাল করেন) পাঁচ মেয়ে (চার মেযে হুজুর কেবলার জিবদ্দশায় ইন্তিকাল করেন তাদের নাম হল- আমাতুল হক, আমাতুন নূর, আমাতুর রউফ, আমাতুল করিম আরদ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান-সন্ততির নাম হল ঃ শামশুন্নাহার বেগম ও মাওলানা ছৈয়্যদ মুহাম্মদ আব্দুল মতিন আনছারী (রাঃ)। দ্বিতীয় সহধর্মিনির এক ছেলে দুই মেয়ে। এক মেয়ে ছোট বয়সে ইন্তিকাল করেন ।

পারিবারিক ভরণ-পোষনের জন্য দ্বীনি ইসলামের খেদমতের পাশাপাশি কাপড়ের ব্যবসা করেছিলেন। ইতিহাসেও দেখা যায় সাহাবায়ে কেরাম তাবেয়ী ও প্রায় আওলিয়ায়ে কামেলিনরা দ্বীন মাযহাবের প্রচার প্রসার করার বিনিময়ে আর্জিত টাকায় পরিবার পরিচালনার চেয়ে ব্যবসা- বাণিজ্য করে বেশীর ভাগ নবী অলিরা পরিবারের ভরণ-পোষন করেছেন। হুজুর কেবলা ও তাদের পথে চলার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ইবাদত রেয়াজতে হুজুর নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াছাল্লাম) এর পূর্ণাঙ্গ অনুসারী ছিলেন। হুজুর নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াছাল্লাম) যেভাবে সাংসরিক জীবন চালিয়েছেন ঠিক তেমনি ভাবে হুজুর কেবলার জীবন গড়ে তুলেছিলেন । পরে সময়ের স্বল্পতার কারনে ব্যবসা বন্ধ করে দ্বিনী ইসলামের খেদমতের দিকে সারা জীবন ব্যয় করেন । সংসারে অভাব অনটনে পরলেও আল্লাহ ও রাছুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াছাল্লাম) সন্তুষ্ঠি অর্জনের জন্য অল্প উপার্জণে সন্তুুষ্ঠ ছিলেন। কখনো নিজের অভাব অনটনের কথা কারো নিকট প্রকাশ করতেন না। বরঞ্চ পরোপকারের জন্য অর্থাৎ গরীব এতিম অনাথ অসহায়দের সাহায্যের হাত প্রসারিত রাখতেন। অভাবের মধ্যে থেকেও অতিথি ব্যতীত একবেলা আহার করতেননা যেটা হুজুর নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াছাল্লাম) এর ছুন্নত। জন শ্রæতি আছে যে যদি কখনো হুজুর কেবলার ঘরে কোন মেহমান না থাকত তিনি বটগাছের পাশে দাড়িয়ে থাকতেন (বটগাছটি বর্তমানে নেই ১৯৯১ সালে গাছটি কেটে ফেলা হয়ছিল বর্তমানে হুজুর কেবলার স্বরণে গেইট রয়েছে ঐ স্থানে) কাউকে না কাউকে মেহমান করে ঘরে নিয়ে আসতেন এবং একসাথে বসে আহার করতেন। হুজুর কেবলা কোন অহংকার বা গর্ব ছিলনা খুবই সাদা মাটা জীবন যাপন পছন্দ করতেন। ঘরে যারা কাজকর্ম করতেন উনার সাথে খাবার খেয়ে নিতেন। উনি বলতেন কাজের লোকের সাথে না খেলে উনি মনে করতে পারে কাজের লোকদের খারাপ খাওয়াচ্ছি বা আমরা ভাল খাচ্ছি। এটা মনে না কারার জন্য হুজুর কেবলার ওদের সাথে খাবার খেতেন।

তিনি বাতেনী জ্ঞান তথা সিনা বা সিনার জ্ঞান আহরণের জন্য বেতাগী দরবার শরীফের মহান পিরে দস্তগীর গৌছে যমান হাফেয হাকীম শাহ্ মুহাম্মদ বজলুর রহমান মহাজেরে মক্বি (রহঃ) ছাহেবের হাতে বায়াত গ্রহণ করে ছূফিবাদের হাতেকড়ি নেন দুনিয়াবী স্বার্থে কারো সাথে হিংসা বিদ্বেষ অপছন্দ করতেন, তিনি নিজের নফস্কে এমন ভাবে সংযত করতে সক্ষম হয়েছেন যে, কখনো তাঁকে লোভ লালসায় আকৃষ্ট করতে পারেনি।

বেতাগী দরবার শরীফের পীর ছাহেব কেবলা কুতুবে জামান শাহ মুহাম্মদ জিল্লুর রহমান (রহঃ) শাহজাদা মাওলানা সারোয়ার আজমকে বলেন, যে দিন হুজুর কেবলা ইন্তিকাল করবেন সেই দিন সকালবেলা তাকে কয়েক ডাক দেন তখন তিনি পুকুরে গোসল করছিলেন পেছনে ফিরে তাহার তালইকে না দেখে তিনি মনে করলেন তিনি ঘরের ভিতরে প্রবেশ করেছেন। ঘরে গিয়ে তিনি তার আম্মাকে আমার তালই আসছেকিনা জিজ্ঞাসা করে। তার আম্মা বলেন, আসেনি । তখন তাহার সন্দেহ হয় মনে তিনি ইন্তিকাল করেছেন, এই চিন্তা আসাতে তিনি কাগতিয়া যাওয়ার জন্য বের হয়। আধাঁরমানিকের কিছু পথ এসে দুই দিকে দুই রাস্তা দেখে তিনি কোন দিকে যাবে, সঙ্গে সঙ্গে পেছন থেকে তার তালয়ের গলার আওয়াজ শুনতে পায়, বলেন ডান দিকের পথ ধরে যাও পেছনে ফিরে দেখি তিনি নেই। এভাবে যখন আমি কাগতিয়া বাজারের পুর্ব পার্শে যখন তিনি আসেন তখন মাইকের আওয়াজে শুনতে পান তার তালই ইন্তিকাল করেছেন। এরপর বাড়ীতে এসে র্পাশে মালেকের কাচারী ঘরে তাকে বিশ্রামের ব্যবস্থা করে দেয়, হেটেঁ আসাতে পরিশ্রমের কারণে একটু হেলান দিতেই তার ঘুম এসে যায়। তিনি স্বপ্নে দেখেন তার তালই তাকে বলেন ওয়া আমাকে আমার বাবার পার্শে কবর দিবে আর আমার জানাজা আমার ছেলেকে পড়াতে বলবে আর জানাজা ঐ জাযগায় হবে এর পর তার তন্দ্রা ভেঙ্গে যায়। হুজুরের এরকম অনেক কারামত রয়েছে। হুজুর কেবলার নাতি বেতাগী নিবাসী মৌলানা ফারুক ছাহেব বলেন। আমার নানাজান আমাদের বাড়ীতে আসেন তখন যোগাযোগের মাধ্যম ছিল নৌকা বা সাম্পান। আমার নানাজান আমাদের বাড়ী থেকে ফেরার পথে যখন নৌকাতে উঠেন তখন নৌকাটি তলায় পানি, বেশীর ভাগ নৌকার অংশটি পানির অর্থ্যাৎ তীরে কাদার সাথে আটকে থাকে। নৌকার মাঝি লম্বা বাঁশ দিয়ে অনেক ঠেলেছেন কিন্তু নৌকা এক চুল পরিমান সামনের দিকে নিতে পারে নাই। অবশেষে হুজুর কেবলা বলেন দাড়াও আর কষ্ঠ করিওনা এ বলে উনার হাতের লাটি মোবারক দিয়ে একটি ধাক্কা দিতেই আপনাপনি নৌকাটি পানিতে চলে যায়। মুলতঃ শক্তিমান লোকেরা যা পারেনা আল্লাহর অলিরা হাতের ইশারায় তা করতে পারে এটাই তার প্রমান।

