টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ইটভাটার ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে বিদ্যালয়ের ৪০০ শিক্ষার্থী!

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ১৫ মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: : কাঁশি ও শ্বাসকষ্টের কারনে এসেস্বলি করতে পারি না। শ্রেণীকক্ষেও একই দশা। বললেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্টান চরম্বা মাইজবিলা অলি আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

তারা জানান, বিদ্যালয়ের পাশে বসানো ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় মারাত্মক কাঁশি আর শ্বাসকষ্টে ভুগছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এ বিদ্যালয়ে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী ও ২০ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।

সূত্র জানায়, চরম্বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা বাহাদুর কোম্পানী এই ইটভাটার মালিক। গত ৪-৫ বছর আগে তিনি বিদ্যালয় থেকে মাত্র ২০০ গজ দুরে এই ইটভাটা স্থাপন করেন।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কাঠ ও টায়ার পুড়িয়ে ইট পুড়ানোয় ইটভাটা থেকে প্রতিনিয়ত কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। এ ধোঁয়া জ্বলন্ত সিগারেটের ধোঁয়ার মতো বিষাক্ত। এতে বিদ্যালয়ের চারপাশসহ প্রায় এক-দেড় কিলোমিটার এলাকার পরিবেশ দুষিত হয়ে পড়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক দিদারুল আলম জানান, ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ার কারনে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান সম্ভব হয় না। পড়া দেওয়ার সময় কাঁেশ আর হাঁপায় শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি শিক্ষার্থীর গলার কন্ঠস্বর পর্যন্ত কর্কশ হয়ে উঠেছে।

একইভাবে ইটভাটার ধোঁয়া ও বালির কারণে পাঠদান শুরুর আগে এসেম্বলি করা সম্ভব হয় না। নাকে-মুখে মুখোশ পড়েও ইটভাটার ধোঁয়ার দুর্গন্ধ থেকে বাঁচা দায় হয়ে উঠেছে। অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা ছেড়ে দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়ে না যাওয়ার জন্য কান্নাকাটি করে সন্তানরা। বিদ্যালয়ে গেলেও সেখান থেকে ফিরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাছাড়া বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী কাঁশি ও শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগছে বলে জানান তারা।

কাঁিশ ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহেদ ও সাহেদুল ইসলাম বলেন, বাড়িতে থাকলে যেমন তেমন বিদ্যালয়ে গেলে কাঁশি ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। এতে বুকে ও পেটে তীব্র ব্যাথা লাগে। গলাটাও যেন বিঁধে।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ইটভাটার ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে শ^াসকষ্টজনিত রোগে ভুগছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এদের অনেকে এখানে চিকিৎসা নিয়েছে। দীর্ঘদিন এ পরিবেশ বজায় থাকলে শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান আক্ষেপ করে বলেন, বিদ্যালয়টি ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্টিত। বিভিন্ন এলাকা হতে সন্তানেরা এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতে আসে। পূর্বে পড়ালেখার মান ও পরিবেশ ভাল থাকলেও ইটভাটার কারণে পাঠদান দিতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ইউপি সদস্য জানে আলম বলেন, ইটভাটার কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ জনগণ চলাচল করতে রীতিমত ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এ বিষয়ে বলা সত্তে¡ও কর্ণপাত করছেন না ইটভাটার মালিক বাহাদুর কোম্পানী। উল্টো আওয়ামী লীগের দাপট দেখান তিনি।

জানতে চাইলে ইটভাটার মালিক বাহাদুর কো¤পানী মুঠোফোনে বলেন, ইটভাটার ধোঁয়ায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে না। আমার ইটভাটা ড্রাম চিমনির নয়। তাছাড়া বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নে আমি আর্থিকভাবে সহযোগিতা দিয়ে আসছি।

প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জিগজ্যাগ পদ্ধতিই হচ্ছে পরিবেশ সম্মত। তবে তা ব্যয়বহুল। তাছাড়া কেউ তো এই পদ্ধতিতে ইটভাটা করছে না। সবাই করলে আমিও করব।

বিদ্যালয়ের সভাপতি নাজিম উদ্দিন প্রকাশ নজির মেম্বার বলেন, বাহাদুর কোম্পানী আর্থিক সহযোগীতা কোন সময়ই করেননি। বরং ইটভাটার বিরুদ্ধে কথা বলায় নানারকম হুমকি দিচ্ছেন।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ফিজনুর রহমান বলেন, ইটভাটার কারনে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নাজুক। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত