টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে পানির সমস্যা মেটাবে শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার

চট্টগ্রাম, ১৩ মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  চট্টগ্রামে পানির দৈনিক চাহিদা প্রায় ৫০ কোটি লিটারের বেশী। সেখানে চট্টগ্রাম ওয়াসা সরবরাহ করে থাকে মাত্র ২০ কোটি লিটার পর্যন্ত। এতে করে দৈনিক ঘাটতি ছিল থেকে যায় প্রায় ৩০ কোটি লিটার। মাঝে মাঝে ওয়াসা পানির সরবরাহ আরও কম করে থাকে। এতে করে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এই অঞ্চলের বিশুদ্ধ পানির সংকট ছিল চরমে।

তবে সাম্প্রতি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরায় নির্মিত ‘কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প বা শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার পরীক্ষামূলক ভাবে চালু হবার কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকট কমে গেছে প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। কেননা এই প্রকল্প থেকে নগরবাসীকে দৈনিক সরবরাহ করা হবে প্রায় ১৪ কোটি লিটার পানি।

এই প্রকল্প সম্পর্কে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, এই শোধনাগারটি ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলক ভাবে চালু করা হয়েছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির উদ্বোধনের পর সম্পূর্ণরূপে চালু হয় প্রকল্পটি। এই প্রকল্পের পানি পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর সময় পানি নগরীর বিভিন্ন ৪০-৫০ বছর পুরাতন পাইপলাইনে যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার পুরনো পাইপগুলো লিকেজ হওয়া শুরু করেছিল। সে সময় বিভিন্ন রাস্তায় পানি পাইপ ফেটে ছড়িয়ে পড়েছিল। সব লিকেজ সংস্কার ও বেশ কিছু পাইপ পরিবর্তন করে দিয়েছি।

তবে বর্তমানে এই সমস্যা বেশ কমে গেছে নেই। লিকেজের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্প উদ্বোধন হলে আমাদের ২০২০ সালের মধ্যে আরও দুইটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্পন্ন করবো। তবে ২০২০ সালের পর নগরীতে পানির কোন সমস্যা থাকবে না। বরং আমরা উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ওয়াসার পানি সরাসরি খাওয়ার উপযোগী করে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছি। সেই সময় এই পানি মিনারেল ওয়াটারের স্বাদ পাবেন গ্রাহকরা। এছাড়া নগরীর বাইরে পটিয়া, আনোয়ারা এলাকায় সরবরাহের জন্য উৎপাদনে আসছে আরো একটি প্রকল্প।

তিনি আরও বলেন, ওয়াসার চলমান আরও ২/৩ টি প্রকল্পের জন্য নগরবাসীকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে। এসময় লিকেজ সমস্যা ছাড়া নানা সমস্যা দেখা যেতে পারে। তবে ওয়াসার মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ২০২০ সালের পর পানি নিয়ে মানুষকে আর কোন ভোগান্তিতে পড়তে হবে না বলে জানান চট্টগ্রাম ওয়াসার এই অভিভাবক।

Sheikh hasina water treatemn plant
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরায় নির্মিত কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প বা শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার সম্পর্কে ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরী থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গুনিয়ার পোমরায় কর্ণফুলী নদীর তীরে সাড়ে ৩৫ একর জমির ওপর এই পানি শোধনাগারটি নির্মাণ করা হয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি পানি শোধনাগারটি ‘শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার’ নামকরণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর আগে গত ১ নভেম্বর থেকে নতুন প্রকল্পের পানি পরীক্ষামূলকভাবে সরবরাহ শুরু করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। পরীক্ষামূলকভাবে পানি সরবরাহ করার প্রায় ৪ মাস পর এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে।

২০০৬ সালে জাইকার অর্থায়নে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ১ এর উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম ওয়াসা। ২০১০ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এর কাজ শুরু হয় ২০০৯ সালে। আর প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৯৬৩ কোটি টাকা ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা। প্রকল্পের প্যাকেজ-১ এর আওতায় ইনটেক, দুটি সার্জ ট্যাংক, ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ২৪ হাজার ৮০০ ঘনমিটারের রিজার্ভার তৈরি ও ২ হাজার ৪০০ ঘনমিটারের এলিভেটেড ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের কার্যক্রম শেষে গত আগস্ট মাস থেকে কর্ণফুলী প্রকল্পের পরীক্ষামূলক পানি সরবরাহ শুরু করে ওয়াসা। সব ধরনের যাচাই শেষে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পে পরিশোধন ও সরবরাহ শুরু হয় গত ২ নভেম্বর। প্রথম দিন প্রায় ৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হয়। শুরুতে নগরীর আগ্রাবাদ, শুলকবহর, হালিশহর, চৌমুহনীসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পানি দেওয়া হয়। ৫ নভেম্বর ১৪ কোটি লিটারের বেশি পানি পরিশোধন করে নগরীর সব এলাকায় সরবরাহ করা হয়। তখন পাইপলাইনে সমস্যা দেখা গেলে সেগুলো সংস্কার করে ওয়াসা।

এসব প্রকল্পের বিষয়ে ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহুরুল হক বলেন, চট্টগ্রাম শহরের পুরাতন পাইপলাইন সংস্কার করে নতুন পাইপলাইন বসানোর কাজ আমরা শুরু করবো। ২০২২ সালের মধ্যে নতুন পাইপলাইন বসানোর কাজ শেষ হতে পারে। এখন যেসব জায়গায় পাইপলাইনে সমস্যা দেখা দিচ্ছে সেগুলো সেকেন্ডারি পাইপলাইন সংস্কার করা হবে। – অর্থসূচক

মতামত