টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আধিপত্য ধরে রেখেছে টাইগাররা

চট্টগ্রাম, ১৫ মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: মেহেদী হাসান মিরাজের জোড়া আঘাত, মোস্তাফিজ ও শুভাশিষের দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম সেশনটি স্বপ্নের মতো কাটানোর পর দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেও উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর শ্রীলঙ্কা প্রতিরোধ গড়লেও নিজেদের শততম টেস্টে আধিপত্য ধরে রেখেছে টাইগাররাই।

দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে লঙ্কানরা ১০০ রানের কোটা অতিক্রম করে। ৭০ রানে চার উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা লঙ্কানদের কিছুটা আশার আলো দেখান দিনেশ চান্দিমাল ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। পঞ্চম উইকেট জুটিতে দু’জনে ৬৬ রান যোগ করেন।

চান্দিমাল ও ডি সিলভা জুটি মারাত্মক হয়ে ওঠার আগেই ধনঞ্জয়াকে আউট করে টাইগার শিবিরে স্বস্তি ফেরান তাইজুল ইসলাম। ইনিংসের ৪৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সিলভাকে বোল্ড করেন তাইজুল। ৫৪ বলে ৩৪ রান স্বাগতিক ব্যাটসম্যানের।

পরে ইনিংসের ৩৯ ওভারের প্রথম বলেই চান্দিমালের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন তোলে বাংলাদেশ। সাকিবের করা ওই বলে আম্পায়ারও সাড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু রিভিউতে শেষ পর্যন্ত নিজের উইকেট বাঁচাতে সক্ষম হন চান্দিমাল। পরে অর্ধশতকও তুলে নেন।

সকালে কলম্বোর পি সারা স্টেডিয়ামে দিমুথ কারুনারত্নের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ওভারের প্রথম বলটি করলেন মোস্তাফিজুর রহমান। শততম মাইলফলকের ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখার বাড়তি উপলক্ষ যোগ হলো তার ক্যারিয়ারে। পরে প্রথম সাফল্যটি এসেছে তার বলেই। সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজের জোড়া আঘাত, তাতে শুরুটা দারুণ হয় বাংলাদেশের।

বুধবার টস জিতে ব্যাট করতে নামে শ্রীলঙ্কা। দুই ওপেনার দিমুথ কারুনারত্নে ও উপুল থারাঙ্গা শুরুতে দেখেশুনেই খেলতে থাকেন। টাইগার বোলাররাও রানের গতিতে লাগাম দিয়ে রাখেন। মোস্তাফিজের দুর্দান্ত ডেলিভারিগুলো সামলাতে বেশ কয়েকবার পরাস্ত হন লঙ্কান ওপেনাররা।

লঙ্কানদের তখন ৮ ওভারে মাত্র ১১ রান। দুই ওপেনার ক্রিজে জমে থাকার মিশন নিয়েছেন। তাদের পণে রণভঙ্গ দিলেন কাটার মাস্টার। নবম ওভারে এসে মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে কারুনারত্নেকে (৭) সাজঘরে পাঠান ফিজ। কাটার মাস্টারের স্টাম্পের বাইরের বলে শট খেলতে গিয়ে গালিতে তালুবন্দী হন স্বাগতিক উদ্বোধনী।

পরে ১১তম ওভারে থারাঙ্গাকে প্রায় ফাঁদেই ফেলেছিলেন। মিডল ও লেগস্টাম্পের মাঝে ফেলা কাটার থারাঙ্গার প্যাডে লাগলে জোরালো আবেদন করেন ফিল্ডাররা। আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত দিলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান লঙ্কান ব্যাটসম্যান।

পরের ওভারেই দৃশ্যপটে মিরাজ। এই অফস্পিনার কুশল মেন্ডিসকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন। এক ম্যাচ পরেই গ্লাভস হাতে ফেরা মুশফিকের কল্যাণে সাজঘরে মেন্ডিস (৫)।
তৃতীয় সাফল্যটিও এসেছে মিরাজের হাত ধরেই। এই তরুণ স্পিনারের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে সৌম্যর তালুবন্দী হয়েছেন থারাঙ্গা (১১)।

ম্যাচে ৩৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে শ্রীলঙ্কা। মিডল অর্ডারে দুই ব্যাটসম্যান দিনেশ চান্দিমাল ও অ্যাসেলা গুনারত্নে ধাক্কা সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেন, ৩৫ রান যোগ করেন দুজনে। এরপরই পেসার শুভাশিষের আঘাত। লাঞ্চের আগে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন গুনারত্নেকে (১৩)।

মতামত