টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফিরছেন সের্ন্টমাটিনে আটকা পড়া পর্যটকরা

চট্টগ্রাম, ১১ মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):  জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সের্ন্টমাটিনে আটকা পড়া পর্যটকরা টেকনাফে ফিরছেন।

শনিবার দুপুর পর্যন্ত স্পিড বোট ও কাঠের ট্রলার নিয়ে অন্তত এক হাজার পর্যটক ফিরে এসেছেন।

তবে পর্যটকরা জানিয়েছেন, দ্বীপে আরো ৫০০ জন পর্যটক আটকে রয়েছেন।

সাগর উত্তাল থাকায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন দ্বীপ নৌ-পথে শুক্রবার ভোর থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দেড় হাজারের মতো পর্যটক আটকে পড়েন।

ফেরত আসা পর্যটকদের মধ্যে ঢাকার খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা নূর আলম বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্ত্রী-ছেলেকে সঙ্গে করে টেকনাফে ফেরত এসেছি। কারণ যেকোনোভাবে কাল আমাকে ঢাকায় পৌঁছতে হবে। কেননা আমি একজন সরকারি কর্মকর্তা।’

রাশেদ আলম নামে আরেক পর্যটক বলেন, ‘সেন্টমার্টিনে আসা যাওয়ার জন্য এক হাজার টাকায় টিকিট করে গিয়েছিলাম। কিন্তু এখন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জাহাজ চলাচল না করায় অবশেষে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় স্পিডবোট করে টেকনাফ ফিরেছি। কারণ ঢাকা ফিরে যাওয়া খুবই জরুরি। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও টেকনাফ ফিরতে হলো।’

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, সঞ্চারণশীল মেঘমালার জন্য সাগর উত্তাল থাকতে পারে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাগর ও নাফনদীতে মাছ শিকার ও পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এ সময় মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করেন তিনি।

পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদের ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম জানান, সাগর উত্তাল থাকায় শুক্রবার থেকে টেকনাফ-সের্ন্টমাটিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। সাগর স্বাভাবিক হয়ে গেলে সের্ন্টমাটিনে আটকা পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা হবে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, শনিবার সকাল থেকে আটটি স্পিডবোট ও ১০টি ট্রলারে করে পাচঁ শতাধিক পর্যটক টেকনাফে পৌঁছেছেন। শুক্রবার বিকেলে ফিরেছে প্রায় পাঁচ শতাধিক পর্যটক। দ্বীপে আরো পাঁচ শতাধিক পর্যটক থাকতে পারে। তাদের যাতে অসুবিধা না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, গত দুই দিন ধরে টেকনাফ-সের্ন্টমাটিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ ও ট্রলার বন্ধ থাকায় সের্ন্টমাটিনে বেড়াতে আসা পর্যটকরা আটকা পড়ে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শফিউল আলম বলেন, ঝুকিঁ নিয়ে না আসার জন্য নির্দেশ দেওয়ার পরও সের্ন্টমাটিনে আটকা পড়া পর্যটকরা ট্রলার নিয়ে টেকনাফে ফিরছেন। দ্বীপে আরো যেসব পর্যটক রয়েছে তাদের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী জানান, সেন্টমার্টিন থেকে পর্যটকরা ঝুঁকি নিয়ে ফিরছেন। কারণ তাদের ঢাকায় ফিরে যেতে হচ্ছে চাকরির জন্য। তারপরও ঝুঁকিপূর্ণ না যাওয়ার জন্য পর্যটকদের সার্বক্ষণিক সতর্ক করা হচ্ছে।

মতামত