টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামের সবকটি ফার্মের মুরগিতে ক্ষতিকর বিষ!

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ১২ মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): বাঁচতে হলে খেতে হবে। কিন্তু খেয়েও যে মানুষ মৃত্যুর দিকে ছুটছে সে খেয়াল ক‘জনে রাখে। তবে এটি খাবারের দোষ নয়; মানুষই দায়ি। যেমন ফার্মের মুরগি।

আগে আমরা দেখেছি গৃহপালিত মুরগি বড় হতো প্রাকৃতিকভাবে। এসব মুরগির খাবার ছিল পরিবারের জন্য রান্না করা ভাত, ধানের কুড়া ও ভুষি ইত্যাদি। আর ফার্মের মুরগির খাবার দানাদার। যার সাথে মিশ্রিত থাকে নানা রকম রাসায়নিক।

যার কারনে এসব খাবার খেয়ে তাড়াতাড়ি বড় হয় ফার্মের মুরগি। ওজনও বাড়ে। শুধু তাই নয়, মুরগি বড় ও হৃষ্টপুষ্ট করার জন্য প্রয়োগ করা হয় নানা রকম ইনজেকশন। যেগুলোতে লুকিয়ে আছে মরণঘাতক ব্যাকটেরিয়াসহ মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর মারাত্মক জীবাণু। যা সাধারন ভোক্তার পক্ষে বুঝা সহজ নয়।

চট্টগ্রামের সবকটি ফার্মের মুরগিতেই রয়েছে এমনসব মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু। এমনটাই জানিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রাণীসম্পদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রতন কান্তি বিশ্বাস।

তিনি বলেন, একদিনের মুরগির বাচ্চা মাত্র ২৮-৩০দিন লালন-পালনে দেড় কেজি ওজনের হয়। কিন্তু গৃহপালিত মুরগি তিনমাসেও এক কেজি ওজনের সমান হয় না।

তিনি জানান, মুরগির বৃিদ্ধর জন্য গ্রোথ হরমোন প্রয়োগ করা হয়। ফলে মুরগি তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যায়। দেখেন না, বড় চেহারার মুরগীগুলির সঙ্গে আগেকারদিনের দেশি মুরগীর কোন তুলনা হয় না। আগে মুরগী দেখতে সুন্দর না হলেও তার পুষ্টিগুণ ছিল। আর এখন মোটাসোটা চেহারার মুরগী তৈরি করা হয় নানা ধরনের গ্রোথ হরমোন ইনজেকশন দিয়ে।

এছাড়া এখনকারদিনে মুরগীর দেহে হিউম্যান অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। এতে খুব তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি হয় মুরগী। এর ফলে খুব বেশি খাবার দেওয়ারও প্রয়োজন হয় না। আর দানাদার যেসব খাবার মুরগিকে খেতে দেওয়া হয়, তাতেও মিশ্রণ করা হয় নানারকম রাসায়নিক। আর এসব মুরগীর মাংস খেলে মানুষের শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়।

তিনি বলেন. ফার্মের মুরগীর মাংসে আর্সেনিকও রয়েছে। নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন ও ওষুধের ফলে এমন হয়।

এক সমীক্ষা দেখিয়ে তিনি বলেন, শতকরা ৯৭ শতাংশ ক্ষেত্রে মুরগীর ব্রেস্টে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়ে থাকে। আর এসবেরই মূল কারণ স্বাভাবিক উপায়ে বাড়তে না দিয়ে তাড়াতাড়ি মুরগীকে বড় করে তোলার চেষ্টা।

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসবের কারণে ফার্মের মুরগির মাংস যে খাওয়া উপযোগী নয়; তা বলছি না। তবে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মাংস ধোয়ার পরে হাত ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। মাংস ভালো করে সেদ্ধ করবেন ও সর্বোপরি তাজা মাংস নেবেন। আগে থেকে কেটে রাখা মাংস খাবেন না।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আবু হানিফ এ প্রসঙ্গে বলেন, ছোট-বড় সকলেই মুরগীর মাংস খেতে পছন্দ করেন। অন্য নানা ধরনের মাংসের চেয়ে এটি অনেক বেশি সহজপাচ্য ও সহজলভ্য বলে সবচেয়ে বেশি মুরগীর মাংসই খাওয়া হয়ে থাকে।

ফলে দেশে ফার্মের মুরগীর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এমনকি গ্রামেও পাওয়া যাচ্ছে। খুব সহজেই এই মাংস রান্না করা যায় ও শরীরের জন্যও বেশ উপকারী। তবে এতে নানা রোগ সংক্রমিত হতে পারে। এ ব্যাপারে মুরগির খামারি ও ক্রেতা সাধারণকে সচেতন হতে হবে।

মতামত