টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার প্রকল্পের উদ্বোধন

চট্টগ্রাম, ১২ মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): নিজের নামে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি শোধনাগার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার (১২ মার্চ) বেলা সাড়ে তিনটায় তিনি এটি উদ্বোধন করার সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা এবং সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

জাপানি দাতাসংস্থা জাইকার অর্থ সহায়তায় ১ হাজার ৮৪৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গুনিয়ার পোমরায় বাস্তবায়ন করা হয় এ প্রকল্পটি।

প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ায় এখান থেকে এখন দিনে ১৪ কোটি লিটার পানি পাওয়া যাচ্ছে। এতদিন চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি উৎপাদনের ক্ষমতা সর্বোচ্চ ১৮ কোটি লিটার থাকলেও এই প্রকল্পের পানি যোগ হওয়ায় এখন পানি উৎপাদনের ক্ষমতা সর্বোচ্চ ৩২ কোটি লিটারে পৌঁছেছে।
গত ১৯ জানুয়ারি ‘শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার’ হিসেবে এটির নামকরণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে নতুন এই প্রকল্পের পানি পরীক্ষামূলকভাবে সরবরাহ শুরু করে চট্টগ্রাম ওয়াসা।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রতিদিন গড়ে ১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ হচ্ছে শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার প্রকল্প থেকে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে নগরবাসীর প্রায় ৭০ শতাংশ পানির চাহিদা পূরণ হবে বলে আশা করছেন চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম নগরী থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গুনিয়ার পোমরায় কর্ণফুলী নদীর তীরে সাড়ে ৩৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার’। প্রতিদিন গড়ে এ প্রকল্প থেকে পানি সরবরাহ হচ্ছে ১৪ কোটি লিটার। চট্টগ্রাম নগরীতে পানির দৈনিক চাহিদা ৫০ কোটি লিটারের বেশি।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, ‘চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গুনিয়ার পোমরায় কর্ণফুলী নদীর তীরে সাড়ে ৩৫ একর জমির ওপর এই পানি শোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। গত বছর ১ নভেম্বর থেকে প্রকল্পে পরীক্ষামূলক পানি উৎপাদন ও সরবরাহ শুরু করা হয়েছে।’

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী জহুরুল হক জানান, কর্ণফুলী নদীর পানি পরিশোধন করে দৈনিক ১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করতে রাঙ্গুনিয়ার পোমরায় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। সেখান থেকে পাইপ লাইনে পানি জমা করা হচ্ছে নগরীর নাসিরাবাদে রিজার্ভারে। সেখান থেকে মহানগরীতে পানি সরবরাহ হচ্ছে।

এ পানি সরবরাহ চালু হওয়ায় প্রতিদিন পানি মিলবে এমন প্রত্যাশা চট্টগ্রাম নগরীর গ্রাহকদের। প্রকল্পের উৎপাদন শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটি উদ্বোধন করার সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে চট্টগ্রামের মদুনাঘাটে আরো একটি পানি প্রকল্পের কাজ চলছে। এ প্রকল্প থেকে দৈনিক ৯ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করতে পারবে ওয়াসা। চলমান এসব প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে ২০২১ সালের মধ্যে নগরীর পানির চাহিদা শতভাগ পূরণ হবে বলে প্রত্যাশা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের।

মতামত