১৯৬৫ খৃষ্টাব্দ সালে তিনি হাজ্ব ব্রত পালন করেন এখানে ও হুজুর কেবলার আধ্যত্বিকতা প্রকাশ পায়। তৎকালিন নিয়ম ছিল যার নাম লটারীতে উঠে শুধুমাত্র তিনি হজ্বে গমন করতে পারবেন। হুজুর কেবলার মুরিদান হরিষকান পাড়া নিবাসী মতি হোছাইন কোং সস্ত্রীক হজ্বে যাবার জন্য দুইবার ট্রাই করে সুযোগ না পেয়ে হুজুর কবেলার নাম সহ যখন দিলেন তখন সবার যাওয়ার সুযোগ হয়ে যায় এবং মক্কায় জনাব মতি হোসাইন কোং ইšেতকাল করলে হুজুর কেবলা মতি হোছচাইন কোং স্ত্রীকে নিয়ে দেশে ফিরে আসেন।

হুজুর কেবলা যখন যেদিন ইন্তেকাল করবেন এর আগেরদিন নিজ বাড়ীর জনাব আবদুল মালেককে বলেন, ওয়া আজ কি বার এবঙ আগামীকাল কি বার জনাব মালেক বলেন আজ মঙ্গলবার আগামিকাল বুধবার তখন হুজুর কেবলা বলেন ওয়া আগামীকাল কোথাও যেওনা, ঠিকই এর পরেরদিন ২২শে জিলক্বদ ১৩৮৯ হিজরী ১৯৬৮ খৃষ্টাব্দ রোজ বুধবার হুজুর কেবলা বেলা ১১.৩০ মিনিট সময় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে……. রাজেউন) পরের দিন বৃহ¯পতিবার দিনের বেলায় কুতুবে জামান শাহ মুহ্ম্মাদ জিল্লুর রহমান (রহঃ) এর স্বপ্ন অনুযায়ী হুজুর কেবলার দাপন স¤পন্ন করা হয় ।

হযরত সৈয়দ আব্দুল জলিল(রহ:) এর বর্তমান বাড়ি ও মাজার শরীফ রাউজান উপজেলার কাগতিয়া গ্রামের মজিদা পাড়ায় অবস্থিত। তাঁহার চন্দ্রবার্ষিকী ওরশ শরীফ প্রতি বছর ২২ জ্বিলকদ অনুষ্ঠিত হয়। ১ চৈত্র মোতাবেক ১৫ মার্চ বার্ষিক ওরশ শরীফ মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও দরবারের অন্যান্য কর্মকান্ডের মধ্যে ১৮ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স:) ও ১৩ রবিউস সানি বার্ষিক মিলাদ মাহফিল ও খত্মে গাউছিয়া শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। দরবারের বর্তমান সার্বিক কার্যক্রমে যারা সহযোগিতায় আছেন তাঁরা হলেন- শাহাজাদা মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ সারোয়ার আজম ও শাহাজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ দিদারুল আলম। দরবারের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে গঠিত হয়েছে ‘আনজুমানে জলিলীয়া রহমানিয়া বাংলাদেশ’ নামক সংগঠন। এই মহান মনিষীর বার্ষিক ওরছ মোবারক উপলক্ষে সারাদিন ব্যাপী খত্মে কোরান শরীফ, খত্মে তাহলিল, খত্মে গাউছিয়া শরীফ, খত্মে খাজেগানে রহমানিয়া সহ বিভিন্ন দোয়া, হুজুরের জীবনী আলোচনা ও বাদে আছর আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়। মহান আল্লাহতায়ালা এই মনীষির দরবারে সকলকে উপস্থিত থেকে হুজুর কেবলার রূহানী ফয়েজ হাছিল করার তৌফিক দান করূন, আমিন।

লেখক : সহ-সভাপতি, রাউজান রাইটার্স ক্লাব ও সম্পাদক, তোহ্ফায়ে রহমানিয়া।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত